প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাশ্মীরের আরওয়ানিতে খতম হিজবুল জঙ্গি, গুলিবিদ্ধ সেনা অফিসার

রাশিদ রিয়াজ : ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে এদিন আরওয়ানি গ্রামে পুলিশের সঙ্গে যৌথ ভাবে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সুরক্ষা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা গুলি চালালে, পালটা গুলি ছোড়ে বাহিনী। দু-পক্ষের তুমুল সংঘর্ষে নিহত হয় হিজবুলের এক জঙ্গি। এনকাউন্টার চলাকালীন এক সেনা অফিসারও ঘায়েল হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ ওই সেনা অফিসারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেনার তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে এদিন আরওয়ানি গ্রামে পুলিশের সঙ্গে যৌথ ভাবে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সুরক্ষা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা গুলি চালালে, পালটা গুলি ছোড়ে বাহিনী। দু-পক্ষের তুমুল সংঘর্ষে নিহত হয় হিজবুলের এক জঙ্গি।

জানা গিয়েছে, নিহত জঙ্গির নাম শাহিদ খার। বাড়ি কাশ্মীরের কুলগমে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা-সহ একাধিক জঙ্গি কর্মকাণ্ডে পুলিশের খাতায় সে ছিল ওয়ান্টেড। ঘটনাস্থল আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। চারপাশে আর কোনও হিজবুল জঙ্গি রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে, ওই অঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চলছে।

গত ২৮ দিনে এনকাউন্টারে কাশ্মীরে ১৬ জঙ্গিকে নিকেশ করেছে যৌথ বাহিনী। একই মেয়াদে কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৯ জঙ্গিকে।

গত ২৫ জানুয়ারি, শনিবার, ৭১ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিনই শীর্ষ জইশ জঙ্গিকে নিকেশ করে কাশ্মীরে বড়সড় নাশকতার প্রচেষ্টা রুখে দেয় ভারতীয় সুরক্ষা বাহিনী। অবন্তীপোরায় ত্রালে গুলিতে নিহত হয় জইশের শীর্ষ কম্যান্ডার কারি ইয়াসির। তার দুই সঙ্গীকেও ওইদিন নিকেশ করা হয়েছে। তাদের একজন আবার পাকিস্তানের নাগরিক, নাম মুসা। অপর জঙ্গি বুরহান শেখ। ত্রালেই তার বাড়ি।

শনিসন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেজেএস ধিলন ও কাশ্মীরের ইনস্পেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ বিজয় কুমার জানান, রবিবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কাশ্মীরে বড় হামলার ছক কষেছিল জইশ। তা রূপায়ণের আগেই শীর্ষ কম্যান্ডার-সহ তিন জইশ জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, ইয়াসির কাশ্মীরে জইশে মোহাম্মদের স্বঘোষিত প্রধান। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মীরে আইইডি বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড ছিল জইশের এই শীর্ষ কম্যান্ডার। লেথপোরায় আরও একটি আইইডি বিস্ফোরণেও তার যোগ ছিল। কাশ্মীর পুলিশের দাবি, নিহত ইয়াসির ছিল আইইড বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। পাকিস্তান থেকে আসা জইশ জঙ্গিদের যাবতীয় বিষয়ে খেয়াল রাখা, তাদের নিয়োগের দায়িত্বও ছিল এই জইশ কম্যান্ডারের হাতে।

গত সপ্তাহেই নিগীন লেক এলাকা থেকে জইশের ৫ জঙ্গিকে পাকড়াও করে শ্রীনগর পুলিশ। পুলিশের ধারণা, নিহত বুরহান হয় নিজেই সুইসাইড বোম্বার ছিল, নয়তো সে ছিল আত্মঘাতী হামলার মাস্টারমাইন্ড। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কী করে হামলা চালানো হবে, সেই ছক সে-ই কষেছিল।

আইজিপি বিজয় কুমার জানান, ইয়াসির ও মুসা দু-জনেই পাক নাগরিক। তবে, বুরহান স্থানীয় জঙ্গি। তিনি জানান, ইদানীং শ্রীনগরে প্রায়শই আইইডি হামলা হচ্ছিল। সেই সূত্রে বারবার উঠে আসছিল বুরহান ও ইয়াসিরের নাম। জানা গিয়েছে, নিহত বুরহান ছিল ইয়াসিরের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত