প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নতুন নতুন নামে রাজধানীতে চলছে এমএলএম কোম্পানির প্রতারণা

মাসুদ আলম : দুই দশক আগে বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে নানা কায়দায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বেশক’টি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানী। তাদের দেখাদেখি পরে একই ব্যবসায় এসে বেশি আলোচিত হয় ডেসটিনি-২০০০ লিঃ। অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে এমএলএম কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন হলেও কোনো কাজে আসছে না। কখনো ক্ষুদ্র ঋণ, কখনো কো-অপারেটিভ সোসাইটি বা কো-অপারেটিভ ব্যাংক, আবার কখনো মাল্টিপারপাস সোসাইটিসহ নতুন নতুন নামে প্রতারণা চলছে। চক্রটি বেকার ব্যক্তিদের টার্গেট করে থাকে। ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নেয় না। আবার কেউ মামলা অথবা জিডি করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল বলেন, প্রথম সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোথাও টাকা বিনোয়গের আগে যাচাই বাচাই করতে হবে। এসব মামলায় ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত পেতে র্দীঘসময় লাগে। ভুক্তভোগীরা যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে না পারে সেজন্য মানিং লন্ডারিং মামলা গুলো তদারকির জন্য ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিআইডিতে এমএলএম সংশ্লিষ্ট বর্তমানে ৮/১০টি মামলা তদন্ত চলছে।

প্রতারণার শিকার তুহিনুর রহমান বলেন, তিনি গাজীপুরে পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। পরিচিত একজনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের আশায় রাজধানী ভাটারা বারিধারা জে-ব্লকে উইমেক্স নামে একটি এমএলএম কোম্পনিতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি হন। তাকে বলা হয়েছিলো মাসে ১৬ হাজার আয় করতে পারবে। কিছুদিন প্রশিক্ষণের পর বলা হলো সদস্য সংগ্রহ করতে হবে, তানা হলে কোন টাকা উপার্জন হবে না। তারমতো শতশত ব্যক্তির টাকা নিয়ে পালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া একই এলাকায় এক্সসিলেন্ট ট্রেড মার্কেটিং নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, প্রথমে গ্রাহকদের টাকার বিনিময়ে সদস্য হতে হয়। টাকার বিপরীতে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য কিনতে হয়। এরপর প্রশিক্ষণে মূলত কীভাবে সদস্য সংগ্রহ করে কমিশন পাওয়া যাবে এবং কীভাবে মোটিভেট করতে হবে সে বিষয়ে শিক্ষানো হয়। সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে পয়েন্ট অর্জন করতে হয় আর পয়েন্ট অনুযায়ী কমিশনার দেয়া হয়। আবার টাকা বিনোয়গের মাধ্যমে এক বছরে দ্বিগুনের প্রলোভন দেখানো হতো। এমএলএম প্রতিষ্ঠানগুলো কোন স্থানে ৩/৬ মাসের বেশি স্থায়ী হয় না। একেক জায়গায় একেক নামে প্রতিষ্ঠান খুলে বসে তারা। চক্রটির সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত