প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোলাসহ গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রমের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর

শাহীন চৌধুরী: দেশের সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্র ভোলাসহ গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য পেট্রোবাংলা এবং বাপেক্সের সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম। মঙ্গলবার পেট্রাবাংলার বোর্ডরুমে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পেট্রোবাংলার পক্ষে সচিব সৈয়দ আশরাফুজ্জামান এবং গ্যাজপ্রমের পক্ষে ভিটালি মার্কেলভ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অপর চুক্তিতে বাপেক্সের পক্ষে মোহাম্মদ আলী এবং গ্যাজপ্রমের পক্ষে সার্গেই তুসলভ সাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, মুজিব বর্ষে এটি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই মসঝোতা স্বাক্ষরের মাধ্যমে গ্যাজপ্রম উপকুলের গ্যাসফিল্ড উন্নয়ন, কুপ খনন, পাইপলাইন নির্মাণসহ জ্বালানি সম্পদের উন্নয়নে ব্যাপক ভূূমিকা রাখতে পারবে। তিনি বলেন, গ্যাজপ্রম পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি, তাদের এক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। পেট্রোবংালার সঙ্গে তারা যৌথ ভাবে কাজ করে দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

গ্যাজপ্রম এদেশে বিনিয়োগ করবে কিনা বা যৌথ বিনিয়োগে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এখনতো শুধু সমঝোতা হয়েছে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এসব বিষয় আরও পরিস্কার হবে। ভোলার বাপেক্সের প্রকল্পের ভেতরেই তারা কাজ করবে নাকি ওই এলাকার বাইরে কাজ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোলা গ্যাস ফিল্ড আরও সম্প্রসারিত হবে। যৌথ ভাবেই তারা কাজ করবে।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত শিল্প কারখানায় জ্বালানি সরবরাহ করা এ কারণেই দ্রুত এক্সপ্লোরেশন দরকার। আর এই কাজ গ্যাজপ্রম করতে পারবে। বাপক্সের কাজে কেন ভাগ দেয়া হচ্ছে এই প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমরা বাপেক্সেকে যতটা শক্তিশালী করেছি অতীতে কেউ তা করেনি। সুতরাং বাপেক্সের কাজে কোন ভাগ দেয়া হচ্ছে না বরং বাপেক্স গ্যাজপ্রম যৌথ ভাবেই কাজগুলো করবে। অনুষ্ঠানে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুল ফাত্তাহ এবং আরএমএম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়ও উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে রাশিয়া সফরে গিয়ে রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধানে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। এই প্রেক্ষিতে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় সংস্থা গ্যাজপ্রম প্রাথমিক ভাবে বাংলাদেশে টার্ন-কি চুক্তির ভিত্তিতে বাপেক্স, বিজিএফসিএল এবং এসজিএফএল-এর আওতাভুক্ত এলাকার ১০টি কুপ খনন করে। এর ধারাবাহিকতায় শ্রীকাইল-৪ এব্ং ভোলার শাহবাজপুর ইস্ট-১ ও ভোলা নর্থ-১ নামে দুটি কুপ খনন করে।

পরবর্তীতে ভোলা জেলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র ভোলা নর্থ আবিস্কৃত হলে ওই ফিল্ডের উন্নয়নে আরও ৩টি মূল্যায়ন কুপ খনননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এজন্য ১-৬-১৭ তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। তারই ধারাবাহিতকায় নতুন দুটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হলো।
উল্লেখ্য, বর্তমানে স্থলভাগ থেকে দৈনিক ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস উত্তোলন করা হয়। অথচ দেশের মোট গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার মিলিয়ন ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে ঘাটতি থাকছে এক হাজার মিলিয়ন মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতি পূরণের জন্যই আমদানি করা হচ্ছে এলএনজি। ভোলা থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে এলএনজি নির্ভরতা কিছুটা কলেও কমবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত