প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’র মনিটর ভাঙ্গার ঘটনায় অভিযুক্ত ৪ যাত্রীকে থানায় তলব

মাজহারুল ইসলাম : এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থানায় একটি জিডি করা হলেও তদন্তের পর মামলা হবে বলে জানিয়েছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন। লন্ডন-সিলেট ঢাকা রুটের ওই ফ্লাইটে এ ঘটনা উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এটা এক ধরনের বিকৃত মানসিকতা, ইচ্ছে করে গায়ের জোরে টানাটানি করে ডিসপ্লে মনিটর দুটো ভাঙ্গা হয়েছে। এটা মেনে নেয়ার মতো নয়। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা ম্যানচেষ্টার রুটে সোনার তরী দিয়ে উদ্বোধনী ফ্লাইট অপারেট করা হয়। এতে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন নিজেও যাত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিজি ২০২ ফ্লাইটে লন্ডন থেকে যাত্রী নিয়ে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসে সোনার তরী। নতুন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারটিতে সর্বমোট আসন সংখ্যা ২৯৮টি। এ উড়োজাহাজে ৩০টি বিজনেস ক্লাস, ২১টি প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস সিট রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর উড়োজাহাজটির ২৬ এ ও ২৬ বি নম্বর সিটের সামনের যুক্ত ইন ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (আইএফই) সিস্টেমের মনিটর ভাঙ্গা দেখতে পান ক্রু’রা। তাৎক্ষণিক বিমানের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। দুটি সিটের সামনের মনিটর ভাঙ্গা পেলেও দুই সিটের যাত্রী নাকি একজন যাত্রী এ কাণ্ড ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হতে পারেনি বিমান। তবে এ বিষয়ে প্রাথমিক খোঁজ খবর নেয়ার পর রাতে ২৬ এ ও ২৬ বি নম্বর সিটের যাত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করা হয়। এতে দু’জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তারা হলেন লন্ডন থেকে সিলেট পর্যন্ত ওই সিটের যাত্রী দেলোয়ার হোসেন ও যুবায়ের, আর সিলেট থেকে ঢাকা পর্যন্ত আসা আসিক ই এলাহী ও আরাফাত হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন কেবিন ক্রু জানিয়েছেন, ওই সিটের মনিটর বা ডিসপ্লে এমনভাবে ভাঙ্গা হয়েছে যা আর সহজে মেরামত করা অসম্ভব। কোন সুস্থ মানুষ এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে না। দেখে মনে হয়, দু’জন যাত্রী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক যোগে বলপ্রয়োগ করে এগুলো ভেঙ্গেছে। এগুলো আর অপারেট করা যাবে না, অবশ্যই রিপ্লেস করতে হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, মনিটর দুটোর দাম কমপক্ষে ১৬ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে বিমান প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ৮ বছর আগে লন্ডন থেকে আসার সময় বিমানের প্রথম বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজের একটি আসনের ডিসপ্লে মনিটর একই কায়দায় ভাঙ্গার সময় হাতেনাতে এক যাত্রীকে ধরে ফেলেন কর্তব্যরত কেবিন ক্রু। ঢাকায় অবতরণের পর ওই যাত্রীর কাছ থেকে ৭ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করে। যদিও ওই যাত্রী মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না বলে বিমানের তদন্তে জানা যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় জড়িত দুই যাত্রীরও মানসিক সুস্থতা পরীক্ষার দাবি রাখে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর থানার ওসি ফরমান আলী । এ ঘটনায় থানায় জিডি করার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ৪ যাত্রীকে সন্দেহের আওতায় এনে নোটিস পাঠিয়েছে। তাদের বক্তব্য নেয়ার পর প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ওসি। সূত্র : জনকণ্ঠ

সর্বাধিক পঠিত