প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্ষণ, যৌন হয়রানির ঘটনা নারীদের মনে স্থায়ী ভীতি তৈরি করেছে

নিউজ ডেস্ক : বাসে চলাচল করা এক নারী বলেন, সেদিন একটা কাজে যেতে বাসে উঠেছিলাম। হঠাৎ খেয়াল হলো আমার পাশের সিটের পুরুষ যাত্রী আমার শরীর ঘেঁষে বসার চেষ্টা করছেন। সূত্র: বিবিসি

“আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। গায়ে মৃদু ধাক্কা লাগার পর চোখ ফেরাতেই একেবারে হতভম্ব হয়ে যাই। লোকটার কোলে একটা ব্যাগ রাখা ছিলো। ব্যাগের ফাঁক দিয়ে লোকটা পুরুষাঙ্গ দেখাচ্ছিলো লোকটি, আমার গা ঘিনঘিন করছিলো। কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারিনি। আমি শুধু সিট থেকে উঠে বাসের পেছনের দিকে অন্য সিটে গিয়ে বসে পড়ি।”

বলছিলেন সাবিহা আফরোজ, তিনি স্বামীর সঙ্গে মিলে একটি ট্যুর কোম্পানি পরিচালনা করেন। ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত কাজে প্রায় প্রতিদিনই তাকে বাড়ির বাইরে বের হতে হয়।

মিসেস আফরোজ বলছেন, যে হারে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা বাড়ছে তাতে করে প্রতিদিনই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে একরকম টেনশন কাজ করে তার মধ্যে।

“আগে চিন্তা হতো যে, সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই বা এরকম কোন সমস্যায় পড়বো কি-না। বেঁচে ফিরবো কি-না। এখন সেরকম কোন চিন্তা মাথায় কাজ করে না। এখন সবার আগে মাথায় এই চিন্তা আসে যে, আমি নিজের সতীত্ব নিয়ে বাসায় ফিরতে পারবো তো?”

সম্ভাব্য যৌন হয়রানি কিংবা এধরণের বিপদ এড়াতে অনেক নারী এখন নিজেরাই বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে থাকেন।

এরকমই একজন তামজিন নাইমা। তিনি একজন স্কুলশিক্ষক। নিজেকে নিরাপদ রাখতে তিনি কারাতে শিখেছেন।”কারাতে আমাকে কনফিডেন্স দিয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে আমি শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল। ফলে ব্যাগে করে আমি কাঁচি বা এধরণের জিনিস নিয়ে বের হই।

সাবিহা আফরোজও বলছেন একই ধরণের সতর্কতার কথা।”আমি কোথাও গেলে অনেক কিছু চিন্তা করে বের হই। যেখানে মানুষজন কম, সেখানে থাকি না। অনেক সময় বাসে কম যাত্রী থাকলে উঠি না। এজন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়। এছাড়া সঙ্গে সেফটি পিন রাখি, এন্টি কাটার রাখি কোন বিপদে পড়লে যেন কিছুটা কাজে আসে সেজন্য।”

কিন্তু এ ধরণের পরিস্থিতি একটা সমাজের জন্য কতটা স্বাভাবিক?

সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সাদেকা হালিম বলছেন, এধরণের পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক নয়।
“প্রত্যেকটা নারীর নিজস্ব বলয় আছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যার পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি নারী। তাদের মধ্যেই আবার প্রায় ৬২ শতাংশ নারী কর্মজীবী। এখন তাদের যদি নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়, রাতে বের হবো কি-না সেটা ভাবতে হয় ।

তিনি বলছেন, এ ধরণের মানসিক চাপ বা ভীতি নিয়ে ব্যক্তির উপর যেমন প্রভাব ফেলে, তেমনি সেটা সামাজিক অগ্রগতিকেও ব্যহত করে। অনুলিখন : সানজীদা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ