প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্পর্ক টানাপোড়েন থেকে উত্তরনে ভারতের সঙ্গে কথা বলবেন আওয়ামী লীগের যে নেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট  : ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক টানাপোড়েন থেকে উত্তরনের জন্য এবং ভারতের মনোভাব কি তা জানার জন্য ভারতের সঙ্গে কথা বলবে আওয়ামী লীগ। নাগরিকত্ব বিল এবং নাগরিক বিল নিয়ে বাংলাদেশের কোন সমস্যা হবে কিনা তা বোঝার জন্য আওয়ামী লীগের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমটি তাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে ভারতের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করবে। প্রকৃত বাস্তব অবস্থা বোঝার চেষ্টা করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলবেন। তবে কখন কিভাবে দুই প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন এ ব্যাপারে এখনো কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও যারা ভারতের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন তার মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক মহলের একটি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ভারতের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবেন। বিশেষত নাগরিকত্ব বিল বাংলাদেশের ওপর কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা। আসামের নাগরিকপঞ্জীর কারণে বাংলাদেশের ওপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা সে সম্পর্কে তারা অবহিত করবেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রবীণ দুই নেতা আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আমির হোসেন আমুর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। শুধু কংগ্রেস নয়, বিজেপিরও অনেক নেতার সঙ্গে আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে ভারতের মনোভাব জানতে চাইবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময় চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, চীন থেকে সাবমেরিন কেনা এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের ফলে ভারতের মধ্যে কোন অসন্তোষ তৈরী হয়েছে কিনা এ বিষয় সম্বন্ধে তিনি খোঁজ খবর নেবেন।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন এবং ভারতের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময় ভারতের ঘটনাবলি বাংলাদেশের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার মত কোন ঘটনা ঘটায়নি। তবে অদূর ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো বাংলাদেশ- ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি টানাপোড়েনের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আসামের নাগরিকপঞ্জীর ফলে কিছু মুসলমানকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হতে পারে। ভারতের বিজেপি সরকারের নেতৃবৃন্দর এমন বক্তব্যের ফলে কোন সমস্যা হতে পারে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে।

পাশাপাশি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নীপিড়নের ক্ষেত্রে যে বক্তব্য দিয়েছে তা নিয়েও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে। এই সমস্ত বিবেচনা থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার মনে করছে যে পানি বেশিদূর গড়ানোর আগেই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আর এজন্যই এই নেতারা খুব শীঘ্রই যার যার অবস্থান থেকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্কের অবনতি হলে দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্ক একটা নতুন মাত্রায় উন্নতি হয়েছে। বিভিন্নক্ষেত্রে সম্পর্কর ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সেই অগ্রগতির ধারা বিনা কারণে যদি বাধাগ্রস্থ হয় তাহলে সেটা হবে একটা কূটনৈতিক বিপর্যয়। সেই বিপর্যয় যেন না হয় সেজন্য বাংলাদেশ তৎপর এখন থেকে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে তারা মনে করছে ভারত- বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে। এনিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্ক যে বিশ্বস্ততার ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেই বিশ্বস্ততায় চিড় ধরা সহজসাধ্য হবে না।

উৎসঃ বাংলা ইনসাইডার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত