প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদকের কারণে যে ব্যক্তির দাঁত পড়ে যায়, তার পক্ষে কাউকে টেনে নিয়ে ধর্ষণ তো দূরে থাক, নিজেকে টেনে তোলার ক্ষমতাই থাকে না

সাদিয়া নাসরিন, ফেসবুক থেকে : শোনেন, কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলতেসে। সন্দেহ করতেসে। প্রশ্ন তোলার মতো খুব ভ্যালিড কিছু পয়েন্ট আছে বইলাই তুলতেসে। আয়োজন দেইখাই তুলতেসে। এবং আয়োজনের অসামঞ্জস্যতা দেইখাই তুলতেসে।

প্রথমেই মেয়েটার বয়ান দিয়ে বলা হইলো ধর্ষক একজন “দাম্ভিক ব্যক্তি”, “সিরিয়াল রেপিস্ট” এবং সে বারবার মেয়েটার পরিচয় জানতে চাইতেসিলো। মেয়েটার বয়ানে এও বলা হইসে যে, তাকে অজ্ঞান করে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হইসে, “উপর্যুপরি” ধর্ষণ করা হইসে, পোষাক পাল্টাইতে বাধ্য করা হইসে।

এখন আপনারাই বলেন, “সিরিয়াল রেপিস্ট” এই তথ্য একজন ভিক্টিম জানার কথা? এই লোকরে দেখে কি মনে হইতেসে সে “দাম্ভিক” ব্যাক্তি? যে কিনা ধর্ষণের ইন্টেরিম সময়ে পোষাক পাল্টাইতে বাধ্য করতে পারে? অজ্ঞান করার মতো জিনিস পত্র কি মজনু সাথে নিয়েই ঘুরতো ? বারাবার মেয়েটার পরিচয় জানতে চাইসিলো নাকি ধর্ষক। একজন মাদকাসক্ত ধর্ষক কি এতো কথা বলার মতো অবস্থায় থাকে ?

কুর্মিটোলার যে জায়গায় বাস থামে সেটা নির্ধারিত এলাকার বাস স্ট্যান্ড। তার খুব নিকটে কোন জঙ্গল নাই। যেখানে গাছ পালা বা জঙ্গল আছে তা ক্যান্টনমেন্ট এর ভেতরে। এবং অবশ্যই সেখানে কোন মাদকাসক্ত ব্যাক্তির প্রবেশ সম্ভব নয়। জঙ্গলে নিতে হইলে তারে হয় শ্যাওড়া নিয়ে গেছে, নয় বনানী রেইল স্টেশন। দুইটার কোনটা পর্যন্তই একটা সুস্থ মানুষরে টাইনা নিয়ে যাওয়া একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব।

সবচাইতে জরুরী বিষয় হলো, যে মেয়ে “উপর্যুপরি ধর্ষণ” এবং মাত্রাতিরিক্ত শারিরীক আঘাত সহ্য করেও জ্ঞান ফেরামাত্র পালিয়ে এসে অটোরিকশা ডাকতে পারে, থানায় যেতে পারে, হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে, তার মানসিক এবং শারীরিক সামর্থ্য সম্পর্কে সামান্যতম সম্মান থাকলেও আপনি মানতে বাধ্য হবেন, এরকম “মাইটি-ফাইটি” একজন তরূণীকে অজ্ঞান করে টেনে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার মতো শারিরীক সামর্থ্য কোনভাবেই একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির থাকেনা।

হ্যাঁ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে ভিক্ষুক বা শারিরীক ভাবে অসক্ষম নারীদের ধর্ষণ করতেই পারে। কারণ, তারা বাধা দিতে অক্ষম। কিন্তু সুস্থ, স্বাভাবিক একজনকে দুই তিনঘন্টা আটকে রাখার ক্ষমতা সে রাখেনা। আপনারা মাইক বাজায়ে বললেও আমি এইটা বিশ্বাস করিনা। সে ধর্ষক এইটা সত্য হইতেই পারে। কিন্তু এই মেয়েটারে সে ধর্ষণ করসে, পোষাক পাল্টাইতে বাধ্য করসে, এইভাবে শারীরিক নির্যাতন করসে এইটা হিসাবে মিলেনা।

মেয়েটার আগের বর্ণনায় কোথাও ছিলোনা যে, ধর্ষকের সামনের দুইটা দাঁত নাই। এইটা অনেক জরূরী তথ্য। মেয়েটা যতোটুকু সম্ভব ডিটেইল বলসে তাতে এই বর্ণনা ছিলোনা। অথচ মজনু নামের ধর্ষকের সামনের দুইটা দাঁত নাই। দীর্ঘদিন মাদক নিলে দাঁত পড়ে যায়। তবে যে পর্যায়ে গেলে দাঁত পড়ে যায়, সেই পর্যায়ে চলে গেলে ধর্ষণ তো দূরের কথা নিজেরে টাইনা তোলার ক্ষমতাও মাদকাসক্ত ব্যাক্তির থাকেনা।

আমি জানি আজকে সবাই এই জিনিষ গিলে ফেললে সবচাইতে বড় জুলুমটা হবে সেই মেয়েটার উপর। যে মেয়েটা কিনা ধর্ষণ এবং শারিরীক আঘাত সহ্য করেও থেমে যায়নি, বরং জ্ঞান ফেরামাত্র নিজেই থানায় গেছে এবং বলসে, “আই অ্যাম রেইপড, এন্ড আই ওয়ান্ট জাস্টিস”!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত