প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের তামাশা,তামাশার ভোট

বিপ্লব কুমার পোদ্দার: ব্রিটেন তার নির্বাচন শেষ করলো বেশ শান্তিপূর্ণ ভাবে এবং এ নির্বাচন নিয়ে নেই কোনো অভিযোগ। সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নির্ভর করে এর নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের উপর। নির্বাচনের পরে বিরোধী দলের প্রধান মিস্টার করবিন পরাজয় মেনে নিয়ে পদত্যাগ করে আবারো জানান দিয়ে গেলেন, একজন রাজনীতিবিদের ব্যার্থতার পরে কি করা উচিত? এই নির্বাচন থেকে একটা বিষয় আবারো পরিষ্কার হলো, রাজনীতিবিদদের উপলব্ধি করা উচিত জনগণ কি চায় আর ভুল চেষ্টা করলে বিজয় অধরা থেকেই যায়। এবার ফিরে আসি বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে । এখানে জনগণের ভোটের অধিকার কতটুকু আছে ? বাংলাদেশের জনগণ একটু বেশি দায়বদ্ধ থাকে রাজনৈতিক দলের কাছে যেটা ইউরোপে দেখা যায়না। যার ফলে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই সুবিধাগুলো ভোগ করে আসছে। যেমন ধরুন, তাদের প্রাথী বাছাইয়ের জন্য জনগণের দিকে তাকাতে হয়না। তারা তাদের খুশি মতো প্রাথী দিতে পারেন। এটা গনতন্ত্রের জন্য প্রধান অন্তরায়। আর অন্যদিকে বাংলাদেশে এখন নিরাপদ ইনভেস্টমেন্ট হলো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া।

যেখানে রিটার্নটা অনেক বেশি যদি একটু ভাগ্যের চাকা স্পর্শ করে। আরো মজার বিষয় হলো, একটি দল সরকারকে অবৈধ বলছে আবার তাদের কাছেই গণতান্ত্রিক ব্যবহার আশা করছে। যা নাকি, ছোটবেলার পুতুল বিয়ে খেলার মতন ঘটনা। তবে ভাববার বিষয়,জনগন কেন নিরবে এসব অবলোকন করছে। তাহলে কি বিষয়টা এরকম ধরে নেয়া যায়, যে তারা সরকারী দল অথবা প্রকৃত বিরোধী দলের উপর হতাশাগ্রস্থ। আাসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রকৃত বিরোধী দলের তৃনমুল থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের অধিকাংশই এ সরকারের অধীনে নির্বাচন নামের নাটকে অংশগ্রহন করতে অনাগ্রহী। তবে আাশ্চর্যের বিষয় হলো,গুটি কয়েক জনের সুবিধার জন্য অধিকাংশ নেতাকর্মীর মতামতকে অপমানিত করা হচ্ছে। আাজ বড় কষ্ট হয়, আামার যৌবনের সময়কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী যখন গোলাপ শাহ মাজারে বিএনপির অল্প কিছু লোক নিয়ে সভা করতেন,তখন পর্যন্ত তার বক্তব্যের জড়তা সম্পুর্নরূপে কাটেনি। কিন্তু,তার সঠিক সিদ্বান্ত দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে তার দলকে সুপ্রতিষ্টিত করেছিলেন। যার ফলস্বরূপ অকল্পনীয় ভাবে ১৯৯১ সালে সরকার গঠন, ১৯৯৬ সালে বিএনপি বনাম আাদার্স নির্বাচনেও ১১৬ টি আসন নিয়ে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভুমিকা পালন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয়। কিন্তু, আাজ সেই গনতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী যেন মুষ্টিমেয় কিছু লোকের জন্য বিএনপিতে অপাংতেয় হয়ে গেছেন। আার শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকায় দেশের ঝুঁকিপুর্ন অর্থনৈতিক অবস্থা ,সামাজিক অস্থিরতা,আাইন শৃংখলার চরম অব্যবস্থা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের মুখোমুখি গোটা দেশ ও জাতি। সরকার এবং বিরোধী দলের কাছে আমার বিনীতভাবে জানবার, যেহেতু আপনারা ঢাকা শহরে বসবাস করেন, উপলব্ধি করতে পারছেন কি জনগনের অনাগ্রহ আপনাদের এ নির্বাচনী নাটকে অংশগ্রহন করার ব্যাপারে?

আরেকটি ভয়াবহ রূপ,বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শিল্পপতিদের অনুচিত অনুপ্রবেশ এবং এমপির ছেলে এমপি, চেয়ারম্যানের ছেলে এবং নেতার ছেলে নেতা হবার এক অলিখিত রেওয়াজ। কেউ যদি সত্যিকারের রাজনীতি করতে চায়, জনবান্ধব হয়ে নেতৃত্বে পৌছায় তবে সেখানে আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন অবধারিত। তবে উপরের দুটি কারনে রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ যদি অলিখিত ভাবে নিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক শুন্যতা অনিবার্য।

এখন দেখছি ভারত নাকি পঁচা পেয়াজ নিয়ে বাংলাদেশে পেয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে তাদের সকল করুনা দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। এবং বানিজ্যমন্ত্রী নাকি সে করুনা গ্রহন করতে প্রস্তুত হয়ে আছেন। ভারতের পেয়াজ হঠাৎ করে নিয়ম বহিভুর্তভাবে আমদানি বন্ধ করার ফলে বাংলাদেশের কোন মানুষের অঙ্গহানি বা মৃত্যু ঘটেছে বলে কোন খবর বা সাক্ষ্য প্রমান নেই। তাই আবারো বলছি,যতক্ষন পর্যন্ত ভারত সরকার বাঙালী বিভাজনের হাতিয়ার ধর্মের সুরেলা বাশি বাজিয়ে নাগরিক পুঞ্জি এবং নাগরিক সংশোধিত আইন বন্ধ না করবে, ততক্ষন পর্যন্ত ভারতের সকল পন্য বর্জন সহ দিপাক্ষিক সম্পর্ককে আমাদের বিদায় জানাবার অবস্থানে থাকা উচিত। আজ যখন দেখি, দিল্লীর জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নেত্রী ঐশী এবং তার সহ নেত্রীবৃন্দের উপরে এভিপি বাহিনীর আক্রমন এবং সারা ভারত জুড়ে মানবতাবাদী মানুষের যৌক্তিক প্রতিবাদ আর এই বিক্ষোভ দমাতে প্রান যায় শিশু থেকে বৃদ্ধ সহ সমস্ত বয়সের মানুষের। এমনকি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে জাতিসংঘ,যুক্তরাষ্ট্র সহ সকল মানবতাবাদী সংগঠন,তখন আশাকরি আমার এই লেখা ভারতের বিরুদ্ধে বা ভারতের আভ্যন্তরীন কোন বিষয়ের উপরে মতামত নয়। হয়ত বিজেপি তার সংখ্যাগরিষ্টতার কারনে কোন প্রকারের ঝুকিঁ ছাড়াই সরকার চালাতে পারলেও ভারতবাসী বিশ্বের বুকে আগের মতন সন্মান পাবে কি? আজও কিন্তু থামেনি অথবা বিজেপি পারেনি কাশ্মীরের সুষ্ট জীবনধারা ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। তাই এরকম অবস্থা চললে ভারতে নতুন কিছু তৈরী হবে না তো? যেরকম কিছু মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানের রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে কেন্দ্রে পাশ হওয়া আইন তাদের নিজ নিজ রাজ্যে প্রয়োগ না হতে দেবার ঘোষনা দিয়েছেন।

কিছুদিন ধরেই বেশ অস্থির, কারন উগ্র ডানপন্থী মনোভাব যেন মানবতাকে ধুলিস্যাত করার এক প্রয়াস শুরু করে দিয়েছে। আর ভোটের বাজারে এই প্রয়াস বেশ ভালোভাবে ফল এনে দিচ্ছে, ডান উগ্রপন্থী নেতাদের ঝুঁড়িতে। কারন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সাহেব তার ইমপিচমেন্ট ঠেকানো তৎসঙ্গে আগামী নির্বাচনে জয়ী হবার জন্য যুদ্ধপরাধের মত কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করলেন না। যার ফলশ্রুতিতে ইরানে জেনারেল এবং ইরাকের ডেপুটি জেনারেলের হত্যা আর ইরান তার ক্ষমতা জাহির করতে ইউক্রেনের উড়োজাহাজের সব যাত্রীকে নিমিষে হত্যা করতেও কুন্ঠাবোধ করল না।

তাই, আজ দরকার সব বাঙালীর ঐক্যবদ্ধ হওয়া,মানবতাবাদী মানুষের ঐক্যের। তবেই বিশ্ব মুক্তি পেতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে।
বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পারলাম একজন নেতার উপদেষ্টা পদবীধারী ব্যাক্তিদের উপদেষ্টা ব্যবসা নাকি বিলীন হয়ে গিয়েছে। এটা কি রাজনৈতিক উপলব্ধি নাকি একই বলয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দীতামুলক খেলার অংশ!

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি নাকি এখন সরকারের অনুকম্পার উপরে নির্ভর করবে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অনুকম্পা নয়, মানবিক মুল্যবোধ এবং রাজনৈতিক প্রয়োজনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তি দিন। জয় হোক বিশ্ব মানবতার।
লেখকঃ লন্ডনে কর্মরত সমাজকর্মী ও আইনজীবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত