প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশজুড়ে ফসল ভালো হয়েছে এবার, তবে দামে হতাশ কৃষক

মাজহারুল ইসলাম : ভর্তুকির কল্যাণে এ বছর শুধু চাল বা ধান নয়, উৎপাদন বেড়েছে বিভিন্ন প্রকার ডাল, তেলবীজসহ আম, নারিকেল, ভুট্টার। এছাড়াও চাষ করা হচ্ছে নতুন নতুন জাতের ফসল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভর্তুকি দেয়ার পাশাপাশি সরকারের নজরদারি ও কৃষিবিদদের গবেষণা এই সফলতা অর্জনে ভূমিকা রেখেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, উৎপাদন বাড়লেও পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক। বাম্পার ফলন হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূক্তভোগী কৃষকরা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সার, সেচ কাজে ডিজেল বরাদ্দ, বিদ্যুৎ ও কৃষি উপকরণ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়। এর মধ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য ভর্তুকিবাবদ অর্থ রাখা হয় ৩ হাজার কোটি টাকা। বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের উৎপাদন খরচ কমাতে সেচকাজে ডিজেল ব্যবহারে দেড়শ কোটি টাকা ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে এ পর্যন্ত ৯৬০ কোটি ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে ৮৬ লাখ ৪০ হাজার ৪৪ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এরমধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩৩ কোটি ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দানাদার (ধান, চাল, গম, ভুট্টা ইত্যাদি) খাদ্যশস্যের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪১৫ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টনের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মোট ৪৩২ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন। ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ। চাল ছাড়াও ভুট্টা উৎপাদন বেড়েছে। গত অর্থবছরে সবজি উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার টন, যা বিশ্বে তৃতীয়। আলু উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম বাংলাদেশ। গত অর্থবছর দেশে আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ মেট্রিক টন। আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ৫৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮০২ মেট্রিক টন নারিকেল, তাল, খেজুর ও সুপারি চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়েছে। মাল্টা, রামবুতান, ড্রাগন প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের অপ্রচলিত ও বিদেশি ফল চাষে উৎসাহ প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

ময়মনসিংহ সদর রহমতপুর এলাকার কৃষকরা জানান, ফলন ভালো হয়েছে। তবে ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। রোপা আমন মৌসুমে এক একর জমিতে ধান আবাদ করতে খরচ হয়েছিলো ২৪ হাজার টাকা। ধান পেয়েছিলাম ৩২ মণ। প্রতি মণ ধান সাড়ে ৬০০ টাকা করে বিক্রি করে পেয়েছি ২০ হাজার ৮০০ টাকা। উৎপাদন খরচ তো ওঠেনি উল্টো লোকসান গুনতে হয়েছে ৩২০০ টাকা। বোররচর চররাঘবপুর গ্রামের একজন কৃষক জানান, শীতের সবজি করলা চাষ করে লাভবান হয়েছি। কিন্তু ঘন কুয়াশায় আলু গাছ মরে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

পিরোজপুরের নাজিরপুরের কলার দোয়ানিয়ার একজন কৃষক জানান, সবজি উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে দাম পাইনি। উৎপাদন বেশি হওয়ায় চাহিদা কমে গেছে বিধায় দাম পাচ্ছি না। জয়পুরহাটের একজন কৃষক জানিয়েছেন, এলাকার অনেকেই বিভিন্ন প্রকার ফল আবাদ করছেন। কিন্তু সংরক্ষণ, মজুতও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা না থাকায় তা পচে যাচ্ছে। ফলে ভর্তুকির টাকায় উৎপাদন বাড়িয়েও কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন না। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত