প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনুজদের কাছ থেকে এমন উপহার নিতে অপ্রস্তুত ছিলাম

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এসে মারধর এবং হেনেস্তার শিকার হয়েছেন প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের ভিপি (সহ-সভাপতি) কামাল উদ্দিন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে ফুলার রোডে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তাদের উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপরও চড়াও হয় কামালের অনুসারীরা। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস

মারধর এবং হেনেস্তার শিকার প্রাক্তন ওই দুই শিক্ষার্থীর নাম নুরহাদ ফারহানা ও রানা নাসের। এছাড়াও রানার ছোটভাই বাপ্পীও মারধরের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে শনিবার মুঠোফোনে রানা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ ঘটনায় আমি শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এবং রবিবার মামলা করবো।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আমি অবহিত নয়। তবে এ ব্যাপরে খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অপরাধ ঘটলে তা দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আছে, শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি গোচর হলে তারা প্রক্টরিয়াল টিমকে জানাবে। কারও গায়ে হাত তোলার অধিকার তো কারও নেই।

এদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রানা তার ফেসবুক একাউন্টে লিখেছেন, ‘অথচ আমি সব সময় কর্মস্থলে সবার সাথে গৌরব করি আমার বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে। ফুলার রোডে সন্ধ্যা বেলায় কিছু ছিনতাইকারী (অসাধু ছাত্র) আর এদের দৌরাত্ম্যের কথা আমি প্রায়ই শুনতাম বিশ্বাস করতাম না। যদি না আজ নিজে এই পরিস্থিতিতে না পড়তাম তাহলে হয়তো এক অন্ধ বিশ্বাস নিয়েই বহুকাল বেঁচে থাকতাম। আমি আমার ছাত্র জীবনে কি ছিলাম কেমন ছিলাম তা আমার সময়ের মনুষজন ভালই জানেন। একটা ছিনতাইকারী ছাত্রের ঘটনা সুরাহা করতে ঐতিহাসিক হল-সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভিপি ‘কামাল’ ৫০-৬০ জনের একটা মব নিয়ে আসে, তার সঙ্গে আমার কথা হচ্ছে। আমি অবশ্যই তার যথেষ্ট সিনিয়র অধিকার নিয়েই বললাম একদিন তুমিওতো পাশ করে বের হবে, ক্যাম্পাসে এসে এমন পরিস্থিতি কি তখন সহজে মেনে নিতে পারবা? এগুলি প্রশ্রয় দেওয়া উচিৎ হবে না, কথা চলছে এমন সময় ভিডিওগুলো মোবাইল থেকে ডিলিট করে দেয়ার প্রসঙ্গে পুরো গ্যাং তাদের ভিপি সহ আমাদের উপর হামলা করে। অথচ এই ফুলার রোডে আমার ফেলে আসা পুরো একটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, রেখে আসা অজস্র স্মৃতি। আমি প্রস্তুত ছিলাম না আমার অনুজদের কাছ থেকে এমন উপহার নিতে। ধন্যবাদ তোমাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগাছা মুক্ত হোক’।

জানা যায়, রানা নাসেরের ছোটভাই বাপ্পীকে চীনে পড়াশুনার জন্য পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে চীনে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত নুরহাদ ফারহানার দারস্থ হয় রানা। শুক্রবার রাতে রানা ও তার ভাইকে ফারহানা ফুলার রোডে আসতে বললে তারা সেখানে দেখা করতে আসে।

এসময় ফুলার রোডে ফারহানা ও বাপ্পীর মধ্যে আলাপচারিতা হয়। তখন রানা তাদের ওই জায়গায় বসিয়ে অন্য কাজে যায়। পরে ফারহানা ও বাপ্পীকে পেয়ে হেনাস্তা ও মারধর করে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে রানা নাসের ঘটনাস্থলে আসলে শিক্ষার্থীরা হলের ভেতরে পালিয়ে যায়। দৌঁড়ে পালানোর সময় এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ঘটনাস্থলে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই শিক্ষার্থী তার মোবাইল ফোন নিতে আসলে রানা তাকে ধরে ফেলে। এসময় উভয়ের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়।

এর কিছুপর ঘটনাস্থলে আসেন হল সাংসদের ভিপি কামাল। তিনি এসে জানতে চান, হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে কেন মারা হলো? পরে সবাইকে হলের ভেতরে নিয়ে যান ভিপি কামাল।

হলের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হলে রানা ও তার ভাইকে মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ফারহানাকে হেনস্তা করা হয়। এসময় তাদের উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাদের উপরও চড়াও হয় কামালের অনুসারীরা। পরে প্রক্টরিয়াল টিম তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী নুরহাত ফারহানা বলেন, আমি চায়নাতে পড়াশোনা করছি। ছুটিতে দেশে এসেছি। রানা নাসের আমার কাছের ছোট ভাই। তার ছোটভাই চায়নাতে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যেতে চায়। তাই সে এ বিষয়ে আমার কাছে জানতে চায়।

তিনি বলেন, গতকাল রাতে আমি ও রানার ছোট ভাই বাপ্পী ফুলার রোডে কথা বলছিলাম। এমন সময় কিছু শিক্ষার্থী আমাদের কাছে এসে বাপ্পিকে জিজ্ঞেস করে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিনা। বাপ্পি কিছু বুঝে উঠার আগে কিছু বলতে না বলতেই ওই শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে।

এ বিষয়ে রানা নাসের বলেন, আমার ছোট ভাইকে চায়নাতে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে চায়। তাই আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় আপুর দ্বারস্থ হয়। আপুর সঙ্গে দেখা করতে এসে আমরা মারধরের শিকার হয়েছি।

এ ঘটনায় এসএম হলের ভিপি কামাল উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার জন্য বারবার চেষ্টা করা হলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত