প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে প্রশ্নের উত্তর আজও পাইনি

 

কবীর চৌধুরী তন্ময় : আমরা দুজন একসঙ্গে লেখাপড়া করেছি। সেই ছোট্ট ক্লাস ওয়ান থেকে। ফাইভ পর্যন্ত ছেলেদের ক্যাপ্টেন আমি আর সে মেয়েদের ক্যাপ্টেন। এটাই স্কুলের নিয়ম ছিলো। রোলও বরাবরের মতো আমার এক আর তার দুই। চক-ডাস্টার দিয়ে ব্লাকবোর্ডে আমিই বেশি লিখেছি। আবার আমাদের হেড মিস্ট্রেস আমাকে প্রচ- আদর করতেন। তিনি ক্লাসে এসেই বলতেন, আমি বসে থাকবো আর তোমাদের ক্যাপ্টেন তোমাদের অঙ্ক শেখাবে। ব্যস। আমিই বরাবরের মতো সেদিনও ক্লাসে অঙ্ক শেখাচ্ছি। হঠাৎ হেড মিসেস ছাত্রীদের ক্যাপ্টেনকে বললেন, তুমি যে অঙ্কটা বুঝেছো এবার আমাকেসহ সবাইকে বুঝিয়ে দাও। কিন্তু সেদিন অঙ্কটা আমাদের কাউকে বোঝাতে না পেরে সে কি কান্না। আমি স্কুলে সবচেয়ে বেশি মার্ক পেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অন্য একটি বয়েজ স্কুলে ভর্তি হই। সেও বরাবরের মতো আমার পরের মার্ক পেয়ে গার্লস স্কুলে ভর্তি হলেও আমরা একই পাড়ায় থাকতাম। সকাল-বিকাল বা সন্ধ্যায় দেখা হতো। প্রতিদিন কোনো না কোনো সময় আমার বাসায় সে আসতো নয়তো আমিই তার বাসায় চলে যেতাম। খাবারও খেতাম প্রায় এক প্লেটে। কলেজ জীবন শুরু। ঝগড়া, মান-অভিমান আর কথা কাটাকাটিতে অনেকটা সময় গড়িয়ে গেলো। আমি ইউনির্ভাসিটিতে। সন্ধ্যায় সে তার এক কাজিনের বাচ্চাদের পড়াতো। আমি মাঝে মাঝে সেখানে চা খেতে চলে যেতাম। অনেক বকবক করতাম। তার কাজিনও নানা ধরনের খাবার বানাতো। আবার কখনো কখনো বাড়িতে আসার সময় দুই মিনিট দুজনে একসঙ্গে হেঁটে আসতাম। বেশ কিছুদিন ধরে সে আমাকে দেখলেই কান্নাকাটি করে। নীরবে চোখের জল গড়িয়ে পড়ে। আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে এড়িয়ে যায়। শুধু কান্না। আমি ব্যক্তিগতভাবে চোখের জলে অন্য রকম হয়ে পড়ি। আমারও চোখে জল চলে আসে। ভয়ে আর কাজিনের বাসায় যেতে পারি না। কারণ সে নীরবে কাঁদতেই থাকে। আমি সহ্য করতে পারি না। কিন্তু কী হয়েছেÑএটিও আমাকে বলছে না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত