প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রীর মুখের দিকে চেয়ে বিচার করলে সুবিচার আসবে না, বললেন সাবেক বিচারপতি

রিয়াজ সবুজ : স্বাধীনতা যদি আপনার চরিত্রের মধ্যে না থাকে, তাহলে হাজার নিয়ম-নীতি থাকলেও আপনি স্বাধীন হতে পারবেন না। লোকে কি বলবে, আমার প্রাইম মিনিস্টার কি বলবে, তাদের মুখের দিকে চেয়ে যদি বিচার করি তাহলে সুবিচার হবে না। বিচারপতিকে হতে হবে মটিভলেস এবং স্পেশালিস্ট। আইনকে ব্যাখ্যা করতে হবে এমনভাবে, যাতে যাদের কাজটা নিশ্চিত হয়, আমরা যদি সজাগ থাকি এবং সৎ থাকি তাহলেই আমাদের জাজমেন্ট ভালো হবে’।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফজ্জল হোসনে মানিক মিয়া হলে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ০১ (এক) যুগ’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন ।

সাবেক এই বিচারপতি আরও বলেন, ন্যায় বিচার মানে মনিবের আনুগত্য নয় বরং আইনের আনুগত্য। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বার এবং বেঞ্চ এর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা করা প্রয়োজন। আমাদের চরিত্রে এবং অনুভূতিতে স্বাধীনতার বোধ থাকা প্রয়োজন, তাহলেই সত্যিকারের স্বাধীনতা আসবে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাসন বিভাগে সম্পৃক্ত করা উচিত না। বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির মতামত প্রাধান্য পেলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব হয়। হয়তো বিচার বিভাগ হতে আমরা যতোটা চাই ততোটা পাই নাই কিন্তু স্বাধীনতার পর হতে বিচার বিভাগের অর্জন কম না।

সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্ট, আপিল ডিভিশন হচ্ছে সর্বোচ্চ কোর্ট। তারা যে রায় দিবেন সেটাই ফাইনাল। আর সে জন্য এসব জায়গায় যাকে নিয়োগ দেয়া হবে অবশ্যই তার ব্যক্তিত্ব, সততা থাকতে হবে। বিচার বিভাগে এমনও লোক আছেন যাদেরকে যদি সিনিয়র আইনজীবী যেমন ড. কামাল, রফিকুল ইসলাম উনারা যদি কোনো রেফারেন্স দেয় তাহলে সেটা তারা বুঝবে না। এরকম লোককে যদি বিচার বিভাগের বসানো হয়।তাহলে দেশে সুষ্ঠু বিচারের আশা করব কিভাবে। উচ্চ ও নিম্ন আদালতে অবশ্যই মেধাসম্পন্ন, সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে এবং তাদেরকে সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা যাবে না। তবেই সুষ্ঠু বিচারের আশা করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ডক্টর সালেহ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি প্রধান নিবার্হী সৈয়দা।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত