প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বয়াতিরা সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য কখনো হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়নি, অনতি বিলম্বে শরীয়ত সরকারের মুক্তি চাই

 

মুঈরাদ ছিদ্দিকী : শরীয়ত বয়াতির গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংসদ পর্যন্ত না গড়ালে এখানেই স্থিত হয়ে যেতো। তার গ্রেপ্তার শাহবাগী এবং না-শাহবাগী উভয়কে আলোড়িত করেছে। এমনকি কোনো কোনো প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন তার মুক্তির দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা ও রাজপথে নেমেছে। মুক্তি দাবিতে সরব ছিলেন দেশের অনেক খ্যাতনামা ডান-বাম চেতনার বুদ্ধিজীবী। মুক্তি দাবিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সচেতন একটা অংশকে জাগ্রত করতে পারা শরীয়ত সরকারের বড় ধরনের কামালিয়তী। কিছু দিন পূর্বে মাজারের ওরসে শরীয়ত সরকারের দেয়া ভিডিওটি যারা দেখেছেন, সেটি যদি নির্মোহ দৃষ্টিতে বিচার করা হয় তাহলে তার গ্রেপ্তার এবং মুক্তি, কোনোটাই প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না। কারণ বয়াতিরা ইসলামের যে মরমী ধারাকে জিইয়ে রেখেছেন সেটা নিয়েই তারা থাকুক, যেভাবে আবহমানকাল থেকে তারা তাদের সংস্কৃতি পালন করে আসছে। যদিওবা ইসলামের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে তাদের পালিত সংস্কৃতির ব্যাপক বৈসাদৃশ্য রয়েছে, তারা আগে মারফতে পৌঁছায়, পরে শরীয়ত খুঁজে।
ইসলামের ব্যাপ্তি যেহেতু অনেক বড়, তাতে প্রাচীনকাল থেকে অসংখ্য ফেরকার প্রচলন আছে, তাই বয়াতিরাও যদি তাদের মূল ধারার দাবি করে, সেই দাবি নস্যাৎ করার শক্তি কারও নেই। তাছাড়া বয়াতিরা সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য কখনো হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হননি। কিন্তু যেটা সমস্যা হিসেবে জাতির সামনে উপস্থিত হয়েছে সেটা হলো বয়াতির মতো একজন শরয়ী অনভিজ্ঞ ব্যক্তি যখন ধর্মের মূল কনসেপ্টকে অস্বীকার করে উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। শরীয়ত বয়াতি যদি ধর্মের কাঠামোগত শিক্ষার চিন্তাশীল স্কলার হতেন, হতেন জ্ঞানরাজ্যে বিচরণ করা প্রগাঢ় ভাবুক কিংবা প্রাত্যক্ষিক অভিজ্ঞতায় মশহুর কোনো ঋষী, তাহলে তার চ্যালেঞ্জ অব্যর্থ আঘাত হানতো। কিন্তু তিনি যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তা মোকাবেলা করার হিম্মত প্রচলিত মোল্লা-মৌলবিদের থাকায়, সেই চ্যালেঞ্জের আর তেমন কোনো সারবত্তা নেই। অনতি বিলম্বে শরীয়ত সরকারের মুক্তি চাই। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত