প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মশার উৎপাত, উত্তরে মেয়র শূন্য, দক্ষিণেও অভিযান নেই

সুজিৎ নন্দী : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পর্যাপ্ত লোকবল, ফগার ও হুইলব্যারোসহ ঢাকা উত্তরে মেয়র শূন্য ও অন্যান্য মেশিন-যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে মশক নিধন কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে বছরজুড়ে কাজ করার ঘোষণা থাকলেও ভিআইপি এলাকা ছাড়া ডিসেম্বর ও জানুয়ারির শুরুতে কার্যক্রম শূন্যের কোটায়। আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমে এবার ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনই শতাধিক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা দক্ষিণের প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ছাড়াও বিশেষ মশক নিধন অভিযান, উৎপত্তি স্থলে বিশেষ অভিযান এবং নিয়ন্ত্রণ, পরিছন্নতাসহ সকল কাজ শুরু দমে চলছে। দক্ষিণে মশার উপদ্রব চোখে পরার মতো না।

মশার ওষুধের গুণগত মান প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, ঢাকা উত্তরে মশার উপদ্রব খুবই কম। গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা ওষুধের একটি উপাদান দূর্বল। বাকি দুটি উপাদানের কার্যকারিতা আছে। তবে ওই ওষুধটি আমাদের নিজস্ব ফিল্ড পরীক্ষা, প্যান প্রোটেকশন উইংয়ের পরীক্ষা ও আইইডিসিআরের পরীক্ষায় কার্যকরিতা পাওয়া গেছে।

ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতি বছর এই সময় মশার উৎপাত বাড়তে থাকে, তাই আমাদের উচিত আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। আসলে প্রতিটি ওয়ার্ডে যত সংখ্যক মশক নিধন কর্মী প্রয়োজন সেই তুলনায় লোকবল কম। এর মধ্যও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

দুই সিটির সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, কিউলেক্স মশা ও ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বিষয়ক পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের নিয়ে এই পর্ষদ গঠিত হয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর এ পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ মাসেও হবে।

ডিএনসিসির একাধিক সূত্র জানায়, পুরনো ওষুধ ব্যবহার করছি এটা সত্য। পাশাপাশি নতুন ওষুধও ব্যবহার শুরু করেছি। এখনও এক লাখ ১০ হাজার লিটার সরাসরি ব্যবহার উপযোগী (রেডি ফর ইউজ) নতুন ওষুধ আছে। এই ওষুধ প্রস্তুত করতে যে পরিমাণ কাঁচামাল বা ম্যালাথিউন প্রয়োজন, সেটি চীন থেকে এলসির মাধ্যমে আনা হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ওষুধ (ম্যালাথিউন) আনা হয়েছে সেটি প্রধান ভান্ডার কর্মকর্তা বলতে পারবেন। আর পুরনো যে কোম্পানিকে চার লাখ লিটার ওষুধ দেওয়ার জন্য আগে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, সেই কার্যাদেশের ওষুধ সরবরাহ এখনও শেষ হয়নি। কার্যাদেশ বাতিলও হয়নি। তারা কয়েক ধাপে আমাদের ওষুধ দিয়েছে। তাই এখনও তাদের সেই ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে।

একাধিক সূত্র জানায়, দুই সিটির মোট চাহিদার ৪৫ ভাগ জনবল নিয়ে কাজ করছে। এ কারণে প্রতিটি সেবা সংক্রান্ত কার্যক্রমেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সংস্থা দুটিকে। সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর নতুন করে ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় সংস্থা দুটির আয়তন বেড়েছে কিন্তু জনবল বাড়েনি। বরং বিভক্ত হওয়ার সময় দুই ভাগ হয়েছে আগের জনবল। এজন্য যথাযথ নাগরিক সেবা পাচ্ছে না নগরবাসী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত দুই লাখ ১৫ হাজার ৮৪৩ বাড়ি পরিদর্শন করে এক হাজার ৪৯৩ বাড়িতে লার্ভা পেয়েছে। মশক নিধনে আমাদের কার্যক্রম চলছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত