প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাঙালি মুসলমানের মনোজগতে শুদ্ধ মুসলমান হওয়ার তাগাদা কোত্থেকে এলো? ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে? কংগ্রেসের সঙ্গে খেলাফতিদের ম্যারেজ থেকে?

 

গাজী নাসিরুদ্দিন আহমেদ : বাঙালি মুসলমানের মনোজগতে শুদ্ধ মুসলমান হওয়ার তাগাদা কোত্থেকে এলো? ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে? কংগ্রেসের সঙ্গে খেলাফতিদের ম্যারেজ থেকে? মুসলমান সমাজ উপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে অস্ত্র পেলো সালাফিজমে আর হিন্দু সমাজ হয়ে গেলো বিভক্ত। হিন্দু ধর্মকে অ্যাংলিসাইজড করার প্রয়াসটার নাম ব্রাহ্ম সমাজ। ক্লাসটা দেখেন খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুই সম্প্রদায়ের প্রিভিলেজড ক্লাস মোটামুটি ভাগ হয়ে গেলো। দুই সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ কিন্তু তাতে শুরুতে যুক্ত হয়নি। তারা মাটি উৎসারিত জীবন ও বিশ্বাসে অভ্যস্ত ছিলেন। তাদের ভাব জগতে পশ্চিম জেঁকে বসতে পারেনি। পারার কারণও নেই। পশ্চিমারা যেই আপনার শাসক হলো তখন আপনার ভাবজগতে আর মিথষ্ক্রিয়া নেই। আপনার ভাবজগৎ দখলের পাঁয়তারা হলো। খেলাফতিরা যে বিদ্রোহ করলো, ফকির সন্ন্যাসীরা যে বিদ্রোহ করলো তার রুট কিন্তু এক জায়গায়। হিন্দু সমাজের বিশ্লেষণে যাবো না। মুসলমানরা যে নিরাময় অযোগ্য এক রোগে আক্রান্ত হলো তার কারণ মোটাদাগে আপনি হিন্দু জমিদারদের দেখলেও এর নেপথ্যের কারিগর ব্রিটিশ উপনিবেশ। উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ে হিন্দু-মুসলমানের রাজনৈতিক ঐক্য হয়েছিলো বটে, সাংস্কৃতিক ঐক্যটা হয়নি। গোড়ার ঝামেলাটা আমার কাছে এইটাই মনে হয়।

পাকিস্তান হওয়ার বহু আগে থেকেই এই সাম্প্রদায়িকতার জন্ম। এই সাম্প্রদায়িকতা বুকে ধারণ করে জন্ম হয় মুসলিম লীগের। তালুকদার মনিরুজ্জামান-প্রফেসর রাজ্জাকরা যেটা ওভারলুক করেছেন বলে আমরা ধারণা করতে পারি। আমার ধারণার বিপক্ষে বক্তব্য শুনতে আমি আগ্রহী। তো এই মুসলিম লীগ পাকিস্তান সৃষ্টি করলো। সেটা কিন্তু টেবিল মেড। পাকিস্তান সৃষ্টিটা উপনিবেশিক শক্তির প্রতিভূদের হাতে। মুসলমানদের তথাকথিত সহীহ হওয়ার চেষ্টাটা এবার তীব্র হয় পাকিস্তানের অখ-তা রক্ষার নামে। প্রথম বলি হয় বাংলা ভাষা। তারপর আক্রমণ আসে রবীন্দ্রনাথের উপর। আপনি দেখবেন, রবীন্দ্রনাথের উপর আক্রমণটা খুব সিস্টেমেটিক। র‌্যাডিকেল বামপন্থীরা তখনও রবীন্দ্রনাথকে ডিফেন্ড করেনি। র‌্যাডিকেল বাম বলতে আমি চীনা বামদের বোঝাচ্ছি। আহমদ শরীফ ষাটের দশকে রবীন্দ্রনাথের পক্ষে দাঁড়ালেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। ইন্টারেস্টিং। মুসলমানদের সাম্প্রদায়িকতার গোলপোস্ট দুইটা হয়ে গেলো এবার।

যে উপায়ে পাকিস্তান রবীন্দ্রনাথকে ভিলিফাই করেছে ঠিক সেই একই কায়দায় ভিলিফাই করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। দুইজনের রাজনৈতিক শত্রু একপক্ষই। আপনি রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধ যুক্তি শোনেন, সিস্টেমটা দেখেন আর বঙ্গবন্ধুকে ভিলিফাই করার উপায়গুলো দেখেন। মনে হবে একই মেশিনে তৈরি। শেখ হাসিনাও আশি-নব্বইয়ের দশকে একই অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু ও হাসিনাবিরোধী প্রপাগা-ার রাজনীতিই ছিলো এতোকাল সাম্প্রদায়িক মুসলমানদের রাজনীতি। শেখ হাসিনা এই রাজনীতি প্রতিরোধে দৃশ্যত আপোস করেছেন। তাই তাকে আর হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে না সাম্প্রদায়িকরা। তো তাদের গোলপোস্ট লাগবে না? প্রপাগা-া ছাড়া এই রাজনীতির বিস্তার হবে না। তাই নতুন গোলপোস্ট তৈরি হয়েছে। যার বলি হচ্ছেন শরিয়ত বয়াতীরা। আরও হবেন। কারণ তারা এখন প্রতিরোধহীন। শেখ হাসিনার দৃশ্যত আপোসকে রাষ্ট্রযন্ত্র কার্যত আপোস হিসেবে অনুধাবন করেছে। আওয়ামী লীগ তার অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চরিত্র ধরে রাখলে রাষ্ট্রযন্ত্র এই কাজগুলো করতো না। আওয়ামী লীগ এগুলো জাস্টিফাই করবে। কারণ তারা এখন নিজের শক্তির উপর আস্থা রাখে না। বি: দ্র: এটা আসলে বড় একটা লেখার আউটলাইন। এখন সময় নেই। তাই টুকে রাখলাম। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত