প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীতে বিপাকে মানুষ, ৬৪ জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক : শীতে ও শীতজনিত রোগে এ মৌসুমে দেশে মোট ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরবঙ্গে দিন পার করা কঠিন হয়ে পড়েছে নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য। সরকারের দাবি পর্যাপ্ত ত্রাণ দেয়া হচ্ছে কিন্তু সেগুলো পৌছেনি চাহিদামতো এসব মানুষের কাছে। ডয়চে ভেলে

দেশের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগেই এই শীতে নিম্নবিত্ত মানুষ সবচেয়ে কষ্টে আছেন। পঞ্চগড়ের স্থানীয় সাংবাদিক আনিস প্রধান জানান, গরম কাপড়ের অভাবের পাশাপাশি নিম্নবিত্ত মানুষ চরম আর্থিক কষ্টে আছে। যারা দিনমজুর তারা কাজ পাচ্ছেন না । অন্যদিকে জেলা প্রশাসন শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে জেলা বা উপজেলা শহরের আশপাশে । প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ তা পাচ্ছেন না । অথচ তাদেরই প্রয়োজন বেশি ।

পঞ্চগড় জেলায় মোট উপজেলা পাঁচঠি। জনসংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। আর পঞ্চগড় সদরেরই জনসংখ্যা দুই লাখের বেশি । জেলার এডিসি (সাধারণ) আব্দুল মান্নান জানান, তারা এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের মতো কম্বল বিতরণ করেছেন। এরমধ্যে বেসরকারিভাবে পাওয়া গেছে সাত থেকে আট হাজার। প্রধানত পঞ্চগড় সদরেই এসব কম্বল বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানা যায় তার কথায় । তিনি জানান এর বাইরে আরো কিছু শীতবস্ত্র ও শিশু খাদ্য বিতরণের কথাও জানান তিনি। এজন্য সরকারের বরাদ্দ ছিল এ পর্যন্ত এক লাখ টাকা।

পঞ্চগড়ে কত শীতবস্ত্র প্রয়োজন এবং যা পাওয়া গেছে তা পর্যাপ্ত কিনা জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান বলেন, কত প্রয়োজন তা আমরা বলতে পারছি না । তবে যা পাওয়া যাচ্ছে তা বিতরণ করছি । দিনমজুরদের কাজের অভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা খোঁজ নেব। এরকম লোক পাওয়া গেলে কাজের ব্যবস্থা করা হবে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের হিসেবে এ পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ৩২ লাখ কম্বল দেয়া হয়েছে বিতরণের জন্য । বিভিন্ন জেলায় কম্বল কিনে শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর উত্তরের আট জেলায় ১৬ হাজার কার্টন শুকনো খাবার ও শিশু খাদ্য পাঠানো হয়েছে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন তিনি থাইল্যান্ড থেকে টেলিফোনে ডয়চে ভেলেকে জানান, আমাদের পর্যাপ্ত গরম কাপড় ও ত্রাণ সামগ্রী আছে। আমরা চাহিদামত বরাদ্দ দিচ্ছি। শুকনা খাবারের জন্য নগদ টাকাও বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। শুধু সরকার নয়, আওয়ামী লীগও কাজ করছে । সরকার ও দল মিলিয়ে আমরা শীতার্ত মানুষকে সহায়তা করছি।

তিনি আরো বলেন, উত্তরাঞ্চলে কাজের সংকট সম্পর্কে আমাদের কেউ জানায়নি। আমরা জেনে ব্যবস্থা নেব।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত শীত ও শীতজনিত রোগে মোট ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে । আর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় চার লাখ মানুষ ।  তাদের অধিকাংশই শিশু ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী গত এক নভেম্বর পর্যন্ত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ২০ জন, ডায়রিয়ায় চার জন এবং শীতজনিত অন্যান্য রোগে মারা গেছেন ৩০ জন। এইসব রোগের মধ্যে আছে জন্ডিস, আমাশয়, জ্বর প্রভৃতি। তবে এককভাবে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি প্রায় দেড় লাখ । আর গত ২৪ ঘন্টায় শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে যারা মারা গেছেন তাদের ৮০ ভাগই শিশু৷ এরপর আছেন বয়স্করা।

ঢাকায় মঙ্গলবার শীত একটু কমে এলেও রংপুর ও রাজশাহীর ১১ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে । আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে আগামী সপ্তাহের শেষে আবার তীব্র শীত এবং শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে সারাদেশে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘন কুয়াশা স্বাগত জানিয়েছে রাজধানীবাসীকে । সকাল ৯টার দিকে তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগের বেশ কিছু অঞ্চলের উপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে । বুধবার তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তবে আগামী সপ্তাহে সারাদেশে তাপমাত্রা আবার কমে যাবার আশঙ্কা আছে।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত