প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরিশালে প্রভাত ফেরীতে জুতা পায়ে অংশগ্রহণের ছবি নিয়ে তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল: মহান ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবেস ভাষা শহীদদের স্মরনে জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রভাত ফেরীতে জুতা পায়ে অংশগ্রহণ করার ছবি রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও মৎস্য অফিসার।

জুতা পায়ে শীর্ষ কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জুতা পায়ে প্রভাত ফেরীর ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রদানের অন্যতম কারিগর শিক্ষকের রাজনৈতিক মতাদর্শন ও কর্মকান্ড নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বত্র বইছে সমালোচনার ঝড়। অপরদিকে গৌরনদীর এক প্রধানশিক্ষককের বিরুদ্ধে বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও প্রভাত ফেরীতে অংশগ্রহন না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক আইডিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সহকারী রমনী রঞ্জন বিশ্বাসের পোষ্ট করা ওই ছবিতে দেখা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের ব্যানারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রভাত ফেরীর সামনের সারিতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, নির্বাহী অফিসার চৌধুরী রওশন ইসলাম, সহকারী কমমিশনার (ভূমি) ফাতিমা আররিন তন্বি, সরকারী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সরদার আকবর আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবু তাহের মিয়া, শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক (অবঃ) লিয়াকত আলী হাওলাদার, মৎস্য কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার, সহকারী সমবায় কর্মকর্তা সৃজন সিপাহী, গৈলা ইউপি সংরক্ষিত সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সদস্য পবিত্র রানী বাড়ৈ, মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী এনায়েত সরদার, বিআরডিবি’র অফিস সহকারী নুর মোহম্মদসহ মুক্তিযোদ্ধাসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

ভাইরাল হওয়া ওই ছবির ব্যানার নিয়ে প্রথম সারিতে অবস্থান করা একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত ব্যতিত সামনের সারির সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের পায়েই জুতা পরিহিত দেখা যাচ্ছে। এসকল ছবি প্রশাসনের কর্মচারীরাই তুলেছেন এবং প্রশাসনের পাতায় পোষ্ট করার পর সর্বত্র ভাইরাল হওয়া ছবি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রবীণ ব্যক্তিরা বলেন, জামায়াত পন্থী হিসেবে আখ্যা পাওয়া অধ্যক্ষ আকবর আলী, উপজেলার তালিকাভুক্ত রাজাকার বজলু ফকিরের বোন মৎস্য কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার কিভাবে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো প্রভাত ফেরীতে অংশগ্রহণ করেছে। তাদের প্রশ্ন মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা কিভাবে জুতা পায়ে প্রশাসনের প্রভাত ফেরীতে অংশ করেছে। আক্ষেপ করে তারা বলেন, যারা বিষয়টি দেখবেন সেই প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাই ভাষা শহীদদের অবজ্ঞা আর অবহেলা করে চরম অন্যায় করেছেন। এজন্য তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ প্রফেসর আকবর আলী জুতা পায়ে প্রভাত ফেরীতে অংশ নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছিলেন। নিজের অসুস্থতার জন্য তাকে জুতা পায়ে প্রভাত ফেরীতে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছোট বেলা থেকেই ভাষা শহীদদের প্রতি তিনি নগ্ন পায়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছিলেন। অসুস্থতার জন্য প্রভাত ফেরীতে অংশ না নিলে সেটাও খারাপ দেখাত। অন্য কারো বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাংবাদিকদের বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা ছবিটি দিয়েছে তারা নষ্ট মন মানসিকতার। কারন উপজেলা পরিষদ থেকে প্রভাত ফেরী নিয়ে যখন সড়কে উঠেছি তখন সকলেই জুতা খুলে প্রভাত ফেরী শেষ করেছি। যারা প্রভাত ফেরী শুরুর আগ মুহুর্তের ছবি পোস্ট দিয়েছে তারা কাজটি ভাল করেননি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, জুতা পায়ে প্রভাত ফেরী করা শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা আর অবজ্ঞার শামিল। ইউএনও সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে জুতা পায়ে প্রভাত ফেরী শুরু করলেও তিনি নিষেধ করার পর ইউএনও জুতা খুলে ফেলেছিলেন। এদিকে সাংবাদিকরা ইউএনওর বক্তব্য নেয়ার পরেই উপজেলা প্রশাসনের আইডি থেকে জুতা পায়ে পোষ্ট করা ছবি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
প্রধানশিক্ষককের বিরুদ্ধে অভিযোগ  গৌরনদী উপজেলার বাকাই নিরঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক অখিল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক

মাতৃভাষা দিবসে পুস্পমাল্য অর্পণ ও প্রভাত ফেরীতে অংশগ্রহন না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ অপসারনের দাবিতে রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেন করেন বাকাই নিরঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেদীতে। অথচ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় আবাসস্থল থেকে প্রধানশিক্ষক অখিল চন্দ্র দাস বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণ বা সকালে প্রভাত ফেরীতে অংশগ্রহন করেননি। অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষক অখিল চন্দ্র দাস কোন সদূত্তর দিতে পারেননি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলম সেরনিয়াবাত বলেন, বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত