প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তাবলিগে অবস্থানের সময় মানুষ পরিশুদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন

মাজহারুল ইসলাম : দ্বীন ইসলামের প্রচার ও প্রসারে এবং আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের বিকাশ ও বিস্তারে যুগে যুগে নবী ও রাসুলগণ এই ধরাপৃষ্ঠে আগমন করেছেন। ধরাধামে আগমনকারী সব নবী ও রাসুলের মধ্য হতে যখনি কোনো নবী ও রাসুলের তিরোধান হয়েছে এবং সেই রাসুলের উম্মত আল্লাহ তায়ালার নাফরমানিতে ডুবে গিয়ে অন্যায় ও কলুষকার্যে লিপ্ত হয়েছে তখনি আল্লাহ তাদের হেদায়েত ও পথ প্রদর্শনের জন্য পুনরায় অন্য এমন একজন নবী বা রাসুল প্রেরণ করেছেন। যিনি তাদের সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে দরদপূর্ণ ভাষায় আহ্বান করেছেন। সূত্র : সময়েরআলো

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিলো। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করে গিয়েছেন, আমি সর্বশেষ নবী, আমার পর আর কোনও নবীর আগমন ঘটবে না। নবী ও রাসুলের আগমনের ধারা বন্ধ হওয়া সত্ত্বেও আজও বন্ধ হয়নি মানুষের স্বভাবজাত পাপাসক্তি ও খোদা তায়ালার নাফরমানি। আজও মানুষ কুফর, শিরক, অন্যায়, অনাচার, দুর্নীতি, ব্যভিচার, মিথ্যা, ধোঁকা, প্রতারণাসহ রকমারি পাপ ও গর্হিত কাজে লিপ্ত। তাই তাবলিগে দ্বীন তথা দ্বীনে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের এবং আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের বিকাশ ও বিস্তারের প্রয়োজন সদা বর্তমান।

নবী ও রাসুলগণের আগমনের ধারা বন্ধ হওয়ার পর হেদায়েত ও পথপ্রদর্শনের প্রয়োজন সতত বর্তমান থাকায় পরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দ্বীন প্রচারের এই দায়িত্ব উম্মতে মুহাম্মাদিকে অর্পণ করে মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্য হতে একটি দল যেনো এমন হয় যারা সৎকাজের প্রতি আদেশ প্রদান করবে এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ প্রদান করবে। আর তারাই হলো সফলকাম। (সুরা আলে ইমরান: আয়াত ১০৪)

অন্য এক আয়াতে তাবলিগ ও দ্বীন প্রচারকে মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজে বারণ করবে। (সুরা আলে ইমরান: আয়াত ১১০)। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা দ্বীন প্রচারে বিমুখ থাকার দরুন বনি ইসরাঈলের অভিশপ্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সৎকাজের আদেশদান ও অসৎকাজে নিষেধ প্রদানের প্রতি মুসলিম উম্মাহকে প্রকারান্তরে উৎসাহিত করে বলেছেন, বনি ইসরাঈলের মধ্যে যারা কাফের, তাদের দাঊদ ও মরিয়মতনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে।
এটা এ কারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত ও সীমা লঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে মন্দ কাজে নিষেধ করত না, যা তারা করত তা অবশ্যই মন্দ ছিল।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৭৮-৭৯)

অনুরূপভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাবলিগে দ্বীনের প্রতি উৎসাহিত করে সৎকাজের আদেশ দান ও অসৎকাজে বাধা দানের নির্দেশ প্রদান করেছেন।এ ব্যাপারে হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় কর্ম সংঘটিত হতে দেখে, তাহলে সে যেন তার হাত দ্বারা বাধা দেয়। যদি সে হাত দ্বারা বাধা দান করতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে যেন মুখ দিয়ে নিষেধ প্রদান করে। মুখেও যদি নিষেধ করতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে যেন অন্তত একে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। আর এটা সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের পরিচায়ক। (নাসাঈভ : হাদিস ৫০০৮)

যদি কোনো ব্যক্তি হাজার দানার তাসবিহ নিয়ে জায়নামাজে বসে বসে একনিষ্ঠচিত্তে আল্লাহ তায়ালার নাম জপতে থাকে, সমগ্র দুনিয়া ভুলে গিয়ে আল্লাহর ইবাদত ও উপাসনায় বুঁদ হয়ে দিন রাত্রি নিরত থাকে এবং গোমরাহির অতল গহবরে তলিয়ে যাওয়া মানব সকলের কোনো খোঁজখবর না নেয়, তাদের দ্বীনবিমুখতা সেই বুযুর্গ ব্যক্তিকে ব্যথিত ও চিন্তিত না করে। উম্মাহর হেদায়েত চিন্তায় তার তনমন ব্যাকুল না হয়, তা হলে একাকীভাবে সম্পাদিত সর্বপ্রকার সৎআমল তার নাজাতপ্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

তাই প্রতিটি ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজন, আশপাশ এবং পরিবেশ-প্রতিবেশের নেক আমলের প্রতিও সবিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। অন্যথায় তার সমুদয় সৎআমল ও নেক কর্ম নিষ্ফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে হজরত জাবের (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ তায়ালা হজরত জিবরাঈল (আ.) এর কাছে প্রত্যাদেশ পাঠালেন, তুমি অমুক অমুক শহর ও জনপদ উল্টিয়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, তখন হজরত জিবরাঈল (আ.) বললেন, হে আমার প্রতিপালক, তাদের মধ্যে আপনার অমুক বান্দা রয়েছেন, যিনি এক মুহূর্তের জন্যও আপনার কোনও নাফরমানি করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, জনপদ ও শহরটিকে তাদের সবার ওপর উল্টিয়ে দাও। কারণ সেই ব্যক্তির চেহারা আমার পথভোলা বান্দাদের বিভ্রান্তি সত্ত্বেও সামান্য সময়ের জন্যও বিষাদিত হয়নি। (শুয়াবুল ঈমান : হাদিস ৭১৮৯)

এই তাবলিগ ও দ্বীন প্রচার, ওয়াজ, বক্তৃতা, লেখালেখি, সুন্দর আচরণ, সদ্ব্যবহার ও দ্বীনের পথে আহ্বানসহ শরিয়ত অনুমোদিত যেকোনো পন্থায় হতে পারে। হজরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) প্রবর্তিত দ্বীন প্রচারের পন্থাই তাবলিগের একমাত্র পথ ও পদ্ধতি নয়। তবে জনসাধারণ প্রচলিত এই পন্থায় এক দিন, তিন দিন, এক চিল্লা, তিন চিল্লা ও সালের জন্য তাবলিগে গিয়ে খুবই উপকৃত হচ্ছেন। অন্তত তাবলিগে অবস্থানের সময়ে তাদের নামাজ কাজা হচ্ছে না। অন্যকে বলার সঙ্গে সঙ্গে নিজেরা পরিশুদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং ইসলামী আদর্শে জীবন চলার প্রেরণা লাভ করছেন। তাই প্রচলিত এই তাবলিগের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য। সময় ও সুযোগ মতো এ পথে মাঝে মাঝে সময় লাগানো ব্যক্তি ও সমাজের জন্য কল্যাণবহ অবশ্যই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত