প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ডর’ থেকে ‘আজাদী’ চায় দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ

 

কাকন রেজা : দিল্লি জামিয়ার এক ছাত্রীর কথা শুনছিলাম। একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন তিনি। যে রিপোর্টার তার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তার অবস্থা ছিলো দেখার মতো। কোনোভাবেই তিনি বাগে আনতে পারছিলেন না ছাত্রীটিকে। উল্টো প্রশ্নে তার অবস্থাই হচ্ছিলো লেজেগোবরে। ওই ছাত্রীটির একটি কথা থেকে আমার নিজের চিন্তাও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিলো, ভারতজুড়ে উঠা ‘আজাদী’র স্লোগান বিষয়ে। শুধু ভারত নয়, এমন অবস্থা যে সব দেশে, যেখানে বাকস্বাধীনতা পর্যুদস্ত, বেঁচে থাকতে হয় মাথা নিচু করে, জুলুম সইতে হয় চোখ বুঁজে। সেখানের মানুষ একটা বিষয়েই ‘আজাদী’ চায়, আর সেই ছাত্রীর ভাষায় সেটা হলো ‘ডর’। হ্যাঁ সবাই মূলত এই ‘ডর’ থেকে মুক্তি চায়। ‘আজাদী’ এই ‘ডরে’র প্রশ্নেই। দক্ষিণ এশিয়ার শাসন ব্যবস্থায় যেভাবে ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, শাসকরা যেভাবে ‘ডর’কে তাদের ক্ষমতায় থাকার অবলম্বন বানাচ্ছেন তার ব্যাকফায়ার হচ্ছে ভারতে উঠা ‘আজাদী’র স্লোগান। ‘লড়কে লেঙ্গে আজাদী’। একটি স্বাধীন দেশের মানুষ যখন এমন স্লোগান দেয়, তখন নিশ্চিত বোঝা যায়, ভূখ- স্বাধীন হলেও সে দেশের মানুষ পরাধীন। আর পরাধীন মানুষের জন্য স্বাধীন ভূখ- কোনো অর্থ বহন করে না। সেই ছাত্রীটির নিজ ভাষাতেই এর ব্যাখ্যাটা বলি, ‘আভি আগার মেরে মা-বাপকা কল আয়া আর ম্যায় উনকো বলু ম্যায় প্রটেস্ট মে হু উনকো জান খতম হনেকো নায়া। ইস ওয়াক্ত সবকো পাতা হ্যায় যো লোক বাহার নিকাল কে বাত কর রাহা হ্যায়, দিস ইজ সুইসাইড’। দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থা এমনটাই, মন খুলে কথা বলাটা এখানে, ‘দিস ইজ সুইসাইড’।

আচ্ছা মানুষকে কথা বলতে দিলে লোকসানটা কী। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে সবাই প্রাণ খুলে তাদের কথা বলতে পারে। খোদ আমেরিকায় ট্রাম্পকে যা-তা বলা হচ্ছে, তাকে নিয়ে যা-তা কার্টুন হচ্ছে, কই আমেরিকা তো দেশ হিসেবে পিছিয়ে যাচ্ছে না। একটা প্রতিবাদে দেখলাম, ট্রাম্পের বিশাল রবারের মূর্তির পশ্চাৎদেশ খোলা, মানুষ তাতে লাথি মারছে। অথচ ট্রাম্পের দলের কোনো লোকজন দা-চাপাতি-বন্দুক নিয়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে না। মিলিয়ে দেখুন তো দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে এই অবস্থাটা। নিজেই ‘ডরে’ চমকে উঠবেন। বলবেন, ‘দিস ইজ সুইসাইড’। অনেক উন্নত দেশেই মন্ত্রীদের জন্য সরকারি গাড়ি নেই। শুধু রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের জন্য রয়েছে গাড়ি। দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে মেলান তো, এখানের মন্ত্রীদের গাড়ির বহরের সঙ্গে তুলনা করলে কী মনে হয়। মনে হয় না কি, একটা গরিব বা উন্নয়নশীল দেশের জন্য ‘দিস ইজ সুইসাইড’। হ্যাঁ দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনীতির নামে যা হচ্ছে সেটা তাই। ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রয়াসে, ক্ষমতার মোহে যে এক্সট্রিম পন্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, ‘দিস ইজ সুইসাইড’। শুধু সাধারণ মানুষের জন্য নয়, সার্বিক রাজনীতির জন্যও ‘দিস ইজ সুইসাইড’। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি আজ রাজনীতিকদের আহরিত বিষেই ‘আত্মঘাতী’ হতে যাচ্ছে। আজাদ তথা স্বাধীন দেশে স্লোগান উঠছে ‘লড়কে লেঙ্গে আজাদী’। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত