প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামাতের প্রডাক্ট বলায় ড. মিজানুর রহমান আযহারির ফেসবুক স্ট্যাটাস

ইয়াসিন আরাফাত : বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত ইসলামি আলোচক ড. মিজানুর রহমান আযহারিকে সম্প্রতি জামাতের প্রোডাক্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ।  এর প্রেক্ষিতে নিজের কিছু কথা ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন আযহারি। নিচে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-

“আমি কোন দলের এজেন্ট বা প্রোডাক্ট নই।  আর কোন রাজনৈতিক দলের অর্থায়নে আমার শিক্ষা জীবনও কাটেনি।  মিথ্যাচার যেন এদেশে মহামারিতে রূপ নিয়েছে।  আর সেটা যখন প্রকাশ্যে, গণমাধ্যমে, দেশের কোন উচ্চ পদস্থ দায়িত্বশীলের মুখ থেকে প্রকাশ পায়, তখন আফসোস আর হেদায়েতের দোয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

নিজের চিন্তা আর মতের বিরুদ্ধে গেলেই এদেশে একটা সস্তা ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হয়।  আর সেটা হল “জামাত শিবির”।  এবার আপনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হোন অথবা মনেপ্রাণে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হোন।  দ্যাট ডাজেন্ট মেটার।  ভিন্নমতকে দমনের এই অপকৌশল পুরো জাতির ভাগ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

একজন দা’ঈ ইলাল্লাহর কোন দল নাই।  তিনি সকল দলের, সকল মানুষের।  তাদেরকে দলীয়করণ না করে ব্যাপক ভাবে দ্বীনের খেদমতের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।  দেশের সব দলের মানুষ যেন তাদের দ্বারা আলোকিত হতে পারে সেটার পরিবেশ থাকা উচিত।

আমি সরকার বিরোধী নই।  আমি অন্যায় বিরোধী।  তাই, কোন অন্যায় দেখলে সে ব্যাপারে কথা বলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।  এবার সে অন্যায় যেই করুক না কেন, যে দলই হোক না কেন।

ব্যক্তিগতভাবে, এদেশের রাজনীতিতে আমার কোন ইন্টারেস্ট নেই।  স্যোশাল এক্টিভিটি ও দা’ওয়াহ এক্টিভিটি এ দুটি কাজই হল আমার আগ্রহের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

আমার মিশন হল এদেশে ইসলামের মধ্যমপন্থার সৌন্দর্যকে প্রমোট করা।  যেটাকে আরবীতে বলে আল-ওয়াসাতিয়্যাহ।  জীবন যাপনে ভারসাম্য, চিন্তায় ভারসাম্য, কাজে ভারসাম্য, এবং আচরণে ভারসাম্যপূর্ণ মুসলিম তৈরী করা।

ভিন্ন মতের ব্যাপারে আমি বরাবরের মতই শ্রদ্ধাশীল।  সকল মুসলমানকে আপন ভাইয়ের মত শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি।  তাদের নাজাতের জন্যে মন ভরে দোয়া করি।  কারো পিছু লেগে থাকা, কাদা ছোড়াছুড়ি করা এবং কোন মুসলিম ভাইয়ের ব্যাপারে অন্তরে হিংসা পুষে রাখা পছন্দ করি না।  কারণ ইসলাম আমাকে এটা শিখায়নি।  আর প্রিয় নবীর আদর্শও এমনটি নয়।

আমি চাই বিভিন্ন ঘরনার আলেমরা সহনশীলতার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা করুক।  তাদের উদারতার প্রভাব পরুক দেশের সকল শ্রেনীর মানুষের মাঝে।  সংকীর্নতা আর হীনমন্যতা পরিহার করে, দ্বীনের সকল দ্বায়ীরা কুরআন সুন্নাহর সুধা বিলাতে থাকুক পুরো দেশ জুড়ে, পুরো পৃথিবী জুড়ে।”

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত