প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩ হাজার বছর আগের মমির ‘কণ্ঠস্বর’

যুগান্তর : শোনা যাচ্ছে কণ্ঠস্বর। তাও আবার ৩ হাজার বছর আগে মৃত্যু হয়েছে যার। তিনি এক মিসরীয় ধর্মযাজক। মমি করে সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল তার দেহ। আর সেই দেহ থেকেই বেরিয়ে এল কণ্ঠস্বর। না, কোনো ভয় দেখানো আষাঢ়ে গল্প নয়, আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে সত্যি করা হয়েছে সেই অসম্ভবকে।

ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের আমলে ধর্মযাজক ছিলেন এ ব্যক্তি। নাম নেসিয়ামাম। তার মৃতদেহ এত সুন্দরভাবে সংরক্ষিত ছিল যে তার কণ্ঠের খুঁটিনাটি স্ক্যান করেই তা দেখতে পান বিজ্ঞানীরা। থ্রি ডি প্রিন্ট করে বের করে আনেন গলার ভেতরটা আসলে কেমন।

লিডস মিউজিয়ামে রাখা ছিল ওই যাজকের মৃতদেহ। ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের গবেষকরা এ বিষয়ে গবেষণা করছেন। ভোকাল ট্র্যাক্টের খুঁটিনাটি উঠে এসেছে বিজ্ঞানীদের হাতে। তার স্বরযন্ত্র কেমন ছিল, সেটার একটা কপি তৈরি করা হয়েছে।

আধুনিক মানুষের তুলনায় তার স্বরযন্ত্রটি অপেক্ষাকৃত ছোট। ফলে, তার কণ্ঠস্বর হাই পিচের ছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা। প্রাচীন মিসরের লোকদের উচ্চতাও আধুনিক মানুষের তুলনায় কম হতো। এ স্বরযন্ত্র ও ভোকাল ট্র্যাক্ট পরীক্ষা করেই তৈরি করা সম্ভব হয়েছে ওই মৃত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর। আপাতত শুধু একটা স্বর বের করা গেছে। কিন্তু আগামী দু’বছরের মধ্যে একটা সম্পূর্ণ বাক্য তৈরি করাও সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞানীদের আশা, এ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত খুলে গেছে। আগামীদিনে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর তুলে আনা সম্ভব হবে। সফট টিস্যু সংরক্ষণ করা গেলে, এ পদ্ধতি আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অফ ইয়র্কের অধ্যাপক জোয়ান ফ্লেচার বলেন, অবশেষে এ গবেষণা সফল হয়েছে। এ যেন মৃত মানুষকে জীবন্ত করে তোলা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত