প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুবলীগের নেত্রীা যদি যৌনকর্মী হয়ে থাকেন, তবুও তাকে ওই কারণে সামাজিকভাবে হেনস্থা করা ঠিক না

 

ইমতিয়াজ মাহমুদ : যুবমহিলা লীগের এক নেত্রীকে তার বর আর দুইজন কথিত সহযোগী ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর প্রেস কনফারেন্স করেছে ওরা। প্রেস কনফারেন্সের রিপোর্টগুলো যেভাবে এসেছে খবরের কাগজে সেখানে দেখা যাচ্ছে যে ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নাই। ওর বরের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা কেউ বলতে পারেনি। ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওরা অনেক টাকা পয়সার মালিক, এইগুলো টাকাপয়সা কীভাবে ওরা আয় করেছে সেটার কোনো ব্যাখ্যা নাকি ওরা দিতে পারেনি। ওরা বড় ফাইভ স্টার হোটেলে দামি রুমে থাকতো, দামি মদ খেত ইত্যাদি। বলা হয়েছে যে পরবর্তী সময়ে ওদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এইগুলো নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। আইনগত টেকনিক্যালিটির প্রশ্ন তুলতে পারেন, সেগুলো বাদ দিলাম। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ থাকাটা একটা অপরাধ, সেজন্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আপনাকে ধরতে পারে, মামলা করতে পারে। যুবমহিলা লীগের নেতা নেত্রী একজন দুইজন এইরকম চমকে দেওয়ার মতো সম্পদ নিয়ে পুলিশের হাতে মাঝে মাঝে ধরা পড়বে সেটা আর এখন আমাদের কাছে বিস্ময়কর কিছু না।

এইসব মনে হয় আরও কিছুদিন চলবে, চলুক। এগুলো নিয়ে এখন না হয় কিছু নাই বা বললাম। কিন্তু এই যে মেয়েটার নামে ‘অনৈতিক কর্মকা-’ আর অন্য মেয়েদের দিয়ে ব্যাবসা করানোর অভিযোগ তুলে জোরেশোরে প্রোপাগান্ডা করা হচ্ছে এইটা বোধ হয় ঠিক হচ্ছে না। কেননা, দেখেন এই যে মেয়েটাকে এখন একরকম একটা মক্ষীরানী ধরনের বেশ্যা তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এইটা কি ঠিক হচ্ছে? পরবর্তী সময়ে যদি দেখা যায় যে এই মেয়েটা এইরকম কিছু করেনি, তাইলে কি ওর বিরুদ্ধে এই যে বাজে কালিমাটা আপনারা দিলেন, এটা ধুয়ে দিতে পারবেন? খবরের কাগজে মেয়েটার বয়স কোথাও লিখেছে ২৮ কোথাও লিখেছে ত্রিশ। ধরলাম তিরিশ বা তার এক দুই বছর কম বা বেশি। ওর সামনে তো বিশাল ভবিষ্যৎ পড়ে আছে। এই মেয়েটার যদি অস্ত্র মামলা বা দুর্নীতি মামলা এইসবে সাজাও হয়, তবুও তো ধরেন বছর দশেকের মধ্যে সে সাজা-টাজা খেঁটে বেরিয়ে যাবে।

বাকি জীবন তো মেয়েটাকে আপনাদের দেওয়া এই স্টিগমা নিয়েই বাঁচতে হবে। এটা কি ফেয়ার হচ্ছে? চট করে কাউকে এইরকম আজেবাজে স্টিগমা চাপিয়ে দেওয়া তো ন্যায় হচ্ছে না আর কি। এই যে আপনার চট করে ‘অনৈতিক কর্মকা-’ বলে ফেলেন, এটাও তো কোন কাজের কথা না। একটি দম্পতি হোটেলে বসে মদ খেলে সেটা কারো না কারো কাছে অনৈতিক মনে হতে পারে। নারী-পুরুষ একসাথে যদি গলাগলি বা লেপ্টালেপ্টি করে হোটেলে বা বারে নাচে সেটাও তো অনেকের কাছে অনৈতিক মনে হবে। কিন্তু এইগুলোর জন্য যদি পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে যান, তাহলে তো অসুবিধা। নৈতিক-অনৈতিক বিবেচনা সে তো আমার নিজের বিবেচনা। পুলিশ ঠিক করে দিবে কোনটা নৈতিক আর কোনটা অনৈতিক? তবে কি দেশে ‘নীতি পুলিশ’ চালু হয়ে গেলো? এইটুকু আমার বক্তব্য। একজন নারীকে চট করে স্ক্যান্ডালাইজ করবেন না।

এটা অন্যায়। তিনি যদি আসলেই যৌনকর্মী হয়ে থাকেন, তবুও তাকে ওই কারণে সামাজিকভাবে হেনস্থা করা ঠিক না। এটা অন্যায়। দুর্নীতি বা চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজি সেগুলো নিয়ে মামলা করেন, জেলে পুড়েন, সাজা দেন সেগুলো করেন। কেন করবেন না? করেন। কিন্তু ‘অনৈতিক’ বা ‘অসামাজিক’ কর্মকা-ের ইঙ্গিত দিয়ে স্ক্যান্ডালাইজ করবেন কেন? কী অনৈতিক কর্মকা- করেছেন এই নারীটা? পরপুরুষের সাথে শুয়েছে? টাকার জন্য? বিশেষ সুবিধার জন্য? সেটা যদি নিশ্চিত হয়ে থাকেন, তাহলে আগে সেই বীরপুরুষটাকে বা বীরপুরুষগুলোকে চিহ্নিত করেন, আমাদের সামনে ওদেরকে নিয়ে আসেন, ওদের সম্পর্কে এইরকম প্রেস কনফারেন্স করেন। পরে না হয় মেয়েটাকে বদনাম করবেন। জানেন তো, আমাদের আইনে এডাল্টারির জন্য নারীদের কোনো শাস্তি নাই, অপরাধ হয় পুরুষটার আর শাস্তিও হয় পুরুষটার। তাহলে ‘অনৈতিক কর্মকা-’ হলে আগে পুরুষটাকেই তো ধরবেন, নাকি? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত