প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিএনজি চালানোর আড়ালে ছিনতাই-কিলিং গ্রুপ, ৮ জনকে হত্যা, ৬শ’ ছিনতাই

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : গত ১০ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারি রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইওভারে পাওয়া গেছে চারটি লাশ। প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের ধরন একই রকম। সবাইকে গলায় গামছা বা মাফলার পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর আক্তার হোসেন নামের এক স্বর্ণকারকে হত্যার পর লাশ ফেলে রাখা হয় কুড়িল ফ্লাইওভারে। ৩১ ডিসেম্বর খিলক্ষেত ফ্লাইওভারে ওঠার পথের ডানপাশে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। ৩ জানুয়ারি কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ফ্লাইওভারে মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। সর্বশেষ ৬ জানুয়ারি মগবাজার ফ্লাইওভারের ওপরে সোনারগাঁও প্রান্তে রেলক্রসিং বরাবর মিজানুর রহমানের লাশ পাওয়া যায়। সবক’টি হত্যার সঙ্গে একই চক্র জড়িত। সিএনজিতে যাত্রী হিসেবে উঠিয়ে ছিনতাইয়ে বাঁধা দেওয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে।

গত ২৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টায় টঙ্গী এলাকা থেকে নুরুল ইসলাম এবং ২৫ জানুয়ারি গাজীপুরা ও তুরাগ এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ বাবু ও জালালকে গ্রেপ্তার করার পর এসব তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল ইসলাম জানিয়েছে, সে ৫-৬ মাস ধরে প্রায় ৬০০ ছিনতাই করেছে। তার সহযোগী ৫-৬ জন আছে যারা প্রায় ৩-৪ বছর ধরে ছিনতাই করছে। রাত ৮ টায় বের হয়ে সূর্যোদয় পর্যন্ত কমপক্ষে একটি থেকে সর্বোচ্চ ছয়টি পর্যন্ত ছিনতাই করার রেকর্ড আছে তাদের।

ঢাকার বাইরে গত দুই মাসে তারা আরও চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে নুরুল জানিয়েছে। এছাড়া ছিনতাইয়ের পর অজ্ঞান বা অর্ধমৃত অবস্থায় ৩০-৪০ জন যাত্রীকে বিভিন্ন ফ্লাইওভার বা নির্জন অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে সিএনজি থেকে ফেলে দিয়েছে তারা। এদের মধ্যে ৮-১০ জন বাস-ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে বলেও জানা গেছে।

নুরুল ইসলাম মূলত সিএনজি চালক। সিএনজি চালানোর আড়ালে তার মূল পেশা ছিনতাই। নুরুল আরো আটজন মিলে তারা গড়ে তুলেছে সিএনজি কেন্দ্রীক দুটি ভয়ংকর ছিনতাই ও কিলিং গ্রুপ। রাত আটটার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত আশুলিয়া, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা, গুলশান, ভাটারা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, রামপুরা, ৩০০ ফিট, মিরপুর, যাত্রাবাড়ি, সাইনবোর্ড এলাকায় চলতো তাদের অপকর্ম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত