প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাঙ্গাবালীতে নামসর্বস্ব স্বতন্ত্র মাদ্রাসার নামে বই বরাদ্দ!

যুগান্তর : ঘড়ির কাঁটায় ১০টা ৪৫ মিনিট। তখন সারা দেশে বই উৎসব চলছিল। কিন্তু আমলিবাড়িয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্র্রাসায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।

শিক্ষার্থীদের উৎসব আমেজ তো দূরের কথা, প্রতিষ্ঠানে কোনো চেয়ার-টেবিলই নেই। পুরো প্রতিষ্ঠান একদম ফাঁকা। উত্তোলন হয়নি জাতীয় পতাকা। কারণ প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রমই নেই।

বুধবার সরেজমিন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটির মাঠে স্থানীয় কৃষকদের আঁটি বাঁধা ধানের স্তূপ চোখে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ বছর ধরে মাদ্রাসাটির কোনো শিক্ষা কার্যক্রম নেই। নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। শুধু এক বছর আগে পাঁচ কক্ষের একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। আর সেখানে মাস দুয়েক আগে একটি সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানের নামে এবার ৭২০ পিস সরকারি বই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের তথ্য মতে, ১৯৮১ সালে মাদ্রাসাটি স্থাপিত হয়। যার মাদ্রাসা কোড নম্বর-৫৫২৪৮। কাগজ-কলমে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জাকির হোসেন, জুনিয়র মৌলভী আইয়ুব হোসেন, জুনিয়র শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, ইবতেদায়ী ক্বারী আবদুর রউফ, জুনিয়র শিক্ষক রুহুল আমিনকে দেখানো হলেও তা নামমাত্র।

এদের মধ্যে প্রধান জাকির হোসেন একটি মসজিদের ইমাম এবং ক্বারী আবদুর রউফ বাহেরচর পোস্ট অফিসের পিয়ন।

জানতে চাইলে ওই মাদ্রাসার প্রধান মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমিতো এলাকায় নেই। সহকারীদের বই বিতরণ করতে বলছি। আমাদের চেয়ার-টেবিল নেই। চেয়ার-টেবিল আমাদের নিজেদেরই ম্যানেজ করতে হবে। আমাদের তো কোনো অনুদান দেয় না। হয়তো অনেকের ঘরও নেই। আমরা তো সংকটের মধ্যে আছি। এলাকায় জরিপ করে আগামী সপ্তাহের মধ্যে বই দিব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মসজিদের দায়িত্বে আছি আর ক্বারী রউফ পার্টটাইম ওটায় (পোস্ট অফিসে) কাজ করেন।’

এমন চিত্র শুধু আমলিবাড়িয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাতেই নয়!

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ছোটবাইশদিয়ার তিল্লা আমিনা খাতুন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অস্তিত্ব হিসেবে একটি মসজিদের সঙ্গে সাইনবোর্ড ঝুলানো রয়েছে। একই ইউনিয়নের বলাহী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অবকাঠোমো কাঠ দিয়ে তৈরি করা হলেও টিনের ছাউনি দেয়া হয়নি।

এ ছাড়া রাঙ্গাবালীর পূর্ব নেতা আকরামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার কাজ নামমাত্র একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার মধ্যে চালানো হচ্ছে। ফলে কার্যক্রম না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বই বিতরণও করা হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য উপজেলার ২৫টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় ১৪ হাজার ৭৬০টি বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যপুস্তক বরাদ্দ দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে বিনামূল্যে সরকারি পাঠ্যপুস্তক বিতরণের কথা থাকলেও উপজেলার অধিকাংশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় বই বিতরণ করা হয়নি। মূলত ওই সব প্রতিষ্ঠানে কাগজ-কলমে শিক্ষার্থী দেখিয়ে বই বরাদ্দ করা হয়েছে। বাস্তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘বছরের প্রথমদিন থেকেই বই বিতরণ করার কথা। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকির দায়িত্ব দুই শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত