প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রামীণ জনপদে মিলবে শতভাগ নিরাপদ পানি

বাংলা ট্রিবিউন : দেশে গ্রামীণ জনপদে শতভাগ নিরাপদ পানি নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ‘জাতীয় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নীতিমালা-১৯৯৮’ অনুযায়ী দেশের পুরো পল্লি এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়বে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পুরো ব্যয় নির্বাহ হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘সারা দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘জাতীয় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নীতিমালা-১৯৯৮’ অনুযায়ী পুরো পল্লি এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপদ পানির উৎস তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।’’ তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকা ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই শুরু হবে প্রকল্পের কাজ, শেষ হবে ২০২৫ সালের ৩০ জুন।’

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যা ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একনেকে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে ৯০ হাজার ৬৩৬টি। গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৭টি। পাম্প ও জলাধারসহ অগভীর নলকূপ বসানো হবে ২ লাখ ০৬ হাজার ৬৬৪টি। পাম্প ও জলাধারসহ গভীর নলকূপ বসানো হবে ১ লাখ ৭০ হাজার ২২২টি। রিংওয়েল বসানো হবে ৩ হাজার ৩৭৯টি। রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ইউনিট বসানো হবে ৩ হাজার ২১০টি। রুরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম স্থাপিত হবে ৪৯১টি। সোলার পিএসএফ বসবে ৩২০টি। আর্সেনিক আয়রন রিমোভাল প্ল্যান্ট (ভ্যাসেল টাইপ) বসবে ২৯ হাজার ৫৭০টি। কমিউনিটি-ভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট হবে ৮ হাজার ৮৩৮টি। উপজেলার অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে ১২টি। উন্নয়ন ও গবেষণামূলক কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সবার জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ, স্যানিটারি ল্যাট্রিন সুবিধাভোগী নগরবাসীর অনুপাত ১০০ ভাগে বাড়ানো এই প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে।’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সারা দেশের গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত