প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় পার্টিতে সাদ এরশাদের পদ নিয়ে তার মা ও চাচার পাল্টা-পাল্টি ঘোষণা

শাহীন খন্দকার : এরশাদের মৃত্যুর পর তাঁর শূন্য আসন (রংপুর-৩) উপ-নির্বাচনে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন সাদ এরশাদ। নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে এমপি হন।এরপর হঠাৎ করেই গত ১৫ জানুয়ারি তাকে দলের কো-চেয়ারম্যান মনোনীত করেন তাঁর মা পার্টির চিফ প্যাট্রন রওশন এরশাদ।

এর দুদিন পর, শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি), তাকে পার্টির যুগ্ম মহাসচিব পদে পদায়ন করেন তার চাচা ও দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি।

গত ২৮ ডিসেম্বর জাপার নবম জাতীয় সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তার চাচা জিএম কাদের। আর মা রওশন এরশাদকে করা হয় ‘চিফ প্যাট্রন’। জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ৭ জনকে কে-চেয়ারম্যান করেছেন এবং ৮ জনকে অতিরিক্ত মহাসচিব ও ৩৭ জনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করলেও সাদ এরশাদকে কোনও পদ দেননি। অনেকের মতে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ জানুয়ারি সাদকে কো-চেয়ারম্যান করে অন্য ১৬ জনকে দলের বিভিন্ন পদে পদায়ন করেন রওশন এরশাদ।

এদিকে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের দেওয়া ১৬ জনের পদায়নকে অনৈতিক বলে অভিযোগ করেছেন জিএম কাদের। সাদ এরশাদকে দলের কো-চেয়ারম্যান করে রওশন এরশাদেরর ঘোষণার ৩ দিন পর শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের তার ক্ষমতাবলে ৮ জন উপদেষ্টা, ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৪ জন যুগ্ম মহাসচিবের নাম ঘোষণা করেন। নতুন ঘোষিত এ যুগ্ম মহাসচিবের তালিকায় রয়েছে সাদ এরশাদের নাম।

ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে, রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ পার্টির কো-চেয়ারম্যান, নাকি যুগ্ম মহাসচিব ? এ বিষয়ে জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তিনি ফোন ধরেননি। পার্টির চিফ প্যাট্রন রওশন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি তার এক স্টাফ ধরেন। রওশন এরশাদ ব্যস্ত আছেন বলে জানান।

এদিকে জাতীয় পার্টি নেতা সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে সাদ এরশাদের পদবি যুগ্ম মহাসচিব। তিনি আগেও এই পদে ছিলেন।’ সাদকে জাপার কো-চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদের ঘোষণা প্রসঙ্গে সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘পার্টিতে পদ দেওয়ার ক্ষমতা শুধু চেয়ারম্যানের। অন্য কেউ পদ দিতে পারবেন না। সুতরাং রওশন এরশাদ কাউকে পদ দিলেও সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে না।’

রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত, নাম প্রকাশে অইচ্ছুক জাপার একাধিক নেতা জানান, রওশন এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তাদের মতে, নামে চিফ প্যাট্রন হলেও আসলে তিনিই চেয়ারম্যান।

জিএম কাদেরপন্থিদের মতে, চিফ প্যাট্রন হিসাবে তিনি চেয়ারম্যানের কাছে তার পছন্দের নামগুলোর জন্য সুপারিশ করতে পারতেন। দলের গঠনতন্ত্রে চিফ প্যাট্রনের ক্ষমতা কী জানতে চাইলে পার্টির অন্যতম নেতা ফয়সল চিশতী বলেন, ‘এটি সম্মানজনক পদ।’

রওশন এরশাদ কাউকে দলে পদায়ন করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘দলে সবার ঊর্ধ্বে তার অবস্থান। সভা-সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করবেন। দলের পতাকা তিনিই ব্যবহার করবেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্বাহী ক্ষমতা রওশন এরশাদের নেই। গঠনতন্ত্র মতে এই ক্ষমতা চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে।’ তাহলে দলে সাদ এরশাদের পদবি কী জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান তাকে যুগ্ম মহাসচিব করেছেন। এটিই তার পদবি। রওশনের দেওয়া কো-চেয়ারম্যান পদবি গ্রহণযোগ্য নয়।’

একইভাবে রওশন এরশাদের তালিকায় অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য। আর জিএম কাদেরর তালিকায় তিনি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। রওশন এরশাদের প্রেসিডিয়াম সদস্যের তালিকায় ছিলেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু জিএম কাদেরের তালিকায় তিনি কোথাও নেই। অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন গত কমিটিতেও প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, ‘তাদের দল, তারা যা খুশি তা করছেন। সকালে এক সিদ্ধান্ত, বিকালে আরেক সিদ্ধান্ত। কেন তারা এগুলো করছেন, নিজেরাই ভালো বলতে পারবেন। এখন তাহলে আমার পদ কী?

সাদ এরশাদের পদ কী? জনগণ কীভাবে জানবে? ১৭ জানুয়ারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘চেয়ারম্যান জিএম কাদের পার্টির নবম জাতীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত এবং গঠনতন্ত্রের ধারা ১২-এর ৩ উপধারা অনুযায়ী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরও ৮ জন উপদেষ্টা, ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৪ জন যুগ্ম মহাসচিবের নাম ঘোষণা করেছেন। এই নিয়ে পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদে সদস্যের সংখ্যা ২৯ উন্নীত হলো।’ বিজ্ঞপ্তিতে সুনীল শুভ রায় বলেন, ইতোপূর্বে ৯ জন উপদেষ্টার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সম্পাদনা : মাসুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত