প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহাসড়কের উপর ঝুঁকিপূর্ণ বাজার, ইজারা দেয় স্থানীয় প্রশাসন, বাণিজ্য করে হাইওয়ে পুলিশ

আফজাল হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধি: বর্তমান সরকারের অন্যতম উন্নয়নের মাইলফলক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। রাজধানীর সাথে দ্রুততম যোগাযোগের লক্ষ্যে বিগত ২০১৬ সালে জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়। কিন্তু চারলেনের সুফল কেড়ে নিচ্ছে মহাসড়কে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা। এর মধ্যে অন্যতম মহাসড়কের লেন দখল করে বাজার গড়ে উঠা। এসব বাজারের ফলে অরক্ষিত মহাসড়কে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি,ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনাও।

গাজীপুর সড়ক জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চার লেনের ৩২ কিলোমিটার অংশ গাজীপুর সড়ক বিভাগের। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নীতসাধনে বিগত ১৯৬৭-১৯৬৮ সালে সরকার বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ হতে জমি অধিগ্রহন করে এই মহাসড়ক নির্মাণ করেন। এর পর থেকেই মহাসড়ক ও তার পাশে অধিগ্রহন করা ভূমি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন। ২০১৬সালে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরও উভয় পাশে বেশ কিছু জায়গা এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় আছে। হাইওয়ে এ্যাক্ট ১৯২৫ অনুযায়ী মহাসড়কের উভয় পাশে ১০ মিটার জায়গা খালি রাখার বিধান রয়েছে, সেখানে কোন স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা বা বাজার বসা সম্পূর্ণ অবৈধ। শুধুমাত্র যদি কারো প্রবেশ পথের প্রয়োজন হয় তাহলে সড়ক বিভাগ পবেশ পথের ইজারার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অথচ সড়ক ঘেঁষে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভাগের জায়গায় দীঘদিন ধরে ইজারা দিয়ে বাজার বসাচ্ছেন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কের লেন দখল করে বাজারের ফলে মহসড়ক প্রতিনিয়ত অনিরাপদ হয়ে উঠছে এই মহাসড়ক।

সরেজমিনে দেখা যায়,মহাসড়কের লেন দখল করে ও সড়কের অব্যবহৃত অংশে গাজীপুর সদরের পোড়াবাড়ী মাষ্টারবাড়ী, ভবানীপুর, বাঘেরবাজার শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাষ্টারবাড়ী,এমসি বাজার,নয়নপুর বাজার ও জৈনা বাজার বসে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। এসব বাজারের নানা ধরনের বর্জ্য অপসারন করা হয় মহাসড়কের পাশেই। এসব বাজারের ফলে বিভিন্ন যানবাহন ও চলাচলকারী লোকজনকেও পোহাতে হয় নানা ধরনের দুর্ভোগ।

এসব বাজারের ইজারাদারদের ভাষ্য, এসব বাজার বৈধ না অবৈধ এটা তাদের জানা নেই। তারা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এসব বাজারের অনুমতি পেয়েছেন। সংকীর্ণ জায়গায় বিপুল টাকা রাজস্ব দিয়ে তারা বাজার পরিচালনা করেন। বিকেল হলে বাজারের জায়গার অভাবেই মূলত সড়কের ্্উপর বাজার চলে আসে। এছাড়াও সড়কের উপর বাজার থাকায় প্রতিনিয়ত হাইওয়ে পুলিশকেও মাসোহারা দিতে হয়। অন্যথায় নানাভাবে হয়রানী করে তারা।

যদিও গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খান পুলিশের মাসোহারা নেয়ার কথা অস্বীকার করে জানান, টাকা নিলে পুলিশ মহাসড়ক থেকে বাজার সরিয়ে দিত না। আমরা প্রতি সপ্তাহেই মহাসড়কের নিরাপত্তার স্বার্থে বাজার উঠিয়ে দিচ্ছি,এধরনের অভিযান অব্যাহত আছে।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কের উপর এমসি বাজার ,নয়নপুর বাজার ও জৈনা বাজার ইজারা দিয়ে আসছেন শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আরেফিনের দাবি, অতীতের ধারাবাহিতায় বাজারগুলো ইজারা দেয়া হচ্ছে। তবে সড়কের পাশে বাজারের বিষয়টি নিয়ে ও সম্ভাব্য উপায় বের করতে আলোচনা চলছে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সাইফুদ্দিন জানান, বিধি অনুযায়ী মহাসড়কের পাশে ১০ মিটার জায়গা সম্পূর্ণ খালি রাখার বিধান রয়েছে। এসংক্রান্ত নির্দেশনা সংবলিত ফলক আমরা মহাসড়ক জুড়েই স্থাপন করেছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সমন্বয় না করেই বিধিভেঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ইজারা দিয়ে বাজার বসিয়ে মহাসড়ক অনিরাপদ করে তুলছেন। মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারন এসব বাজার। এধরনের কাজ সম্পূর্ণ অবৈধ, ভবিষ্যতে মহাসড়কের পাশে এসব বাজার যাতে বসতে না পারে ও স্থানীয় প্রশাসনও যাতে সড়কের জায়গায় বাজারের ইজারা দিতে না পারে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত