প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জেরুজালেম বিক্রির জন্যে নয় বললেন মাহমুদ আব্বাস, ট্রাম্পের ‘ডিল অব দি সেঞ্চুরি’ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

রাশিদ রিয়াজ : ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বলেছেন, আপনার ষড়যন্ত্রমূলক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি চুক্তি পাস হবে না। ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে এটির স্থান হবে। ফিলিস্তিনিরা এ চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করবে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি হাজার বার বলেছি, এ পরিকল্পনা মানি না, মানি না, মানি না।” তবে ট্রাম্পে এ পরিকল্পনা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইনসহ আরো কিছু আরব দেশ সমর্থন করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গর্ব করে এ দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক এ পরিকল্পনাকে শতাব্দীর সেরা চুক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন ফিলিস্তিনের পক্ষে জেরুজালেম ছাড়া কোনো রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়া সম্ভব নয়। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প একপেশে এই আপোষ প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পুর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হলেও পুরাতন জেরুজালেমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি যেখানে অগণিত ফিলিস্তিনি বাস করছে। মসজিদুল আকসা পড়েছে ইসরাইলের ভাগে। পরিকল্পনায় ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরের অধিকাংশ ফিলিস্তিনি ভূমিকে ইসরায়েলের বলে মেনে নেয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের এ শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার সময় তার পাশেই উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এবং সেখানে ফিলিস্তিনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এ ব্যাপারে টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কথা বলতে চাইলে তাতে সাড়া দেননি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

এদিকে ট্রাম্পের এ শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বিশে^ তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এটিকে ‘রেসিপি অব ওয়ার’ বলেও অভিহিত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ ডেমোক্রেটরা একে শান্তি চুক্তি নয় বরং চুরি বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, এ পরিকল্পনা এক পক্ষীয় এবং তা ইসরায়েলের পক্ষেই গিয়েছে। যা শান্তির বিরুদ্ধে কাজ করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি স্যান্ডার্স উভয়েই ট্রাম্পের এ শান্তি চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্য এ পরিকল্পনাকে একতরফা অভিহিত করে এর নিন্দা করেছেন। এ পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনের জন্যে আকাশপথ ও জলপথের কোনো সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয়নি।

সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, যে কোনো চুক্তি গ্রহণযোগ্য করতে হলে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবাবলী মেনেই তা করতে হয়। ট্রাম্প তা করেননি। এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেছেন ট্রাম্পে শান্তি পরিকল্পনা একটি রাবার স্ট্যাম্প ও ফিলিস্তিনকে কখনোই সত্যিকারের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না। ফিলিস্তিদের ছাড়া এধরনের পরিকল্পনা কূটনীতির কোনো অংশ হতে পারে না।

ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেছেন এটি বরং শান্তি বিরোধী পরিকল্পনা। প্রগ্রেসিভ ককাসের কো-চেয়ার প্রমিলা জয়পাল বলেছেন ট্রাম্পের এ চুক্তিতে ফিলিস্তিনের কণ্ঠস্বরকে রোধ কিংবা আলোচনা থেকে বাদ দেয়া হলে তাকে শান্তি পরিকল্পনা বলা অযৌক্তিক।
কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব এটি রাজনৈতিক ধাপ্পাবাজী এবং কংগ্রেসের একজন সদস্য হিসেবে ট্রাম্পের এ পলিকল্পনা কোনো কাজে আসবেন না বলেই মনে করি।

ট্রাম্পের এ পলিকল্পনা প্রকাশের পর এর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করেছে। ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’কে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ‘শতাব্দির সেরা বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিক করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর আমেরিকার পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেয়া এই লজ্জাজনক শান্তি পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে বাধ্য। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, আমেরিকার উপস্থাপিত কথিত শান্তি চুক্তি ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন।

এই পরিকল্পনায় বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদেরকে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া, জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট অংশ ও গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি দুর্বল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত