প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অন্তত অসুস্থ মরণ শয্যায় শেষবারের মতো সৎ হতে চেষ্টা করুন, তেমনি জেনেশুনে অন্তত ডেথ বেডের মানুষের অর্থ-সম্পদ লোপাট করা হতে বিরত থাকুন

 

দীপু তৌহিদুল : হার্ট অ্যাটাক কিংবা ব্রেইন স্ট্রোক আপনাকে দ্বিতীয়বার জীবন ধারণের সুযোগ নাও দিতে পারে। কিন্তু ক্যান্সার আক্রান্ত হলে তা স্বল্প পরিসরে হলেও আপনাকে অনেক কিছুই করার সুযোগ করে দেয়। আপনার ক্যান্সার হয়েছে জানলে আপনি অসমাপ্ত জরুরি কাজ যতোটা দ্রুত সম্ভব সেরে ফেলার উদ্যোগ পাবেন। যেমন কারও সঙ্গে অন্যায় অপরাধ করে থাকলে তার কাছে মাফ চাইতে পারেন, কেউ আপনার নিকট টাকা পেলে বা আপনি নিজে পেলে তা সেটল করার উদ্যোগ নিতে পারেন, ছেলেমেয়ে জীবনসঙ্গীকে কীভাবে পথ চলা উচিত তার মতামত দিতে পারেন, ভাইবোন কিংবা কারও হক মেরে থাকলে তার প্রাপ্য হক ফেরত দিয়ে নিজেকে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। হার্ট অ্যাটাক কিংবা ব্রেইন স্ট্রোক হলে এ সবের কিছুই করার সুযোগ আপনি নাও পেতে পারেন। বলেই ক্যান্সার ভালো রোগ। ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ফার্স্ট স্টেইজ হলে চিকিৎসা করে আপনি বেঁচেও যেতে পারেন আর লাস্ট স্টেইজ হলে উপরোক্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমাধানে যতোটুকু পারুন অন্তত উদ্যোগ নিতেই পারেন। যিনি ক্যান্সারের লাস্ট স্টেজ জেনে নিজের দেনা না মিটিয়ে শুধু নিজের পাওনা নিয়েই মাথা ঘামান তিনি মূলত একজন জন্মগত প্রতারক। তার এই প্রতারণামূলক আচরণই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় রাখেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে যাদের জন্য তিনি এটি করেন। তারা তার লাশ পচে যাওয়ার আগেই তাকে ভুলে যায়/যাবে। এই প্রতারণামূলক আচরণ নিজ কাঁধের উপর দায় হিসেবে থেকেই যায়। যদিও প্রতারক মনের এতে কিছুই আসে বা যায় না। অপরদিকে ক্যান্সার আক্রান্ত অসুস্থ মানুষের পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেয়া সুস্থ সবল বিবেকবান মানুষের কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে দোনোমনো কখনোই গ্রহণযোগ্য আচার হতেই পারে না। অসহায় একজনের টাকা পকেটে পুরে ভাববেন ‘হালা তাড়াতাড়ি মরে না কেন’। এতে করে আপনি প্রমাণ করেন আপনি একজন খুব বাজে নিম্নমানের মানুষ। ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের যেমন নিজের দায় মেটানোর সুযোগ সৃষ্টি হয় তেমনি তার সঙ্গে ডিল করা মানুষদেরও ডিল ক্লোজ করার সুযোগ প্রদান করে। বাংলাদেশিদের এমনিতেই আর্থিক ও সম্পদজনিত অসততার হার চরম পর্যায়ে। সে ক্ষেত্রে বলতে চাই অন্তত অসুস্থ মরণ শয্যায় শেষবারের মতো সৎ হতে চেষ্টা করুন তেমনি জেনেশুনে অন্তত ডেথ বেডের মানুষের অর্থ-সম্পদ লোপাট করা হতে বিরত থাকুন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত