প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভেতরের দৃশ্য এক, বাইরের আরেক

বাংলা ট্রিবিউন : উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০২০ এর মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন মঙ্গলবার। সমর্থক ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন অনেকেই। প্রথম দিনেই দেখা গেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরের চিত্র একরকম আর বাইরে আরেকরকম। প্রার্থীরা অনেকেই এসেছেন দলবল নিয়ে। বাইরে দাঁড় করিয়ে ভেতরে গেছেন অন্তত ১০ জন করে। নির্বাচন আচরণবিধিতে বলা আছে, পাঁচজনের বেশি জমা দেওয়ার সময় আসতে পারবে না। আচরণবিধি ভঙ্গ করে এ ধরনের আগমনকে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছেন– তারা অন্যায় করেছেন, আগামীকাল থেকে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করবো।

সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর আগারগায়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীরা এক এক করে মনোনয়ন ফর্ম তুলতে এবং জমা দিতে আসেন। সকাল থেকে প্রার্থীর দেখা কম মিললেও দুপুরের পর থেকে সমাগম বাড়তে থাকে। রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী ফর্ম নিয়েছেন ১০ জন, জমা দিয়েছেন মাত্র একজন। এছাড়া সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ফর্ম নিয়েছেন ১৭৭ জন, যার মধ্যে জমা দিয়েছেন সাতজন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ফর্ম নিয়েছেন ৮২৮ জন এবং জমা দিয়েছেন ৭৪ জন।

সোমবার দুপুর ১ টার দিকে বিশাল বহর নিয়ে নির্বাচন কমিশন এলাকায় আসেন একজন কাউন্সিলর প্রার্থী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী জহির আহমেদের সমর্থকরা তার জন্য এসেছিলেন। এই বহরে ছিল ৬টি পিকাপ ভর্তি মানুষ, দুটি বাস এবং ২০টির বেশি মোটর সাইকেল। এক একটি পিকাপে লোক ছিল অন্তত ২০ জন করে, আর দুই বাসে সব আসন পূর্ণ ছিল নারী সমর্থকদের দিয়ে।

সমর্থকদের এভাবে নিয়ে আসা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন- এই বিষয়ে তিনি জানেন কিনা জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বহর নিয়ে আসার কথা অস্বীকার করেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক সমর্থক তখন সব গাড়ি জহির আহমেদের বলে জানান। তখন তিনি বলেন, ‘আসলে আমি পাঁচজন নিয়েই এসেছি। আমার সমর্থকরা হয়তো ভালোবাসার টানে আসতে পারে। আচরণবিধিতে পাঁচজনের কথা বলা হয়েছে, আমরা পাঁচজন এসেছি মনোনয়ন জমা দিতে।’

দুপুরের পর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ফরিদুর রহমান খান ইরানের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেন তার বড় ভাই জাবেদুর রহমান খান দুরান। এসময় তার সঙ্গে অন্তত ১০ জন কর্মী ছিল ভেতরে। আর বাইরে অপেক্ষমাণ ছিল আরও অনেক কর্মী ও সমর্থক। জাবেদুর রহমানকে নির্বাচনি আচরণবিধির কথা জিজ্ঞেস করলে প্রথমে অস্বীকার করেন এবং তার পেছন থেকে কয়েকজনকে সরিয়ে দেন। তিনি তখন বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে না। দুইদিন আগে ফর্ম নিয়ে গিয়েছিলাম, আজকে জমা দিলাম।’ এছাড়া ইরানের সমর্থনে আরও এসেছিলেন ইন্দিরা পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চুন্নুসহ আরও বেশ কয়েকজন।

এরপর আরও আসেন ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া। তার সঙ্গেও আসেন অন্তত ১৫ জন। ৫ জনের বেশি লোক নিয়ে ফর্ম জমা দিতে আসা আচরণবিধি লঙ্ঘন এমনটি জানেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসছে অনেকে কিন্তু ভিতরে তো পাঁচজনের বেশি যাবো না। বাইরে অবস্থান করাও আচরণবিধি লঙ্ঘন বলা হলে তিনি বলেন, আসলে নির্বাচনের সময় প্রার্থী হয়ে গেলে অনেক মুরুব্বীরাই থাকেন আশেপাশে। তারা আসতে চাইলে তো মানা করা যায় না।’

প্রার্থীদের সঙ্গে কর্মী সমর্থকদের আসাকে কেন্দ্র করে দিনভরই বেশ জটলা দেখা যায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাইরে। বাইরে কিংবা ভেতরে প্রার্থীরা এভাবে অবস্থান নিতে পারেন কিনা কিংবা ভেতরে পাঁচজনের বেশি থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাসেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি তো বাইরে দেখিনি কী হয়েছে। তবে যদি এমন করে থাকে তাহলে তারা খুব অন্যায় করেছে। নির্বাচনি আচরনবিধিতে আমরা পাঁচজন করেছি যাতে জনসাধারণের অসুবিধার সৃষ্টি না হয়। তারা দলবল নিয়ে এভাবে আসতে পারেন না। আমি আগামীকাল থেকে দেখবো। কেউ যদি আচরনবিধি লঙ্ঘন করে আমি সতর্ক করবো এমনকি জরিমানাও করবো।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত