প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকার যানজটে বছরে ৪২,৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি, বিশ্বব্যাংকের গবেষণা

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা শহরে যানজটের কারণে প্রতিদিন ৯ হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। আর এই যানজটে বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার; যা টাকার অঙ্কে সাড়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা বলে বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাফিক জ্যামের কারণে রাজধানীতে ঘণ্টায় গড়ে গাড়ির গতি ৬.৪ কিলোমিটার এবং হাঁটার গতি ৫ কিলোমিটার। আর বিশ্বের কাছে ঢাকা হলো রিকশার রাজধানী, যেখানে আট লাখের বেশি রিকশা আছে। নয়াদিগন্ত

এ বিষয়ে এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, শুধু যাতায়াতে নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টা বাঁচাতে পারলে ঢাকাকে আরো উন্নত করা সম্ভব। কর্তৃপক্ষেরও কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যেমন মানুষ ধারণ ক্ষমতা, গাড়ি পার্কিং, রাস্তার প্রশস্ততাসহ অন্যান্য সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই অনেক বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়া। অবশ্য এর জন্য বিভিন্ন সংস্থা ও দফতরের মধ্যে সমন্বয়হীনতাও দায়ী। ঢাকাকে উন্নত ও বাসযোগ্য করতে হলে সমন্বয় ও সুশাসন প্রয়োজন বলে বিভিন্ন সিটির মেয়ররা মনে করেন।

গতকাল স্থানীয় একটি হোটেলে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য, সমৃদ্ধ এবং ঘাতসহনশীল মেগাসিটিতে রূপান্তর করা শীর্ষক বিশ্বব্যাংক আয়োজিত সেমিনারে সংস্থার পক্ষ থেকে এসব গবেষণা তথ্য তুলে ধরা হয়। অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাকের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম ও বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভি, গাজীপুর সিটির মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, রাজউকের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, সাউথ আফ্রিকার ক্যাপ টাউনের সাবেক সিএফও ফিলিপ ভান রিনেভেলড, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মার্সি টেমবন ও বিশেষজ্ঞ জন রোমি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, যানজটের কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নও গতিশীলতা তেমন পাচ্ছে না। ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে ঢাকার সড়কে ১৬ গুণ গাড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীতে প্রতিদিন ৬ হাজার টন উৎপাদিত বর্জ্যরে মধ্যে গড়ে ৪ হাজার টন সংগ্রহ করছে করপোরেশন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে ঢাকা হলো চতুর্থ দূষিত রাজধানী।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার সাথে সাথে সারা দেশের জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়ন করা। আমরা গত ১০ বছরে মাথাপিছু আয় একটি সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে এসেছি, যা এখনো ক্রমবর্ধমান। অল্পসময়ের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো। ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্টও আমাদের এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি কারণ।

তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে এই বয়সের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। তবে এটিও সত্য যে, এই হঠাৎ উন্নয়নের জন্যই অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন ঘটেছে। যার ফলে নগর কর্তৃপক্ষ পড়েছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। তার মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন অন্যতম। এর সাথে ভবন নীতিমালা না মেনে ভবন তৈরি করা ও সরকারি জমি অপদখল, জলাধার দখল হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষেরও কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যেমন মানুষ ধারণ ক্ষমতা, গাড়ি পার্কিং, রাস্তার প্রশস্ততাসহ অন্যান্য সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই অনেক বহুতল ভবন নির্মাণ অনুমতি দেয়া। অবশ্য এর জন্য বিভিন্ন সংস্থা ও দফতরের মধ্যে সমন্বয়হীনতাও দায়ী। আমাদেরকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা হবে স্মার্ট সিটি, তবে অবশ্যই এলাকাভিত্তিক জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজনকে মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হবে, নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প ও মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রকল্পের মাঝে ঢাকাকে সচল রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই একটি ভালো স্কুলের জন্য যাতে ধানমন্ডিবাসীকে উত্তরা যেতে না হয়। আবার উত্তরাবাসীকে ধানমন্ডি আসতে না হয়। কারণ সময়ের মূল্য অপরিসীম, আমাদের সময় বাঁচাতে হবে। তিনি বলেন, ঢাকা বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির ২০ থেকে ২৫ ভাগ জোগান দেয়। তিনি বলেন, আমি মনে করি শুধু যাতায়াতে নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টা বাঁচাতে পারলে এটি আরো উন্নীত করা সম্ভব। তবে ঢাকার মতো একটি দ্রুত উন্নয়নশীল ও ব্যস্ত শহরের জন্য মানুষের মোটিভ, চাহিদা ও ব্যবস্থাপনার জন্য বছরব্যাপী গবেষণা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা জরুরি।

ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেন, আজ আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি পালন করতে যাচ্ছি। কিন্তু সিটি গভর্ন্যান্স করতে পারিনি। অথচ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটি আছে। সময় এসেছে আমাদেরকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার। তিনি বলেন, সংগঠিতভাবে না আনলে এই মেট্রো ঢাকা হবে না। এখানে ইগো সমস্যা, সমন্বয়হীনতা হলো বড় সমস্যা। ডিসি সাহেব আমাদের জলাশয় ও মাঠ দিচ্ছেন না। তিনি দিয়ে দিচ্ছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে। কোনো সংস্থাকে সিটির উন্নয়নের জন্য সাথে পাওয়া যায় না। প্রত্যেকেই কোনো না কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তারা তাদের মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ছাড়া মেয়রের কথা শুনতে চান না।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, মধ্য আয়ের দেশে পূর্ণমাত্রায় পরিণত হতে হলে আমাদেরকে ঢাকা নিয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে হবে। আমাদের প্রয়োজন হলো পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, ঢাকার পরিবেশ এখন খুব ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবর্তন ঘটাতে হলে আমাদের মানসিকতা ও আচরণের পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে সুশাসনের দরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত