প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্প বিকাশে জাপানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক তুলনা

মঞ্জুরে খোদা টরিক : বাংলা একাডেমির বইমেলার আকৃতি ও পরিধি বাড়ছে। বাড়ছে প্রকাশনার সংখ্যা ও বাণিজ্যের পরিমাণও। কিন্তু এই বৃদ্ধি-উন্নতি কি আসলেই আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি-জ্ঞান-বিজ্ঞান উন্নতির নির্দেশ- ইঙ্গিত করে? সাহিত্যের বিকাশ, মান, পাঠ, মনশীলতার প্রসার একটি আধুনিক, মানবিক, বিজ্ঞানমনস্ক, মুক্তচিন্তার যুক্তি ও সংবেদনশীল সমাজ গড়ে উঠার কথা, সে দিক থেকে আমরা কতোটা অগ্রসর হয়েছি? নাকি কথিত এই উন্নতির মোড়কে-আয়োজনে কৌশল আমাদের সৃজনশীলতা তার বিকাশ-প্রকাশ-বিস্তারকে সংকুচিত করা হয়েছে? গত বছর মেলায় বই বিক্রির পরিমাণ ছিলো ৭৮ কোটি টাকা। এবার মেলা কর্তৃপক্ষ এই বিক্রি ১০০ কোটি টাকা হবে আশা করছেন।

১৬ কোটি মানুষের দেশের সাহিত্যের এই বাণিজ্য কি যথেষ্ট? ফেব্রুয়ারির বইমেলাই হচ্ছে দেশের প্রকাশনা শিল্পের বাণিজ্যের প্রধান মৌসুম। বাংলাদেশের বাজেটের আকৃতি ও উন্নয়ন বরাদ্দ যেভাবে বাড়ছে সেখানে এ অঙ্ক খুবই নগণ্য। তাতেই সরকারের অনেক আত্মতৃপ্তি দেখছি। অথচ বাংলাদেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রজেক্ট পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলে সরকারের বরাদ্দ হাজার হাজার কোটি টাকা। একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতি ছাড়া তার উন্নতি-অগ্রগতি আশা করা যায় না। আত্মতৃপ্তি নয়, ভাবতে হবে প্রকাশনা শিল্পের বিকাশ, প্রকাশনা মানের উন্নয়ন, মানুষের পাঠাভ্যাস বাড়ানো ও এর ব্যাপক সৃজনশীল বাণিজ্যিক প্রসার ও পরিধি নিয়ে। এ প্রসঙ্গে আজকের উন্নত দেশগুলো কীভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত হয়েছে তার একটি উদাহরণ টানছি আমার ‘জাপানের উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা’ বই থেকে। উনবিশংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে জাপানে গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়। মেইজির পুনরুত্থানের অল্প সময়ের মধ্যেই ১৮৭২ সালে মৌলিক শিক্ষা আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় যে, ‘কোনো পরিবারে কোনো অশিক্ষিত সদস্য থাকবে না এবং সমাজে কোনো অশিক্ষিত পরিবার থাকবে না’।

সুতরাং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার এই ঘাটতি পূরণ করে জাপান অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করে। ১৯১০ সালের মধ্যে প্রায় সবাই শিক্ষিত হয়ে যায় অন্তত সব তরুণেরা স্কুলমুখী হয়েছিলো। শিক্ষার উন্নয়নে তারা কতোটা অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলো তা একটি উদাহরণ থেকে ধারণা পাওয়া যাবে। ১৯১৩ সালের মধ্যে জাপান থেকে প্রকাশিত বইয়ের পরিমাণ ছিলো ব্রিটেনের অধিক এবং আমেরিকার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণেরও অধিক বই প্রকাশিত হতো, যদিও সেই সময় জাপানের অর্থনীতি ছিলো ব্রিটেন-আমেরিকার চেয়ে অনেক দুর্বল। কিন্তু বৃহত্তর অর্থে শিক্ষার মূল গতি-প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যটাই নির্ধারিত ছিলো জাপানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি (অমর্ত্য সেন : ২০০৩)। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত