প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার মৌলিক স্তম্ভগুলো একের পর এক ভেঙে ফেলা হচ্ছে

লিটন নন্দী : প্রথম থেকে ৮ম গ্রেড পর্যন্ত সব কোটা বাতিল করে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গৃহীত সিদ্ধান্তটি প্রতিক্রিয়াশীল এবং আধিপত্যবাদী। আন্দোলন হয়েছিলো কোটা ব্যবস্থার যুগোপযোগী সংস্কারের, বাতিলের নয়। একটি দেশের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা, দেশটির জনসংখ্যার মূলধারা থেকে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এবং সামাজিক পার্থক্যসহ নানা বিষয় পর্যালোচনা করে কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজের অনগ্রসর, দলিত, দরিদ্র বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসী জনগণের জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। দরিদ্রপীড়িত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কোটা প্রবর্তনের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রক্তক্ষয়ী লড়াই পর্যন্ত হয়েছে। পূর্বতন ব্যবস্থায় নারী কোটা ছিলো ১০ শতাংশ এবং আদিবাসী কোটা ছিলো ৫ শতাংশ। এই ব্যবস্থা রহিত করে আমরা নাকি চাকরিতে সবার সমানাধিকার (!) নিশ্চিত করেছি। অথচ প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ১৯ শতাংশ। ৭৮ জন সচিবের মধ্যে নারী মাত্র ৯ জন। ৬৪ জন জেলা প্রশাসকের মধ্যে নারী মাত্র ৮ জন। গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি উচ্চপদে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত হ্রাস পাবে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক। সরকারি উচ্চপদে বা নীতিনির্ধারণী পদে আদিবাসীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এই রাষ্ট্র আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাটুকু পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারে না।

সরকারি উচ্চপদে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তটি সংখ্যালঘুর উপর সংখ্যাগুরুর অনিষ্ট সাধনের মত্ততা ছাড়া কিছুই নয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে অনগ্রসরের উপর অগ্রসরের আধিপত্য, নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য ও আদিবাসীর উপর বাঙালির আধিপত্যের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হলো। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়Ñ এমন একটি সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারির পর সব মহল নিশ্চুপ নিশ্চল। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা চুপ, নারী অধিকার কর্মীরা চুপ এমনকি বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোও চুপ। কেন এই নীরবতা তা আমার বোধগম্য নয়। চারপাশের প্রতিক্রিয়াশীল পপুলিস্ট স্রোতে আমরা সবাই মনে হচ্ছে পাল তুলেছি। অথচ বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার মৌলিক স্তম্ভগুলোকে একের পর এক ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত