প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৩৩ কোটি মানুষের দেশকে ১৬ কোটি মানুষের দেশ হারিয়ে দিলো সংখ্যা নয়, মানুষের মানই আসল

 

কামরুল হাসান মামুন: আমাদের যুবারা ভারতকে হারিয়ে ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো। ভাবা যায়? ১৩৩ কোটি মানুষের দেশকে ১৬ কোটি মানুষের দেশ হারিয়ে দিলো। সংখ্যা নয় মানুষের মানই আসল। ভারত ক্রিকেটের জায়ান্ট দেশ। এখন কথা হলো এই শরিফুল ইসলাম, অভিষেক দাস, আকবার আলী et al-যা করলো তা বিস্ময়। আনন্দ করবো ঠিক আছে। এবার আমাদের ভাবার বিষয়। আমরা কী তাদের ফ্লাট, বাড়ি, গাড়ি দিয়ে ভাসিয়ে spoil করে দেবো? বাংলাদেশে কিন্তু ন্যাচারাল ট্যালেন্টসের অভাব নেই সেটা কী খেলাধুলা কী পড়াশোনা উভয় ক্ষেত্রেই সত্য। আমাদের অনেকেই ছিলো যারা প্রতিভার ঝিলিক দেখিয়ে হারিয়ে গেছে। আমাদের আশরাফুল, সাকিবরা তো খেলা দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। তারপরও তারা তাদের আচার-আচরণ ও কথাবার্তায় কেন রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গাঙ্গুলী, সাঙ্গাকারাদের মতো হতে পারছে না। কেন অনেকেই মাঝপথে হারিয়ে যাচ্ছে? অভাবটা কোথায়? অভাব হলো তাদের প্রপার শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা। ভালো খেললে অনেক টাকা হবে অনেক সুনাম হবে। কিন্তু হঠাৎ করে এতো টাকা এতো সুনাম পেয়ে তারা খেই হারিয়ে ফেলে। বস্তুকে ধারণ করার জন্য যেমন পাত্র লাগে তেমনি হধসব ্ ভধসবকে ধারণ করার জন্যও পাত্র লাগে আর সেই পাত্র হলো জ্ঞান। জ্ঞান যতো বেশি হবে এ সবকে ধারণ করার পাত্র ততো বড় হবে।

আমার মেয়ে যেই স্কুলে পড়ে সেখানে একাদশ আর দাদ্বশ শ্রেণির ছাত্রদের একসময় মাঝে মাঝে ক্লাস নিতাম। ওখানে পড়িয়ে আমি খুব মজা পেতাম, কারণ মাঝে মাঝে এমন মেধাবী ছাত্র পেতাম যা কল্পনাতীত। কিন্তু এই প্রতিভাগুলো কেন যেন বেশিদূর এগোতে পারে না। এখানেই আমাদের ব্যর্থতা। আমাদের বিভাগেও প্রায় প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষায় একদম ১০০-র মধ্যে থাকা দুয়েকজন পদার্থবিজ্ঞানে স্বেচ্ছায় আনন্দের সঙ্গে ভর্তি হয়। তাদের প্রতি কী আমরা সুবিচার করতে পেরেছি? আমি নিজে দেখেছি তাদের অনেকেই একসময় হারিয়ে গেছে। এই ক্ষেত্রে কী বিভাগ তথা বিশ্ববিদ্যালয় দায়ী নয়? যেকোন ট্রান্সিশন হতে হয় smooth! Abrupt ev sudden ট্রান্সিশনে অনেক ক্ষতিকর কিছু ঘটে যেতে পারে। Smooth  ট্রান্সিশন যে কতো গুরুত্বপূর্ণ সেটা রাশিয়া এবং চীনের দিকে তাকালে কিছুটা আঁচ করা যায়। রাশিয়া সমাজতন্ত্র থেকে হঠাৎ সব খুলে দিয়েছে। চীন কিন্তু তা করেনি। এখান থেকে অনেক কিছু শিক্ষার আছে।

আমাদের অনেক ছেলেমেয়েরা ইন্টারমিডিয়েট পাস করেই বিদেশ যায়। আমাদের সংস্কৃতি থেকে পশ্চিমা দেশের সংস্কৃতি অনেক ভিন্ন। ওখানে গিয়ে দেখে যা ইচ্ছা তা করতে পারে। ছেলেমেয়ে একই বাসায় ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে। ইচ্ছা করলেই অ্যালকোহল খাওয়া যায়। ক্যাব চালালেই টাকা। খেই হারিয়ে ফেলে। আমাদের ১৮-২০ বছরের ছেলেমেয়েরা পশ্চিমা দেশের একই বয়সের ছেলেমেয়ে থেকে অনেক immature।

ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা। খেলা শুধু খেলা নয়। এখানেও জ্ঞান-বুদ্ধির প্রয়োজন। সমস্যা হলো এই যুবকরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে বা ন্যাশনাল টিমে আসে তখন তারা filthy রাজনীতির শিকার হয়। খেলাধুলা এবং শিক্ষালয় দুটোই এখন dirty politics-এর শিকার। সরকার যদি মনে করে তারা দেশকে ভালোবাসে, আমাদের আগামী প্রজন্মকে কেয়ার করে তাহলে তাদের উচিত খেলাধুলা ও পড়াশোনা থেকে রাজনীতি রোহিত করা। বিসিবির সভাপতি কেন সরকার দলীয় এমপি হতে হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের কেন শিক্ষক সিমিতির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হয়ে কতোটা রাজনৈতিক এক্টিভিস্ট প্রমাণ দিতে হবে? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত