প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্মানকে সম্মানীর দ্বারা বিক্রি করলে সেটা আর সম্মানের থাকে না, শিক্ষকতা ও গবেষণা পেশায় কিছু কাজ আছে যা বিক্রয়যোগ্য নয়

কামরুল হাসান মামুন : সম্মানকে সম্মানীর দ্বারা বিক্রি করলে সেটা আর সম্মানের থাকে না। শিক্ষকতা ও গবেষণা পেশায় কিছু কাজ আছে যা বিক্রয়যোগ্য নয়। এ জন্যই এই পেশা সম্মানের। অনেকের আরাধ্যের। বেশ কিছুদিন আগে এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন বোর্ড মিটিংয়ে গিয়েছিলাম। মিটিং চলাকালীন সময়েই একজন একটি এনভেলপ নিয়ে হাজির। জিজ্ঞেস করলাম এটা কি? বললেন ‘স্যার সম্মানী’। আকাশ থেকে পড়লাম। ভাবলাম সম্মানকে টাকা দিয়ে কিনে ফেললে কী কাজটা আর সম্মানের থাকে? আমি অপারগতা জানাই। এতে বোর্ডের অন্য সদস্যরা বেশ মনঃকষ্ট পেয়েছেন বলে মনে হয়েছে। পরবর্তীতে বাসায় এসে এটি নিয়ে আরও চিন্তা করলাম। আসলে এ রকম পরিস্থিতে আমার যা করা উচিত ছিলো সেটা আমি করেছি। আমি ভাবছিলাম এই অপারগতার মাধ্যমে আমি কী আমার সহকর্মীদের লজ্জায় ফেলছি না? আসলে লজ্জাতেই ফেলা উচিত। এর পরেরবার আবার একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বোর্ডের মিটিং ডাকা হয়। আমি স্থির করেছিলাম যাবো না। তখন আরেক জ্বালা শুরু হলো। প্রার্থী নিজে ফোন করা শুরু করলো। সেটা ছিলো আরেক বিড়ন্বনা। সেইবার গিয়ে বাধ্য হয়ে এনভেলপ নিতে হয়েছিলো কারণ ওই বোর্ডে অন্য দু’জন সদস্য ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ এবং একজন আমার সরাসরি শিক্ষক। তাই ঠিক করেছি এখন থেকে যেখানে সিটিং মানির ব্যবস্থা সেখানে যাবো না কখনো। এ রকম নজির অন্যত্রও আমি রেখেছি। আসলে আমরা গোটা সিস্টেমটাকেই কলুষিত করে ফেলেছি।

শিক্ষকতা ও গবেষণা এমন একটি পেশা যেখানে অনেক কাজ করতে হয় বিনা পারিশ্রমিকে। যেমন ছাত্র সুপারভিশন, নিজ কোর্সের প্রশ্ন প্রণয়ন ও উত্তর মূল্যায়ন, সেমিনার বা কনফারেন্সে লেকচার দেওয়া, জার্নালে প্রকাশের জন্য আর্টিকেল রিভিউ করা ইত্যাদি। কিন্তু ইদানীং শুনছি এবং দেখছি এগুলোর জন্য সম্মানী বা টাকার ব্যবস্থা হচ্ছে। এই দেশের শিক্ষকদের আকালে রেখে এভাবেই তাদের চরিত্র হনন করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষকদের মাঝে আমি কোনো অহমবোধ দেখি না। আমরা এখন মিলাদ মাহফিলের হুজুরদের মতো বা সরকারি আমলা বা ব্যবসায়ীদের মতো হয়ে যাচ্ছি। সব কিছুকে টাকা দিয়ে মূল্যায়ন শিখে গেছি। শুনেছি হুজুররা নাকি ইদানীং প্রতি ওয়াজের জন্য অনেক টাকা পান। এটা নাকি এখন অনেকটা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আপনারা হুজুর। আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজ করেন। আপনার কাজের জন্য যদি সম্মানী নিয়ে ফেলেন সেই কাজের জন্য কী আল্লাহর কাছ থেকে আর কোনো সওয়াব আশা করতে পারেন? আজ থেকে ৩০ বছর আগেও শিক্ষকরা অনেক কিছু করেই টাকা নিতেন না। তবে দিন যেভাবে বদলাচ্ছে তাতে এমন দিন আসবে যখন শিক্ষকরা ক্লাসের বাইরে টাকা ছাড়া ছাত্রকে সময় দেবে না। আসলে ধীরে ধীরে এই সমাজটা নষ্টদের দখলে চলে গেছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো শিক্ষকরা এখন চরম ধান্দাবাজ হয়ে গেছেন। বর্তমান বাংলাদেশের চরম দুর্নীতি, নীতিহীনতা, অসততার মূল কারণ এখানেই। শিক্ষক যখন অসৎ ধান্দাবাজ হন তখন দেশে অসৎ আরও ধান্দাবাজের চাষাবাদ হয়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত