প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর বিহার-বঙ্গে ভুল রুখতে চায় বিজেপি

রাশিদ রিয়াজ : অমিত নিজেই দিল্লিতে তাঁদের ভরাডুবির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। যেমন, দিল্লি ভোটকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হয়নি। এবং ‘গোলি মারো’ গোছের স্লোগান তোলা ভুল হয়েছিল। সেগুলি প্রকাশ্যে জানাতেও দ্বিধা করেননি তিনি।

তাই দিল্লির ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলা-বিহারে আরও জোরদার ভাবে ঘর গোছাতে নেমে পড়ল বিজেপি। চলতি বছরের শেষে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। পরের বছর বাংলায়। দিল্লির ভুলগুলি চিহ্নিত করা এবং এই দুই রাজ্যকে সেইসব ভুল থেকে আগলে রাখাই এখন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বর লক্ষ্য। কারণ, মোদী-অমিতরা বিলক্ষণ জানেন, দিল্লির দশা বাংলা-বিহারে হলে কেন্দ্রের মসনদে তাঁদেরও গদি কেঁপে উঠবে।

অমিত নিজেই দিল্লিতে তাঁদের ভরাডুবির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। যেমন, দিল্লি ভোটকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হয়নি। এবং ‘গোলি মারো’ গোছের স্লোগান তোলা ভুল হয়েছিল। সেগুলি প্রকাশ্যে জানাতেও দ্বিধা করেননি তিনি। বিজেপির একাংশের ব্যাখ্যায়, দিল্লিতে নির্বাচনী বিপর্যয়ের ময়নাতদন্ত দ্রুত শুরু করতে চাইছিলেন অমিত। তাই রণকৌশলের প্রাথমিক দুটি ভুল নিজেই চিহ্নিত করে ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন।

তাঁর মনোভাবের আঁচ পেয়ে শুক্রবার তড়িঘড়ি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ জাভড়েকর, নিত্যানন্দ রাইরা দিল্লির প্রদেশ নেতাদের সঙ্গে হারের কারণ খুঁজতে বৈঠকে বসেন। মনোজ তিওয়ারি এবং শ্যাম জুজুর মতো প্রদেশ নেতারাও বৈঠকে হাজির ছিলেন। তলব করা হয়েছিল দিল্লির ভোটে পরাস্ত হওয়া ৬২ জন দলীয় প্রার্থীকে। কেন তাঁরা ভোটে হারলেন, তাদের নিজেদের কী মনে হচ্ছে? এ রকম নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর তাঁদের লিখিত ভাবে পার্টিকে দিতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এইসব উত্তরের উপর ভিত্তি করে রিপোর্ট তৈরি হবে। ভবিষ্যতে বাংলা-বিহারে রণনীতি তৈরির জন্য ওই রিপোর্টের উপর অনেকটা নির্ভর করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ৷

বঙ্গ-বিজেপি অবশ্য ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পার্টির একটি বড়সড় সাংগঠনিক ত্রুটি চিহ্নিত করে ফেলেছে। যেমন, দিল্লিতে ভোটের আগে প্রতি বুথ থেকে পাঁচজন কর্মীকে নিয়ে ‘পঞ্চ পরমেশ্বর’ নামে একটি কমিটি তৈরি হয়েছিল। অমিত নিজে তামাম দিল্লির ‘পঞ্চ পরমেশ্বর’দের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন একাধিক বার। কিন্তু ভোটের দিন দিল্লির বহু বুথে ওই ‘পরমেশ্বর’দের টিকিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার কলকাতায় রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সেখানে দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়রা ছাড়াও দলের জেলা সভাপতিরা ছিলেন। ‘পঞ্চ পরমেশ্বর’-এর কায়দায় এ রাজ্যেও বুথ কমিটি আছে বিজেপির। দলের একাংশের অভিযোগ, রাজ্যের বহু বুথেই বিজেপির কোনও কমিটি নেই। কিন্তু রাজ্য নেতৃত্বর কাছে ‘মুখ রক্ষার’ জন্য বুথ কমিটির তালিকায় ‘জল মেশানো’ হয়েছে অনেক জায়গায়। এমনকী, কোনও বুথ কমিটিতে চার-পাঁচজন সদস্যকে বাড়িয়ে দশ জনের কমিটি দেখানো হয়েছে হিসেবের খাতায়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিনের বৈঠকে দিলীপরা পইপই করে জেলার নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘দিল্লি প্রদেশের সাংগঠনিক ত্রুটি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আপনারা বুথ কমিটি নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবনা-চিন্তা করুন। আপনাদের জেলায় আদৌ কতগুলি বুথ কমিটির অস্তিত্ব আছে তা খতিয়ে দেখার জন্য এ বার সরাসরি দিল্লি থেকে নজরদারি চালানো হবে। আমাদের হাতে কিছু থাকবে না।’

শনিবারও রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক চলবে। জেলা সভাপতিদের সঙ্গে শনিবারের বৈঠকে ডাকা হয়েছে রাজ্যের দলীয় সাংসদ-বিধায়কদের। পুরভোটের রণকৌশল নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত