প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বয়াতি শরিয়ত সরকার ‘গান বাজনা হারাম কোরআনে কোথাও এ কথা বলা নেই’ এবং ‘রাসুলুল্লাহ (সা:) আনুগত্য রাখা মানে সহি মানুষে আনুগত্য রাখাই’ বলার কারণে কারাগারে

দেবদুলাল মুন্না : টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্লা গ্রামের বাউল শরিয়ত বয়াতি গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার একটি বাউলে গানের আসরে গিয়ে বয়ান দেন ‘গান বাজনা হারাম কোরআনে কোথাও এ কথা বলা নেই। কেউ যদি হারাম প্রমাণ দিতে পারেন তবে তাকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার চ্যালেঞ্জ করেন।’

তিনি বলেন, ‘মানিকগঞ্জের মাওলানা দেওয়ান রশীদকে আইয়ুব সরকারের আমলে ফাঁসির হুকুম দেয়া হয়েছিল নবীজীকে কটুক্তি করার অভিযোগে।

তিনি লিখছিলেন , ‘লা ইলাহা ইল্লা লা মুহম্মদ ই রসুল আল্লাহ’ এখানে বারো বারো চব্বিশ হরফ দিয়া একটা কেতাব লিখছিল, কিতাবটার নাম,জেরুল কোরআন, এই কিতাবের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর ফাঁসির হুকুম হওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জিজ্ঞেস করলো শেষ ইচ্ছা আছে কি না? তিনি একটা ব্লাকবোর্ড ও চক চাইলেন । দেওয়া হলো।

তিনি ব্লাকবোর্ডে লেখলেন, ‘লা ইলাহা ইল্লা লা মুহম্মদ ই রসুল আল্লাহ’। লিখেছিলেন আরবী হরফে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট তাকিয়ে দেখলেন কোনো লেখাজোখো নেই। হয়ে গেছে মানুষের আকার।’

‘অর্থাৎ কলেমা হলো একটা মানুষ।এই দেহটাই কলেমা। এই দেহটা খুললে চব্বিশটি অক্ষর আছে। কোরআন হচ্ছে আধ্যাত্মিক ইশারা। একে একেকজন এককভাবে বোঝেন। কোরআন একটা শিক্ষা। কোরআনে মিম একটা । মানবদেহে চারটা মিম। কোলালামিম লেজলামিম, পোটলালামিম ,ঘোমটামিম।’

‘কোরআন খুললে একটা আলিম। মানবদেহে চারটি আলিফ আছে।একটা কোলালামিম, নসিকালালিফ,আমি দাড়াইছি এটিও আলিফ, আর আমার বাবা যা দিয়া আমাকে তৈরি করছে সেইটাও আলিফ।’

‘আলিফ সত্ত্বা  ও মিম সত্ত্বাই আসল। সেজাদাও দিতে হয়, মিমসত্ত্বা আলিফ সত্ত্বাই নিয়াই। তাই লালনের মনের মানুষ- অধর মানুষ- দিব্য মানুষ- সহজ মানুষের কথা বলেন ।’

শরীয়ত সরকার আরও বলেন, ‘ নবীকে আপনারা দেখছেন ? দেখেন নাই। আল্লাহ বলছেন যিনি রাসুল্লাহয় আনুগত্য রাখেন তিনিই মুসলমান। এরমানে আপনি যদি পীরের কাছে বা এরকম সহি মানুষের কাছে আনুগত্য রাখেন এরমানে নবীর ওপরেই আনুগত্য রাখা।

এসব কথা বলার পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় শরিয়তের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাতের অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বাদী মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা দারুসসুন্নাহ ফোরকানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাউলশিল্পী শরিয়ত সরকার তার গানে মহানবী ও ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। পরে তা ইউটিউবে দেওয়া হয়। বিষয়টি এলাকার মুসল্লিদের নজরে আসে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি।

বর্তমানে বয়াতি শরিয়ত সরকার রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন। গত শনিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত