প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কে বেহেশতে যাবে আর কে দোজখে যাবে তা বিচার করার মালিক স্বয়ং আল্লাহ্

খুজিস্তা নূর ই নাহারিন

ইদানীং আমি ওয়াজ শুনতে পছন্দ করি। যখনই ফ্রি থাকি পুরো সময়টা ওয়াজ শুনে ব্যয় করি। একধরনের নেশা কাজ করে। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ,পরিশীলিত, জ্ঞানী করার চেষ্টা করি। জীবনাচরণের ভুলগুলো শোধরানোর চেষ্টা করি। ২০০৫ সালে হজ্বব্রত পালন করার পর জামাতে নামাজ আদায় ভীষণ প্রিয় হয়ে উঠে আমার। প্রতি শুক্রবারে কখনো বায়তুল মোকারম মসজিদে, কখনো হাইকোর্ট মাজারে দুই শিশুকে নিয়ে জামাতে জুমার নামাজ পড়তে যেতাম। উদ্দেশ্য নিজের সন্তানদের ইসলামী ভাবাদর্শে শিক্ষিত করে বড় করা। আমি বোরকা পরতাম আর আমার ৪-৫ বছরের কন্যাকে সালোয়ার কামিজ ওড়না পরাতাম, মাথায় ঘোমটা দিতো ছোট্ট মেয়েটি। প্রায় অনেক বছর ওখানে আমি নামাজ পড়েছি, মিলাদ পড়িয়েছি, মসজিদে এসি লাগিয়ে দিয়েছি। সীমিত সাধ্যে যা কিছু সম্ভব করার চেষ্টা করেছি।
একদিন এক হুজুর খুতবার সময় বয়ান করছিলেন, কেবল খারাপ নারীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, পর পুরুষের সঙ্গে কথা বলে, মেলামেশা করে। আমাদের প্রিয় নারী বিবি খাদিজা (রা.) বিধবা এবং ব্যবসায়ী ছিলেন, মসলার ব্যবসা করতেন। পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলা ছাড়া কী করে সম্ভব। পরপুরুষ-পরনারীদের সঙ্গে কর্কশ ভাষায় অর্থাৎ অভদ্র ব্যবহার না করলে পাপ হবে। তবে নারীরা কি করে সমাজে নিজেকে অধিষ্ঠিত করবে? আমাদের নারী প্রধানমন্ত্রী যদি সবার সঙ্গে কর্কশ ভাষায় কথা বলেন, দেশ চলবে কি করে? আমার শিশু কন্যা বাসায় ফিরে বললেন,‘আম্মু আমি আর স্কুলে যাবো না, আমার গুনাহ হবে আমি দোজখে যেতে চাই না’। আমিও চিন্তা করলাম কেমনে কি। আমি নিজেও তো বিশ্ববিদ্যালয়ের গ-ী পেরিয়েছি, পুরুষ ছাত্রদের সঙ্গে পড়েছি কথা বলেছি, ব্যবসার কাজে প্রতিদিন কতো শত পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। তাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত কলাম লিখছি, টেলিভিশনে কথা বলছি, নিয়মিত বুদ্ধি পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু আল্লাহ্রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘বিচার করার ক্ষমতা আমি কাউকে দিইনি’। কে বেহেশতে যাবে আর কে দোজখে যাবে তা বিচার করার মালিক স্বয়ং আল্লাহ্। মহান আল্লাহ্ আমার একমাত্র ভরসা। আমার গুনাহ হয়ে থাকলে একমাত্র তার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করবো, তিনি অন্তর্যামী, তিনি নিশ্চয়ই জানবেন, ‘আমার হৃদয়ে বিন্দুমাত্র মালিন্য ছিলো না’। সৃষ্টিকর্তার কাছে তাঁর সৃষ্টি কখনো অপ্রিয় হতে পারে না বলে দৃঢ় বিশ্বাস করি। আমার জীবনে ঘটমান সব বিপদে তিনি আমার পাশে ছিলেন একমাত্র তাঁর কাছেই আমি সর্বসময় সব কিছুতে সাহায্য প্রার্থনা করি, সবচেয়ে আপন জানি। কারণ তিনি আমার কাছে থাকেন, পাশে থাকেন অন্তরে থাকেন। আমি তাঁকে বিশ্বাস করি, তাঁর উপর আস্থা রাখি।
‘বিশ্ব নবী (সা.) বলেছেন কালো নারীরা বেহেশতে যেতে পারবে না। পরে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন এমনিতেই মজা করেছেন, আসলে যখন বেহেশতে যাবেন তখন এমনিতেই অনেক বেশি সুন্দর হয়ে যাবেন’। Ñবয়ানে আমার প্রিয় আজহারী হুজুর ।
তার মানে কি দাঁড়ায় কালো মানেই কুৎসিত আর অসুন্দর? আমি নিজেও তো কালো, কিন্তু বাবা-মা আর সন্তানদের ভীষণ প্রিয়। আমার ভাইবোন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠি, শেয়ারবাজারের লাখো বিনিয়োগকারীরও প্রিয়। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আমার জন্ম হয়েছে। আমি অসুন্দর হই কি করে? আমাদের হুজুররা যদি বয়ানের সময় কোরআনের কোন সূরা কোন আয়াত শানে নুযূলের উদ্ধৃতি পূর্বক ব্যাখ্যা দিতেন আমাদের বুঝতে সুবিধা হতো। মেনে নিতে পারতাম, ‘কালো মানেই অসুন্দর’। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত