প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পীরগঞ্জে শিক্ষক সমিতির বুকলিস্টে নিষিদ্ধ গাইড বই, কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে অভিভাবকদের

জাকির হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এতে সর্বশান্ত হচ্ছে অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতি সহায়ক পাঠ্যপুস্তকের (গাইড বই) একটি তালিকা করে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় ২য় শ্রেণি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেয় চলতি বছরের শুরুর দিকে। এরপর সেই তালিকা অনুযায়ী গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হয় তাদের।

বর্তমান সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ব্যাকরণ, বিজ্ঞানসহ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী সব ধরনের বই জানুয়ারি মাসে সরবরাহ করলেও স্কুল শিক্ষক ও কোচিং শিক্ষকদের চাপে সে সব বইয়ের সহায়ক বই কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এসব শিক্ষক সমিতির সরবরাহ গাইড বইয়ের তালিকা অনুযায়ী লাইব্রেরির নাম উল্লেখ করে দেয়া আছে। যেখান থেকে ওইসব বই কিনতে বলা হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এতে হাজার হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে অভিভাবকদের। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ওইসব প্রকাশনী ও লাইব্রেরির নাম বইয়ের তালিকায় সংযোজন করা হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করে। পুস্তক তালিকার নাম অনুযায়ী লাইব্রেরিগুলোতে সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঞ্জেরী, অনুপম, লেকচার,কম্পিউটার পাবলিকেশনসহ আরও কয়েকটি গাইড বই বাজারে এসেছে। এতে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক সেট গাইড বইয়ের দাম ৬শ’৫৫ টাকা, সপ্তম শ্রেণীর ৬শ’৭০ টাকা,অষ্টম শ্রেণির ১হাজার টাকা,নবম শ্রেণির ৩ হাজার টাকার উপরে বিক্রি করে বলে জানান লাইব্রেরির মালিকরা।

এদিকে সব শ্রেণির সব বইয়ের সেট ছাড়া পৃথকভাবে কোনো বই বিক্রি করছেন না বিক্রেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, সে এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। তাই সহায়ক বইগুলো কিনতে স্কুল থেকে বলা হয়েছে। এতে পরীক্ষায় কমন পাওয়ার কথা জানিয়েছে তার স্কুল শিক্ষক। এজন্যই তাকে বইগুলো কিনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, সহায়ক বইয়ের নামে শিক্ষার্থীদের গাইড কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব সহায়ক বই আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কিনা, জানা নেই তার। ৬ষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া ছেলের একসেট বই কিনতে হাজারের উপরে টাকা লাগছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ছেলেকে কিনতে বলেছে, তাই কিনে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

তারা বাধ্য হয়েই ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই গাইড বই কিনে দিয়েছেন। অনেক অভিভাবক এখনো গাইড বই কিনে দিতে পারেননি। যে কারণে তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে শিক্ষকরা নানাভাবে বকাঝকা করছেন এমন অভিযোগও কম নয়। তবে শিক্ষকরা এ অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্যই তারা চাপ নয়, সৎ পরামর্শ দেন।

শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, এ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১৮৮টি এতে প্রায় ৪৫ হাজার ছাত্র ছাত্রী আছে ।মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৮২টি আর এগুলোর ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। সরকার কর্তৃক গাইড বই বিক্রি নিষিদ্ধ তবুও এ উপজেলায় শিক্ষক সমিতির ছত্রছায়ায় দেদার এ ব্যবসা চলছে। যেনো দেখার কেউ নেই।

মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাউসার আলম জানান, শিক্ষার্থীরা বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি সহায়ক বইয়ের সহযোগিতা নিলে ফলাফল ভালো করবে। তবে এসব বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করার কথা তিনি অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।সম্পাদনা: জেরিন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত