প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাজাহানপুরে শিক্ষার্থীদের হাতে অবরুদ্ধ জেলা আ’লীগ সভাপতির স্ত্রী

আবদুল ওহাব শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুরে মালীপাড়া আরআর এম ইউ উচ্চ বিদ্যালয়ে জোর করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এসে প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের সাথে অসৌজন্য আচরণ করার জন্য শিক্ষার্থী এবং এলঅকার জনসাধারনের হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মজনুর ৩য় স্ত্রী শিল্পী বেগম।এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিল্পী বেগমের সাথে আসা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ শিল্পী বেগমকে উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারী দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-ছাত্রী ও স্থাীয়দের মাঝে অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জুয়েল জায়দার মৃত্যুতে শাহজাহানপুর উপজেলার মালিপাড়া আর এম ইউ উচ্চবিদ্যালয়ের কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবার জণ্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা তদবির চালিয়ে আসছেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মজিবর রহমান মজনুর ৩য় স্ত্রী শিল্পী বেগম ও তার লোকজন।

কিন্তু কোনভাবে তিনি যখন পেরে উঠছিলেননা তখন তিনি আঙুল বাঁকা করে সভাপতি হবার চেষ্টা করেণ। তারই ধারাবহিকতায় মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তিনি সেখানে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হাজির হন এবং প্রধান শিক্ষক সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করেন। এতে ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্খানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী ও লোকজন। এ সময় তারা বহিরাগত সন্ত্রাসীকে ঘেড়াও দিয়ে উত্তম মধ্যম দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে শাহজাহানপুর থানার এসআই রাম চন্দ্রের নের্তৃতে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জুয়েল জায়দার মারা যাওয়ায় পুনরায় সভাপতি নির্বাচন করার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক চলছিল। এমন সময় শিল্পী বেগম ২৫-৩০টি মটরসাইকেলের বহর নিয়ে এসে তাকে সভাপতি করার জন্য বলে। একপর্যায়ে কমিটির রেজুলেশন বই ছিনিয়ে নিয়ে যেতে ধরলে বাধা দেয়ায় গালিগালাজ করেন এবং তাকে শারীরিক ভাবে লান্ছিত করেন। এ সময় সেখানে থাকা মাদলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বারী মন্ডলকে লাঞ্চিত করা হয়।

এবিষয়ে মাদলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারী মন্ডল জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার জন্য বিদ্যালয়ের হলরুম ব্যবহারের অনুমতির জন্য প্রধান শিক্ষককের কাছে যান তিনি। তখন কমিটির সদস্যদের বৈঠক চলছিল। এমন সময় শিল্পী বেগম বহিরাগত দলবল নিয়ে এসে জোর করে সভাপতি হওয়ার জন্য রেজুলেশন বই ছিনিয়ে নেয় এবং প্রধান শিক্ষককে তুলে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিতে গেলে তাকে সহ একজন ছাত্রকে বহিরাগতরা মারপিট করতে থাকে। তখন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্দ হয়ে বহিরাগতদের গণধোলায় দেয়। এ সময় শিল্পী বেগম নিজেকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর পতিœ বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু আদৌ তিনি মজিবর রহমান মজনুর পত্নি কিনা তা জানা নাই।

এবিষয়ে শিল্পী বেগমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কিছুনা, ভুল বোঝাবুঝি। শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হাত থেকে ওই মহিলাকে উদ্ধার করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত