প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় বানায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শব্দিটির মাঝে যে ‘বিশ্ব’ কথাটি আছে তার মর্মার্থ বোঝে না

কামরুল হাসান মামুন : বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় বানায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শব্দিটির মাঝে যে ‘বিশ্ব’ কথাটি আছে তার মর্মার্থ বোঝে না। মনে করে যেন সুপার মার্কেট খুললো। প্রথম কথা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো মালিক থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো মরণ নেই। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মের সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকতে পারলে যে নিজেকে ধন্য মনে করতে পারে তারাই কেবল বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মানেই এই নয় যে, এটি কোনো ইন্ডাস্ট্রি যখন-তখন এখান থেকে লাভ তুলে নেয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় মানে এর থেকে যে আয় হয় তার পুরোটাই আবার এর মাঝেই বিনিয়োগ করতে হয়।

এই ফিডব্যাক সিস্টেমের কারণেই দুনিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলোই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারা কতো সৌভাগ্যের ব্যাপার সেটা কি আমাদের দেশের যারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির পেছনে আছেন তারা বোঝেন? তারা বোঝেন কেবল টাকা, লাভ, লগ্নি। তাদের সেই অন্তর্দৃষ্টিই নেই যে তাদের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান বড় হবে, দুনিয়াজুড়ে সুনাম হবে, হাজার হাজার বছরজুড়ে ছেলেমেয়েরা এখানে ডিগ্রি লাভ করে বিশ্বের নানা প্রান্তরে ছড়িয়ে গিয়ে আলো ছড়াবে। এ রকম অমর প্রতিষ্ঠানের জন্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অর্থই বোঝে না।

আর যারা এসব বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমতি দিয়েছে, তারা? তারা কি বুঝেছে? তারা তো আরও বড় পাপী। শিক্ষাবিদ নয়, ফিলানথ্রপিস্ট নয় এমন মানুষকে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমতি দেয় সেটি আজ পর্যন্ত আমার মাথায় আসে না। বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে দিতে হতো টাটার মতো ব্যক্তির কাছে। ঔজউ ঞঅঞঅ একবার তার এক এমপ্লয়ী সুধা মূর্তিকে বলেছিলেন, ‘সবসময় একটা কথা মনে রাখবে, তোমার সমস্ত টাকা পয়সার তুমি অছি মাত্র (ট্রাস্টি)। টাকার সবসময় হাতবদল হয়। হাতে রেখে লাভ নেই। টাকা বড় ক্ষণস্থায়ী। যদি সাফল্য আসে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেবে। সেটাই কিন্তু চিরস্থায়ী’। এই টাটা পরিবারের হাত ধরেই ভারতে একাধিক গবেষণা ইনস্টিটিউট হয়েছে যেমন : Tata Institute for Fundamental Research (TIFR), Indian Institute of Science (IISc) ইত্যাদি। এসবই বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান।

ওখানকার গবেষক হতে হলে অত্যন্ত উঁচু বিশ্বমানের গবেষক হওয়ার পোটেনশিয়াল থাকতে হয়। মিলিয়ন বিলিয়ন ডলার যদি ব্যাংকে থাকলো আর আমি একদিন মরে গেলাম। এই টাকা দিয়ে কি লাভ হলো? পদার্থবিজ্ঞানে কাজের যেমন সংজ্ঞা হলো বল প্রয়োগে বলের দিকে … হতে হয় ঠিক তেমনি টাকার মূল্য তখনই যদি টাকা নিজের বা অন্যের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। ব্যবহৃত হলো না তো সেই টাকা মূল্যহীন। আমাদের দেশে এখন অনেক বড় বড় ধনী আছে। তারা জানে কেবল টাকা রপ্তানি করে ইউরোপ-আমেরিকায় বাসাবাড়ি বানিয়ে স্ত্রী-কন্যা নিয়ে সুখে থাকার স্বপ্ন দেখতে। ভোগের বাইরেও যে আনন্দ আছে এটা তাদের মাথায় নেই। মাথায় আছে কীভাবে ব্যাংক লুট করবে, মানুষকে ঠকাবে আর আরও টাকা কামাবে। বলদ কেহিকা। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত