প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবার ডাবল সেঞ্চুরির পথে পেঁয়াজ

সময়ের আলো : স্বস্তি আর এলো না পেঁয়াজে। টানা চার মাস দেশের মানুষকে ভুগিয়ে দিন দশেকের জন্য ১০০ টাকার নিচে নেমেছিল পেঁয়াজের কেজি। কিন্তু কয়েক দফায় দাম বেড়ে আবারও ডাবল সেঞ্চুরির পথে দেশি পেঁয়াজ। বাজারে এখন এক কেজি দেশি পেঁয়াজ বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে কোথাও ১৬০, কোথাও ১৮০ আবার কোথাও ১৯০ টাকা। আর আমদানিকৃত মোটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবারও সরবরাহ ঘাটতির কারণেই দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। অন্যদিকে চালের বাজারেও রয়েছে অস্থিরতা। গত দশ দিনে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আর খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া দুয়েকটি সবজি বাদে অধিকাংশের দাম ৫০ টাকার ওপরে। তবে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে সব ধরনের মাছের। মুরগি, ডিম ও সব ধরনের মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত রফতানি বন্ধ করায় পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। রেকর্ড ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় পৌঁছে যায় পেঁয়াজের কেজি। তবে দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কিছুটা কমে। নতুন পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকার মধ্যে চলে আসে।

কিন্তু ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে হঠাৎ করেই দেশি নতুন পেঁয়াজ কেজি ১৮০ টাকায় উঠে যায়। পরে কয়েক দফায় দাম কমে চলতি মাসের প্রথমদিকে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকায় নামে। প্রায় দুই সপ্তাহ স্থির থাকে পেঁয়াজের দাম। তবে শুক্রবার সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে এখন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়।
পেঁয়াজের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কবীর হোসেন বলেন, দাম বেশি হওয়ায় চাষিদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ের আগেই মুড়ি পেঁয়াজ তোলা শুরু করে। বাজারে মুড়ি পেঁয়াজের জোগান শেষের পথে। হালি পেঁয়াজ এখনও পুরোপুুরি ওঠেনি। এ কারণে বাজারে এখন পেঁয়াজের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে দাম কমার বদলে এখন পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। দেদারসে মুড়ি পেঁয়াজ তোলা না হলে এখন পেঁয়াজের দাম অনেক কম থাকত।

একই বাজারের আরেক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ে শুধু ক্রেতারা না আমরাও বেশ অস্বস্তিতে আছি। হঠাৎ হঠাৎ দাম বাড়ছে আবার কমছে। বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনে আমি দুই দফা ধরা খেয়েছি। হঠাৎ করে এখন আবার পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। বুঝতে পারছি না সামনে কি হবে?

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম আবার বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিরক্ত ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় সিন্ডিকেট চক্র এভাবে দাম বাড়াচ্ছে।

রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। আবার ভারতও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাহলে পেঁয়াজের কেজি কেন ১৮০ টাকা হবে। এটা কিছুতেই স্বাভাবিক না। এখন পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকার নিচে থাকা উচিত। মূলত বাজারে দায়িত্বশীলদের কোনো নজরদারি না থাকায় এভাবে দাম বাড়ছে।

কারওয়ান বাজারের আরেক ক্রেতা আব্দুল আওয়াল বলেন, এখন আস্তে আস্তে পেঁয়াজের দাম কমার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দাম কমার পরিবর্তে উল্টো বাড়ছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি ছিল ১০০ টাকা। এখন সেই পেঁয়াজের কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে। শুধু পেঁয়াজ নয়, সব ধরনের সবজির দামও চড়া। বাজারে গেলে কোনো কিছুর দাম স্বস্তি দিচ্ছে না।
কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শসার মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম বেড়ে এখন কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। আগের সপ্তাহের মতো বাজার ও মানভেদে পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা। দেশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও গাজরের। ভালো মানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ফুলকপি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি। মুলা পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকার মধ্যে। নতুন গোল আলু ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। মাঝারি আকারের প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়।
অন্যদিকে চালের বাজারে দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি চাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে। পাইকারি দামে নাজিরশাইল সিদ্ধ প্রতিবস্তা ২ হাজার ৬০০ টাকা, জিরাশাইল সিদ্ধ ২ হাজার ৩০০ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ ১ হাজার ৭০০ টাকা, স্বর্ণা সিদ্ধ ১ হাজার ৫০০ টাকা, মিনিকেট আতপ ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাটারিভোগ আতপ ২ হাজার ৬৫০ টাকা, দিনাজপুরী পাইজাম ১ হাজার ৭০০ টাকা, চিনিগুড়া চাল ৫ হাজার টাকা ও মোটা সিদ্ধ চাল ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। বাজারে প্রতি কেজি ভালো মানের মিনিকেট চাল ৫৫-৫৮ টাকা, নাজিরশাইল ৫৮-৬০ টাকা, নিম্নমানের মিনিকেট ৫০-৫২ টাকা, বি-আর ২৮ চাল ৪৪-৪৬ টাকা এবং মোটা চাল ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৪০ টাকায়। আর দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা হালি। মাংসের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকায়। পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। এ ছাড়া গরুর মাংস ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত