প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীর আগারগাঁয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে যুদ্ধবিমান হকার হান্টার

শাহীন খন্দকার : আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর নির্মিত সুদৃশ্য মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ভবনটির উঠতেই চোখে পড়বে ছাদের সঙ্গে টাঙানো একটি যুদ্ধ বিমান। নাম ‘হকার হান্টার’। আসন একটাই, চালকের। ভেতরে প্রস্তুত থাকত কামান, মিসাইল ও বোমা। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই হকার হান্টার যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য ত্রাস হয়ে উঠেছিলো। ভারতীয় বিমানবাহিনীর এই যুদ্ধবিমান দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বেশকিছু ঘাঁটি। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। সিঁড়ি বেয়ে ওপরের তলায় উঠতেই বিশাল করিডরে দেখা মিলল শিখা চির অম্লানের। চারপাশে পানি আর মাঝখানে শহীদের স্মৃতি নিয়ে জ্বলছে শিখা।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নির্মিত হয়েছে এই শিখা চির অম্লান। গৌরবের অনন্য সব স্মৃতির সম্ভারে সেজেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক দেশের প্রথম জাদুঘর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্যোগে জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ। ৫ সেগুন বাগিচার ছোট্ট দোতলা বাড়িটিতে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঠিকানা এফ ১১/এ বি সিভিক সেক্টর, আগারগাঁও। জনসাধারণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারের দেয়া তহবিলে জাদুঘরের এই নয়তলা ভবন। ১৬ এপ্রিল ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক ভাবে এর উদ্বোধন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি আগারগাঁও পংগু হাসপাতালের উল্টো দিকে চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালের পাশে অবস্থিত। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও ইতিহাস তুলে ধরতে অনন্য পরিকল্পনায় সাজানো হয়েছে জাদুঘরের গ্যালারি গুলো। প্রতিটি গ্যালারিতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী নানান স্মারক। রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ নানা ডকুমেন্ট।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদেরকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দূলভ আলোকচিত্র, চিঠিপত্র, ভিডিও চিত্র, দলিল। এখানে প্রায় ২৫ হাজার নিদর্শন রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয় জানাতে জাদুঘরে রয়েছে ইন্টার অ্যাকটিভ স্পেস ও ওপেন এয়ার থিয়েটার। এছাড়া রয়েছে তিনটি সেমিনার হল ও ২৫০ আসনের একটি অডিটরিয়াম।

যাদুঘরটি প্রায় আড়াই বিঘা জায়গার ওপর নির্মিত এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তিনটি বেইসমেন্ট ও পাঁচটি ফ্লোর রয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার ব্রোঞ্জের ম্যুরাল।

গ্যালারিতে রয়েছে প্রাচীন বঙ্গের মানচিত্র, গ্যালারিতে ঢুকতেই চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধুর বিশাল আকৃতির আলোকচিত্র। রয়েছে ২৫ শে মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার নানা নিদর্শন। রয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণা, ৪ এপ্রিল কুষ্টিয়ায় যুদ্ধ এবং সারা দেশের গণহত্যার নিদর্শন,রয়েছে বাঙালিদের শরণার্থী হিসেবে ভারতে যাত্রা, আশ্রয়, জীবন যাপনের ঘটনাবলী। রয়েছে যুদ্ধ চলাকালীন সময়কালীন পহেলা মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকল স্মৃতি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত