প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রেলে নিয়োগ ২০০৪ সালে, যোগদান ২০১১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন : নিয়োগ ২০০৪ সালে, অথচ যোগদান করেছেন ২০১১ সালে— এমনই অদ্ভূত কাণ্ড ঘটেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে। রেলওয়ের বিধির তোয়াক্কা না করেই হালিশহর ট্রেনিং একাডেমিতে প্রধান সহকারী হিসেবে মেহেরুন আক্তার নামের একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেহেরুন আক্তার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ২০০৪ সালে অফার লেটার পান। নিয়োগের ৭ বছর পর ২০১১ সালে যোগদানের কোন নিয়ম না থাকলেও রেলওয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিশেষ উৎসাহে তিনি এ পদে বহাল হয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর রহস্যময় এই মেহেরুন আক্তারের ৭ বছর অনুপস্থিতির কারণ কেউ জানেন না। মেহেরুন আক্তারের নিয়োগ বিষয়ক কোন দাপ্তরিক তদন্তও হয়নি। গত ২৯ জানুয়ারি অনুসন্ধানে অডিট টিম এসেও মেহেরুন আক্তারের ফাইলটি পায়নি। এ নিয়েও রেলভবনে নানা গুঞ্জন রয়েছে।

ইএন্ডডি রুলসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, উচ্চমান সহকারী প্রধান অফিস সহকারী হতে হলে কমপক্ষে ৩ বছর অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। অবাক করার বিষয়, এক মাসের মধ্যেই মেহেরুন আক্তারকে প্রধান অফিস সহকারী পদে দায়িত্ব অর্পণ করে দপ্তর আদেশ স্বাক্ষর করিয়ে নেন ট্রেনিং অফিসার আবুল কাসেম। এর আগে কক্সবাজারে রেক্টর আনোয়ার হোসেন, আবুল কাসেম ও মেহেরুননেছার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

রেলওয়ে মহাপরিচালক (ডিজি) সামছুজ্জামানের কাছে নিয়োগের বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা মত দিয়েছেন, নিয়োগবিধি ইএন্ডডি রুলর্স ১৯৬১-এর বিধির কোন ধারা উপধারা মতে মেহেরুন আক্তারকে নিয়োগের বৈধতা পায় না।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ট্রেনিং অফিসার আবুল কাসেমের বিশেষ আশীর্বাদেই প্রথম স্থানে দেখানো হয় মেহেরুন আক্তারকে। এছাড়াও ভাইভা শিটে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী নম্বর পেতে এইচএসসি পাস মেহেরুন আক্তারকে এমএসসি পাস দেখানো হয়।

এমন অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগ করে রেলওয়ে অফিস স্টাফ মাহমুদা খানম মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। তদন্তের নির্দেশ এলেও সেটি না করে বরং মাহমুদাকেই অশোভন আচরণের অভিযোগ এনে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত