প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চীনের কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সংখ্যা ইউরোপ ও আমেরিকার চেয়ে বেশি, চীন কেবল সস্তা টি-শার্ট আর জিন্স উৎপাদন করে না, অগ্রসর প্রযুক্তিও তৈরি করে

খান আসাদ : চীন নিয়ে ইউরোপে মিথ ও মিথ্যাচার যেমন আছে, চীনের ‘উন্নতি’ নিয়েও মুগ্ধ বয়ান ছিলো ও আছে। সত্যটা মাঝামাঝি কোথাও। কান্ট, ভলটেয়ার, লিবনিৎজ তারা সবাই চীনের গুণমুগ্ধ ছিলেন। তাদের ভাষায় ‘মিডল কিংডম’ ইতিহাস ঐতিহ্যে মহান, সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এলাকা, দর্শন ও সাহিত্যে নমস্য। ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের বিকাশের ধারায়, উনিশ শতকেই ইউরোপীয় বয়ান বদলে যেতে থাকে : চীন একটি ‘পশ্চাৎপদ’ দেশ। পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের ঠা-া লড়াইয়ের কালে, চীনের প্রতি ইউরোপীয় র‌্যাডিকাল বামদের ও সাম্রাজ্যবাদী বুদ্ধিজীবীদের চিন্তা ছিলো দুই বিপরীত মেরুর। চীনের আকাশে লাল তারার অভ্যুদয়, ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়াশীলদের গাত্রদাহের কারণ ছিলো, ফলে চীনের নাম শুনলেই তাদের ‘দম বন্ধ’ হয়ে আসতো।

সম্প্রতি ১৯৯০ সালের পর, অনেকের ‘দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার’ অবস্থা হয়েছে। কেন সেই প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি। চীন নিয়ে এই দুই মেরুর অবস্থান কেন? কারণ চীন খুব দ্রুত ‘উন্নয়ন’ করছে অথবা চীনে একদম ‘মানবাধিকার’ নেই, এই দুই বাস্তবতার কারণে? না চীন সম্পর্কে এই দুই মেরুর মানুষদের ধারণা নিজেদের পক্ষপাতিত্বের চশমা দিয়ে দেখা। এই ধারণা যতোটা না চীন সম্পর্কে, তার চেয়ে এই মিথ, মিথ্যাচার বা মুগ্ধতা তৈরির লোকেদের মানসিকতা প্রকাশ করে মাত্র। যাদের ‘দম বন্ধ’ হয়ে যায়, তারা মনে করে চীনের মানুষ খুব খারাপ আছে। যাদের মুগ্ধতা, তারা মনে করে, চীনের ‘উন্নতি’ আরাধ্য। ঠিক যে, চীনা পার্টির নেতৃত্ব একাধারে জাতীয়তাবাদী অন্য ধারে দর্শনের দিক থেকে শ্রেণিবৈষম্য বিলোপ চাইলেও প্রচ- রকম প্রাগমেটিক। সে বিশ্ববাজারের সুবিধা নিতে চায়। ফলে পার্টি ক্ষমতা ও চীনের জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ হবে না, এটা নিশ্চিত হলে তারা তত্ত্বের ঘেরাটোপের বদলে বাস্তব অর্জনের দিকে গুরুত্ব দেয়। প্রয়োজনে ‘পুঁজিবাদের’ বাজারের সঙ্গে সমঝোতা করে।

চীনের যে উন্নয়ন, সেটা বাইরে থেকে যা মনে হয় খুব দক্ষ ও দ্রুতগতির, বাস্তবে এতোটা সরল নয়। চীনের ভেতরের ও বাইরের অনেক চাপ, সংকট, ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই চীন এগোচ্ছে। চীনা সমাজের সব দ্বন্দ্ব মীমাংসা হয়নি। চীন মানে অনেক মানুষ, নানা মতের। কিন্তু পার্টির প্রতি আস্থাশীল মানুষের সংখ্যা অনেক, কারণ এই পার্টি তাদের জীবনে পরিবর্তন এনে দিয়েছে, দিচ্ছে। ফলে ইন্টারনেটের ‘গণতন্ত্র’ জ্ঞান নিয়ে, যে চীনা তরুণ তর্ক করে, তাকে অন্য চীনারা খুব বেশি বাড়তে দেয় না। সঙ্গত কারণেই। সম্প্রতি ইউরোপে চীনের নাম শুনলেই ‘দম বন্ধ’ হওয়ার কারণ কিন্তু জটিল নয়। ১৯৭৮ সালের বাজার সংস্কার ইউরোপের জন্য ছিলো একটি সুযোগ, বাজার সম্প্রসারণের। মনে করা হয়েছিলো চীন একটি বহুক্রেতার দেশ, ফলে বিশাল বাজার যা থেকে ইউরোপ সুবিধা পাবে। কিন্তু হায়! ১৯৯০ দশকে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, চীন এখন প্রতিযোগী। চীনের কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সংখ্যা ইউরোপের (এবং আমেরিকার) চেয়ে বেশি। চীন কেবল সস্তা টি-শার্ট আর জিন্স উৎপাদন করে না, অগ্রসর প্রযুক্তিও তৈরি করে। ফলে চীন বাজার সম্প্রসারণের ‘সুযোগে’র বদলে নতুন ‘হুমকি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ‘জ্ঞান অর্জনের জন্য চীনে যাও’Ñ বচনটি পশ্চিমা বর্ণবাদী মহাপুরুষদের উপলব্দিতে আসায়, এদের ‘দম বন্ধ’ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। চীনের আয়নায় তারা নিজেদের মুখ দেখছে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত