প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেসরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট চালুর নির্দেশ

আমাদের সময় : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার। দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ এখনো শনাক্ত না হলেও, সতর্কতা হিসেবে রাজধানীর উত্তরায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালসহ দেশের সব জেলা হাসপাতালে পাঁচ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এবার বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকেও আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনা সতর্কতা নিয়ে গতকাল বুধবার ব্যক্তিমালিকাধীন হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গতকালের বৈঠকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে কারোনা ভাইরাস আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হলেও

বাংলাদেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দেশে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরগুলোয় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্যানার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার পরও এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট রাখতে হবে। বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা প্রদানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশ দেন। হাসপাতাল ব্যবস্থাপকরা এ নির্দেশ মেনে আইসোলেশন ইউনিট খুলতে সম্মতি জানান।

জানা গেছে, বৈঠকে যেসব হাসপাতালে ১০-২০ শয্যাবিশিষ্ট সেখানে একটি, ৩০-৫০ শয্যার হাসপাতালে দুটি, ৫০-১০০ শয্যার হাসপাতালে পাঁচটি এবং বেশি শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে অন্তত ১০টি আইসোলেশন শয্যা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের দেশে কেউ কারোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। আশা করি কেউ হবে না। তবে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার প্রস্তুতি হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ইউনিট চালু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ কেউ করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চলে যেতে পারেন। ভাইরাস শনাক্তের আগে এ ধরনের রোগীকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। তাই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বন্দরগুলোয় বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আসা ১৩ হাজার ৫২১ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ তিনটি বিমানবন্দরে ৭৭১১ জন, স্থলবন্দরগুলোতে ৫৫৮০ জন, ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে ২৩০ জন এবং দুটি নৌবন্দরে ২৪১ জন রয়েছেন। গত ২১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত বন্দরগুলোতে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৩ জনের স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে একজনকে চিহ্নিত করা হয়। যদিও পরবর্তী সময় পরীক্ষায় তার শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য বলছে, প্রতিদিন মানুষ তাদের কাছে ফোন করে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ফোন করেছেন ৭৫ জন। আইইডিসিআরে এ পর্যন্ত ৫৯ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কারও শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত