প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উৎপাদনের সঙ্গে আমাদের মধ্যবিত্তের সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে?

জিয়া হাসান : উৎপাদনের সঙ্গে মধ্যবিত্তের সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। মাছ এবং চিংড়ি ছেড়ে, চাইনিজ ডিমান্ডের কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে কাঁকড়া চাষে উদ্যোগী হয়েছিলেন খুলনার চাষিরা। সিজনের শুরুতে করোনাভাইরাসের কারণে তাদের এই বছরের উৎপাদিত পণ্য চায়নাতে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে হাজার হাজার কাঁকড়া চাষি পথে বসবে। কারণ দেশের স্থানীয় বাজারে কাঁকড়ার কোনো চাহিদা নেই। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে জানি, পুরো এক সিজনের পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে এ সব উৎপাদকের জীবন-জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাওয়া। এই পণ্যগুলো বিক্রয় করতে না পারলে তাদের সন্তানদের না খেয়ে থাকতে হবে, স্কুল ছেড়ে দিতে হবে, মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিতে হবে। এই চাষিদের জীবনে এটা একটা ভয়াবহ দুর্যোগ। এই অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু প্রচারণা, স্থানীয় বাজারে সরবরাহের জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করার ব্যবস্থা করা হলে এই চাষিরা বেঁচে যেতো এবং আগামী বছর তারা নিজেদের চেষ্টাতেই উঠে দাঁড়াতো। বাংলাদেশকে যদি আমরা রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিয়ে থাকি তবে এতোটুকু মিনিমাম তাদের জন্য এই রাষ্ট্রের ও সমাজের করার প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু সেটা এ রাষ্ট্রের কর্তারা করবে না। তাদের মাথায় উদ্যোক্তা হিসেবে বায়বীয় কিছু ধারণা আছে। তাদের ধারণা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির পোলাপাইন শুধু উদ্যোক্তা হতে পারে। তাই আইডিয়াহীন বাস্তব জ্ঞানহীন বাজারের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু চান্স উদ্যোক্তাদের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে, উদ্যোক্তা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার নামে। কিন্তু রিয়েল উদ্যোক্তারা এতো বছর চেষ্টা করে যে বাজার এবং শিল্প তৈরি করেছে, একটি দুর্যোগের কারণে তাদের সেই শিল্প যখন ধ্বংসের মুখে তখন সামান্য কিছু বুদ্ধি, চেষ্টা এবং উদ্যোগ তাদের রক্ষা করতে পারে। কিন্তু এতোটুকু মিনিমাম সাপোর্ট দিতে তারা প্রস্তুত নয়। অথচ তাদের শ্রমের বিনিময়ে ফরেন কারেন্সি উপার্জনের মাধ্যমে দেশের বাড়তি রিজার্ভ তৈরির ক্রেডিট নিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। সামান্য কিছু উদ্যোগ এই চাষিদের বাঁচিয়ে দিতে পারে, কিন্তু করা হবে না। বাংলাদেশের আর রাষ্ট্র নেই এটা একটা ভাগাড় হয়ে গেছে। আমি এখনো আশা করবো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়ে কেউ কিছু একটা করার চেষ্টা করবেন এই চাষিদের জন্য। এখানে টুপাইস কামানোর সুযোগও আছে। সেটাও কারও জন্য মোটিভেশন হতে পারে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত