প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অসহায় ঋণগ্রস্ত কৃষকদের গলার কাটা ট্রাক্টর

সাইদ রিপন: উৎপাদন বাড়াতে এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ করতে চায় সরকার।কিন্তু প্রতিবছর সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিলেও এখনো শতভাগ যান্ত্রিকীকরনের আওতায় আসেনি জমি চাষ।চাষাবাদে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো ও মাটির গুনাগুন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ট্রাক্টর।তাছাড়া শ্রমিক সংকট মেটাতেও কার্যকর ভূমিকা রয়েছে যন্ত্রটি।জমি তৈরি ছাড়াও কৃষি পণ্য পরিবহন ও বহুমূখী ব্যবহারে কৃষকের আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে ট্রাক্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।কিন্তু বর্তমানে দেশের বেশ কিছু জেলায় কৃষি কাজ ছাড়া অন্য কোন পণ্য পরিবহন করতে দিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। এতে অনেক জেলায় ট্রাক্টর ব্যবহার বন্ধের আতঙ্কে রয়েছে কৃষকরা।

সম্প্রতি গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জে এক মানববন্ধনে আব্দুস সাত্তার নামে একজন কৃষক বলেন, ট্রাক্টর নাই, ভাত নাই। কৃষি কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে মালামাল টেনে কিছু আয় করি। স্থানীয় প্রশাসন পণ্য পরিবহন ছাড়া অন্য কোন মালামাল পরিবহন করতে দিচ্ছে না। আমরা বেশির ভাগ কৃষকই ঋণ নিয়ে ট্রাক্টর কিনেছি।কিন্তু কৃষি কাজ ছাড়া অন্য কিছু করতে না দেয়ায় ঋণ পরিশোধ করতে পারছি না।ভুক্তভোগীরা বলেন, বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ট্রাক্টরগুলো জমিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। বাকি সময়ে খুব বেশি ব্যবহার হয় না। তখন সেগুলো দিয়ে মালামাল টানার কাজ করা হয়। কিছু পরিবহনের কাজও করে থাকেন তার ট্রাক্টর দিয়ে। মাঝে মধ্যে তেল নিতে তাকে শহরে যেতে হয়। এসময় জেলা সদরের সড়ক পার হতে হয়। এজন্য বিভিন্ন সময়ে হয়রানির শিকার হতে হয়। এখন পরিস্থিতি এমন যে ট্রাক্টর ব্যবহার ও তা দিয়ে জমি চাষই বন্ধের উপক্রম।

এগ্রিকালচারাল ট্রাক্টর এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার ট্রাক্টর কার্যকরভাবে চালু রয়েছে। চলতি বছরে নতুন অনুষঙ্গ হিসাবে উত্তরাঞ্চলে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই চলতে দেওয়া হচ্ছে না ট্রাক্টর। ট্রাক্টর পুড়িয়ে দেবার ঘটনা, তেলের পাম্প থেকে তেল নিতে গেলে কিংবা কোনভাবে সড়কে উঠলে আটক করা হচ্ছে ট্রাক্টর। বিক্রি বন্ধ থাকলে সরকারের যান্ত্রিকীকরনে চলমান ভর্ত‚তি কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হবে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্ধগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মন বলেন, ট্রাক্টরগুলো মূলত কৃষি কাজের জন্য আমদানি করা হয়। এখন সেগুলো পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বালু উত্তোলনের কাজে বেশি ব্যবহৃত করা হয়। আমরা কৃষকদের মানবিক দিকগুলো বিবেচনা করেছি। তাদের এটাও বলা হয়েছে, বালু উত্তোলন ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করলে আইন কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো ট্রাক্টর ধ্বংস করেছি। যেহেতু কৃষকরা ট্রাক্টরগুলো ঋণ নিয়ে কিনে থাকেন সেহেতু আমরাও চাই কৃষকরা ট্রাক্টরগুলো ব্যবহার করে তাদের পরিবার চালাক আর ঋণ থেকেও মুক্ত হোক। সেই দিক বিবেচনা করেই আমরা আইন প্রয়োগ করছি।

এ বিষয়ে দি মেটাল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাদিদ জামিল বলেন, বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এ তিন মাসই ট্রাক্টর বিক্রির উপযুক্ত সময়। সারাদেশেই এখন নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। উত্তরবঙ্গে কৃষকের সঙ্গে চলমান ঘটনায় এক ধরনের ভিতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ট্রাক্টর চালানোর ক্ষেত্রে জটিলতা থাকলে তা সময় দিয়ে দ্রুত সমাধান করতে হবে।চালকদের লাইসেন্সিং করা এবং গাড়ীগুলোকে রেজিষ্ট্রেশন করার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে কৃষকের মনে আস্থাহীনতা তৈরি হবে। এতে যান্ত্রিকীকরন বাধাগ্রস্থ হতে পারে। কৃষি খাত বিপাকে পড়তে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত