প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেগম জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ, আন্দোলন ভিন্ন পথ দেখছে না বিএনপি

মাজহারুল ইসলাম : সর্বোচ্চ আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে বিএনপি সর্বস্তরের নেতাকর্মী। তারা মনে করছেন, আইনি লড়াই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ায় আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। যদিও খালেদা জিয়া গ্রেপ্তারের পর প্রায় দু'বছরেও জোরালো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটির নেতা কর্মীরা।

এ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সার্বিক আন্দোলনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বলা হয় একই সঙ্গে আইনি লড়াইও চালিয়ে যাওয়া হবে। ওই বৈঠকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আপিল বিভাগের রায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারপারসনের জামিনের আদেশ খারিজ হওয়ার পর কর্মসূচি কি হতে পারে সে ব্যাপারে নেতারা মতামত দেন। কয়েকজন রাজপথে কঠোর আন্দোলনের পক্ষে মত দেন। এ ইস্যুতে রাজপথে না নামলে নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে বলে তারা যুক্তি দেখানো হয়। তবে এই মুহূর্তে এক দফার আন্দোলনে যাওয়া ঠিক হবে কিনা, সে ব্যাপারে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে মত দেন অনেকেই। নেতাদের মতামতের পর দলের হাইকমান্ডও কঠোর আন্দোলনের পক্ষে নমনীয় মনোভাব দেখান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যে রায় হয়েছে তাতে পুরো জাতি স্তম্ভিতই নয়, ক্ষুব্ধও। সবার প্রত্যাশা ছিলো সর্বোচ্চ আদালত থেকে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের মদদেই এমন রায় হয়েছে বলে আমরা মনে করি। জনগণের সক্রিয় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নতুন নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, জামিন আবেদন আদালতে খারিজ হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের আদেশের

পরপরই বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ করেছে দলের নেতাকর্মীরা। সে সময় মিছিল থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিক ঝটিকা মিছিলে দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তেমন ছিলো না। আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও বিএনপির সিনিয়র কোনো নেতাকে এসব মিছিলে দেখা যায়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। চেয়ারপারসনের জামিন পরবর্তী পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে পূর্বপ্রস্তুতিও ছিলো না বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দল।

বিএনপি সূত্র জানায়, দলের নেতাদের অনেকেই সরকারকে চাপের মুখে রাখতে খালেদা জিয়ার জামিন না হলে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে কঠোর আন্দোলনের কথা বলে যাচ্ছিলেন। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা কৌশলী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এখনই সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের সিদ্ধান্তে যাবেন না তারা। এ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়া হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবসের পর পরই কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবেন নেতাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে আগামী রোববার দেশব্যাপী সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না থাকলেও গতকাল তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পর রাজধানীতেও মহাসমাবেশের ডাক দেবে দলটি। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

সর্বাধিক পঠিত