প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেট্রোরেল নির্মাণ কাজে অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তিতে নগরবাসী

তিমির চক্রবর্ত্তী: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত এবং চলমান মেগা প্রকল্পের মধ্যে মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬) নির্মান একটি। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কি:মি: দীর্ঘ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের জুনে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। তাই এর সুফল ভোগ করতে রাজধানী বাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আরো দেড় বছর।

কিন্ত মূল সড়কের মাঝ বরাবর সিংহভাগই ঘিরে রাখা হয়েছে মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের জন্য। অবশিষ্ট যেটুকু জায়গা আছে সেটুকু দিয়ে কোনোমতে শুধু একটি বাস চলাচল করতে পারে। ফলে প্রকল্প এলাকাজুড়ে যানযট-ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

এদিকে নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও ফুটপাতও বন্ধ করে দিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। আর যেখানে ফুটপাত খোলা সেখানেও দখল নিয়েছে হকাররা। এতে পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচলের সরু জায়গা দিয়েই চলাচল করছেন। মিরপুর থেকে মতিঝিল বা উত্তরা থেকে মতিঝিল সর্বত্রই এমন দৃশ্য। যেখানে গন্তব্যে পৌছাতে গাড়ীতে দশ মিনিট লাগার কথা সেখানে লাগছে এক ঘন্টা থেকে দের ঘন্টা।

নগরবাসী বলছেন, ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কগুলোতেই চলছে মেট্রোরেলের (ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি) কাজ। মেট্রোরেলের নির্মাণকে ঘিরে এ ধরনের দুর্ভোগ একটু সচেতন থাকলেই এড়ানো যেত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে তারা দুর্বল ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন। মেট্রোরেলের মতো এত প্রযুক্তিনির্ভর একটি প্রকল্পে এ ধরনের দুর্বলতা কাম্য নয় বলে মনে করেন তারা।

সরেজমিন দৈনিক বাংলা মোড় থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত দেখা যায়, রাস্তার দুইপাশ দিয়ে কোনোমতে একটি করে গাড়ি পাস হয়। পুরো এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। দৈনিক বাংলা মোড় থেকে বায়তুল মোকাররম হয়ে পল্টন পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছে হকাররা। ফলে পথচারীদের হাঁটার জায়গা নেই। সেক্ষেত্রে পথচারীদের হাঁটার জায়গা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সচিবালয় ও প্রেসক্লাবের উল্টাপাশের ফুটপাতও মেট্রোরেল ঘিরে রেখেছে। ফলে রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে।

কাওরান বাজারের আন্ডারপাসের মুখটি ছিল পার্শ্বরাস্তা ও মূল সড়কের মধ্যের ফুটপাতে। মেট্রোরেলের কারণে যান চলাচলের পথ সঙ্কুচিত হয়ে আসায় ফুটপাত ভেঙে পার্শ্বরাস্তাটি মূল রাস্তার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে একজন দুর্ঘটনায় মারাও গেছে। মেট্রোরেলের কাজে ফার্মগেট-মতিঝিল সড়কের অনেকগুলো স্থানে ফুটপাত এখন বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে। আবার খামারবাড়ীর কৃষি ইনিষ্টিটিউটরে সামনে ফার্মগেট যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে যানজট আরো তীব্র আকার ধারন করেছে।

তবে আসার কথা হলো, মেট্রোরেল চালু হলে নগরবাসী যানজট ছাড়াই খুব কম সময়ের মধ্যেই যাতায়াত করতে পারবে।

৫ ফেব্রুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, মেট্রোরেলের কাজ ইতিমধ্যেই ৪২% শেষ হয়েছে। উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে রেল পাত বসানের কাজও শুরু হয়েছে। তাই এখন থেকে খুব দ্রুত গতিতে চলবে কাজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত